২০১১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে প্রথমবারের মতো অভিনেতা, সংগীতশিল্পী ও ক্রীড়াবিদসহ একাধিক তারকাকে প্রার্থী করে চমক দিয়েছিল তৃণমূল কংগ্রেস। ভোটের লড়াইয়ে অভিজ্ঞ রাজনীতিবিদদের পাশাপাশি এই নতুন মুখও সাফল্য পান। ফলে বিপুল ব্যবধানে জয় পায় দলটি। ৩৪ বছরের বাম শাসনের অবসান ঘটিয়ে রাজ্যে ক্ষমতায় আসে তৃণমূল কংগ্রেস।
এরপর ধীরে ধীরে মমতা ব্যানার্জীর দেখানো পথ অনুসরণ করে অন্য রাজনৈতিক দলগুলোও তারকা প্রার্থীদের রাজনীতিতে আনা শুরু করে। বিধানসভা ও লোকসভা—উভয় নির্বাচনেই তারকা প্রার্থীর সংখ্যা বাড়তে থাকে। বিশেষ করে বিনোদন জগতের ব্যক্তিরা সবচেয়ে বেশি নজর কাড়েন।
দীপক অধিকারী (দেব), তাপস পাল, শতাব্দী রায়, মুনমুন সেন, শত্রুঘ্ন সিনহা, সন্ধ্যা মুখোপাধ্যায়, হিরণ চট্টোপাধ্যায়, জুন মালিয়া, সায়নী ঘোষ—একাধিক তারকা এরই মধ্যে জনপ্রতিনিধি হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন।
সেই ধারা এখনো অব্যাহত রয়েছে। আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনেও তৃণমূল কংগ্রেস ও ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) একাধিক তারকাকে প্রার্থী করেছে। তবে বামদলগুলোতে তারকা প্রার্থীদের উপস্থিতি তুলনামূলকভাবে কম।
তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থী তালিকায় রয়েছেন—সোনারপুর কেন্দ্রে অভিনেত্রী লাভলী মৈত্র, চৌরঙ্গী কেন্দ্রে অভিনেত্রী নয়না ব্যানার্জী, বরানগর কেন্দ্রে অভিনেত্রী সায়ন্তিকা ব্যানার্জী, মানিকতলা কেন্দ্রে অভিনেত্রী শ্রেয়া পান্ডে, করিমপুর কেন্দ্রে অভিনেতা সোহম চক্রবর্তী এবং ব্যারাকপুর কেন্দ্রে পরিচালক রাজ চক্রবর্তী।
এছাড়া রয়েছেন রাজারহাট গোপালপুর কেন্দ্রে সংগীতশিল্পী অদিতি মুন্সী, চন্দননগর কেন্দ্রে সংগীতশিল্পী ইন্দ্রনীল সেন, তুফানগঞ্জ কেন্দ্রে সাবেক ক্রিকেটার শিবশংকর পাল এবং সপ্তগ্রাম কেন্দ্রে সাবেক ফুটবলার বিদেশ বসু।
বিজেপির তারকা প্রার্থীদের মধ্যে রয়েছেন শিবপুর কেন্দ্রে রুদ্রনীল ঘোষ, শ্যামপুর কেন্দ্রে হিরণ চট্টোপাধ্যায়, যাদবপুর কেন্দ্রে অভিনেত্রী শর্বরী মুখার্জী, টালিগঞ্জ কেন্দ্রে অভিনেত্রী পাপিয়া দে অধিকারী এবং সোনারপুর দক্ষিণ কেন্দ্রে অভিনেত্রী রূপা গাঙ্গুলী। অন্যদিকে সংগীতশিল্পী অসীম সরকার হরিণঘাটা কেন্দ্রে এবং সাবেক ক্রিকেটার অশোক দিন্দা ময়না কেন্দ্র থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
রাজনৈতিক মহলে এ নিয়ে ভিন্নমত রয়েছে। ব্যারাকপুরের তৃণমূল প্রার্থী রাজ চক্রবর্তী বলেন, ‘মানুষ কাজের ভিত্তিতেই ভোট দেয়। প্রার্থীর পেশা নয়, কাজই মুখ্য। বাংলার মানুষ তৃণমূলকেই বেছে নেবে এবং চতুর্থবারের জন্য মমতা ব্যানার্জীকে মুখ্যমন্ত্রী করবেন।’
অন্যদিকে বহরমপুরের কংগ্রেস প্রার্থী ও সাবেক কেন্দ্রীয় রেলমন্ত্রী অধীর রঞ্জন চৌধুরী বলেন, ‘অনেক তারকা বিকল্প পেশা হিসেবে রাজনীতিতে আসছেন। রাজনীতিও একটি প্রতিযোগিতার ময়দান, যেখানে বিভিন্ন ক্ষেত্রের মানুষ এলে প্রতিযোগিতা আরও জমে ওঠে।’
পানিহাটি কেন্দ্রের সিপিআইএম প্রার্থী কলতান দাশগুপ্ত বলেন, ‘তারকা প্রার্থী হলেও তারা সাধারণ মানুষের জন্য কতটা কাজ করেছেন, সেটাই আসল বিষয়।’ তার মতে, টেলিভিশন বা পরিচিতির মাধ্যমে ভোট আদায়ের চেষ্টা হলেও, কাজ না করলে মানুষ ভবিষ্যতে প্রতিক্রিয়া জানাবেন।
বর্তমানে নির্বাচনী প্রচারে ব্যস্ত সময় পার করছেন এই তারকা প্রার্থীরা। বছরের অন্য সময় জনসমক্ষে কম দেখা গেলেও নির্বাচনের সময় তারা সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছানোর চেষ্টা করেন। দরজায় দরজায় গিয়ে ভোট প্রার্থনা, প্রতিশ্রুতি দেওয়া এবং ভোটারদের মন জয় করার প্রাণান্ত প্রচেষ্টা চালান তারা।
আর প্রিয় তারকাকে কাছে পেয়ে অভিযোগ ভুলে উচ্ছ্বাসে মেতে ওঠেন ভোটাররাও। তারকা প্রার্থীদের সান্নিধ্যে আসা, হাত মেলানো, ছবি তোলা- কোন কিছুই অপূর্ণ থাকে না। আর সেখানেই হয়তো প্রাথমিক জয়টা পেয়ে যান তারকা প্রার্থীরা। সেদিকে লক্ষ্য রেখেই বিভিন্ন পেশার তারকাদের প্রার্থী করে চলেছে রাজনৈতিক দলগুলো।
ডিডি/কেএএ/