ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবায় ছাত্রদলের কমিটিতে একজন ট্রান্সজেন্ডারকে পদ দেওয়ার অভিযোগ তুলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তুুমুল সমালোচনা চলছে। সমালোচনার মুখে সৈয়দাবাদ আদর্শ মহাবিদ্যালয়ের ছাত্রদলের সাংস্কৃতিক বিষয়ক সম্পাদক থেকে রোববার (৫ এপ্রিল) অভিযুক্ত রেদোয়ান ইসলামকে বহিষ্কারও করা হয়। তারপরও থেমে নেই আলোচনা।
এসব ঘটনায় মানসিক ও সামাজিকভাবে চাপে পড়েছেন রেদোয়ান ইসলাম। তিনি নিজেকে ‘পুরুষ’ হিসেবে দাবি করছেন।
সোমবার (৬ এপ্রিল) সন্ধ্যায় সাংবাদিকদের কাছে পাঠানো এক ভিডিও বার্তায় রেদোয়ান ইসলাম বলেন, “আমি আমার জেন্ডার আইডি প্রকাশ করতে চাই। আমি ‘ট্রান্সজেন্ডার’ বলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা এবং সমালোচনার শিকার হচ্ছি। আমি ছেলে রেদোয়ান ইসলাম। আমি ‘ট্রান্সজেন্ডার’ বলে আমাকে নিয়ে যারা মিথ্যা অপবাদ দিয়েছে, এতে করে আমি এবং আমার পরিবারের সম্মানহানি হয়েছে। আমি এর নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই। আপনাদের কাছে আমার সর্বশেষ অনুরোধ থাকবে, আমাকে নিয়ে আর কোনো মিথ্যা গুজব ছড়াবেন না। আমাকে নিয়ে লেখালেখি বন্ধ করুন। আর কোনো বিবাদ আমি চাই না। আমাকে আমার মতো বাঁচতে দিন, কাজ করতে দিন।”
ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা ছাত্রদলের সদস্য সচিব সমীর চক্রবর্তী ছাত্রদল থেকে রেদোয়ান ইসলামকে বহিষ্কারের বিষয়ে জাগো নিউজকে নিশ্চিত করেন।
আরও পড়ুন: ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ছাত্রদলের কমিটিতে ট্রান্সজেন্ডার, পরে বহিষ্কার
তিনি জানান, কসবা উপজেলায় সৈয়দাবাদ আদর্শ মহাবিদ্যালয়ে পাঁচ সদস্যবিশিষ্ট কমিটি ছিল। সম্প্রতি ৫১ সদস্যের পূর্ণাঙ্গ সেই কমিটি ঘোষণা করা হয়। কমিটি দেওয়ার আগে বায়োডাটায় সাংস্কৃতিক বিষয়ক সম্পাদক রেজোয়ান ইসলাম নিজের জেন্ডারের তথ্য গোপন করেন। এতে তিনি উল্লেখ করেছিলেন পুরুষ হিসেবে। কিন্তু কমিটি ঘোষণার পর জানা যায়, তিনি অপারেশন করে পুরুষ থেকে নারী হয়েছেন। তথ্য গোপন করার অভিযোগে রেদোয়ান ইসলামকে বহিষ্কার করা হয়েছে।
কমিটিতে পদ পাওয়ার পর রেদোয়ান ইসলাম বলেছিলেন, ‘অনেকে বুঝে না বুঝে নানা ধরনের মন্তব্য করছেন। (সংগঠন) আমাকে বিবেক বিবেচনা করে যুক্ত করেছে। উনারা চাচ্ছিলেন সাংস্কৃতিক অঙ্গনে কাজ করে এমন মানুষকে যুক্ত করতে। সৈয়দাবাদ কলেজ থেকে নৃত্য পরিবেশন করে আমি জেলা, উপজেলা বিভাগসহ বিভিন্ন পর্যায়ে গিয়েছি। সে হিসেবেই উনারা আমাকে এই পদে যুক্ত করেছেন। এতে করে কিছু মানুষের ঘুম হারাম হয়ে যাবে আমার জানা ছিল না। আমাকে নিয়ে এমনভাবে বিবাদ করছে যেন আমাকে কোনো সংসদ আসন দেওয়া হয়েছে। আমি মনে করি যার যে যোগ্যতা আছে, সেভাবে কাজ করতে পারবে। সে ছেলে নাকি মেয়ে তা বিষয় না।’
আবুল হাসনাত মো. রাফি/এসআর/এমএস