বিনোদন

সরকারি নির্দেশে মাল্টিপ্লেক্স রাজি হলেও যে দাবি করলো সিঙ্গেল স্ক্রিন

জ্বালানি সাশ্রয়ে সরকারের নতুন নির্দেশনার প্রভাব পড়েছে দেশের সিনেমা হলগুলোতেও। রোববার (৫ এপ্রিল) থেকে সন্ধ্যা ৬টার পর দোকান, মার্কেট ও শপিং মল বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত কার্যকর হওয়ায় দেশের মাল্টিপ্লেক্সগুলো সন্ধ্যার পর সব সিনেমার শো বন্ধ রাখার ঘোষণা দিয়েছে। তবে সিঙ্গেল স্ক্রিন হলগুলো রাত ৯টা পর্যন্ত চালু রাখার দাবি জানিয়েছে।

দেশের অন্যতম মাল্টিপ্লেক্স ব্লকবাস্টার সিনেমাস এক বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, ৫ এপ্রিল থেকে পরবর্তী নির্দেশনা না আসা পর্যন্ত প্রতিদিন সন্ধ্যার পর তাদের সব শো স্থগিত থাকবে। যারা আগাম টিকিট কেটেছেন, তাদের নির্ধারিত প্রক্রিয়ায় টাকা ফেরত দেওয়া হবে বলেও জানানো হয়েছে।

একই সিদ্ধান্ত নিয়েছে দেশের বৃহত্তম মাল্টিপ্লেক্স স্টার সিনেপ্লেক্স। প্রতিষ্ঠানটির জ্যেষ্ঠ ব্যবস্থাপক মেসবাহ উদ্দিন আহমেদ জানান, সন্ধ্যার পর মার্কেট বন্ধ থাকায় সিনেমা হলও আপাতত বন্ধ রাখা হচ্ছে। নতুন শিডিউলে সন্ধ্যার পর কোনো শো রাখা হয়নি।

তিনি বলেন, ঈদের সিনেমাকে ঘিরে সন্ধ্যার শোগুলোতে দর্শকের চাপ বেশি ছিল। ফলে এ সিদ্ধান্তে আর্থিক ক্ষতি হলেও বৃহত্তর স্বার্থে সরকারি নির্দেশনা মেনে চলা হচ্ছে।

অন্যদিকে ঢাকার অদূরে কেরানিগঞ্জের লায়ন সিনেমাস কর্তৃপক্ষও জানিয়েছে, তারা নির্দেশনা মেনে সন্ধ্যার শো বন্ধ রেখেছে। হলটির কর্ণধার মির্জা আব্দুল খালেক বলেন, দিনের বেলা দর্শক কম থাকলেও সন্ধ্যা ও রাতের শোতেই বেশি দর্শক আসে, তাই ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে।

এদিকে সিঙ্গেল স্ক্রিন হলগুলোর পক্ষ থেকে ভিন্ন দাবি জানানো হয়েছে। বাংলাদেশ চলচ্চিত্র প্রদর্শক সমিতির সভাপতি আওলাদ হোসেন উজ্জ্বল বলেন, মাল্টিপ্লেক্সগুলো মার্কেটের ভেতরে হওয়ায় সেগুলো বন্ধ রাখা যুক্তিযুক্ত হলেও অধিকাংশ সিঙ্গেল স্ক্রিন আলাদা স্থানে অবস্থিত। তাই সেগুলো রাত ৯টা পর্যন্ত চালু রাখার অনুমতি দিলে ক্ষতি কিছুটা পুষিয়ে নেওয়া সম্ভব হবে।

তিনি আরও বলেন, কয়েকদিন পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করলে প্রকৃত ক্ষতির চিত্র স্পষ্ট হবে এবং সে অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নেওয়া যেতে পারে।

সরকারি নির্দেশনার কারণে ঈদের জমজমাট সিনেমা মৌসুমে হল ব্যবসায় নতুন করে চাপ তৈরি হয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

 

এলআইএ