একসময় ঘড়ি মানেই ছিল শুধু সময় দেখার একটি সাধারণ যন্ত্র। পরে প্রযুক্তির অগ্রগতির সঙ্গে সঙ্গে হাতঘড়ির ধরনেও আসে বড় পরিবর্তন। এখনকার স্মার্টওয়াচ আর শুধু সময় দেখার মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। এগুলো ধীরে ধীরে ব্যক্তিগত স্বাস্থ্য পর্যবেক্ষণ, দৈনন্দিন কাজের ব্যবস্থাপনা এবং জীবনযাত্রাকে আরও স্মার্ট করে তোলার একটি শক্তিশালী প্রযুক্তি সরঞ্জামে পরিণত হয়েছে। ফলে আধুনিক জীবনে স্মার্টওয়াচ এখন অনেকের জন্য গুরুত্বপূর্ণ একটি গ্যাজেটে পরিণত হয়েছে।
স্মার্টওয়াচের সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য হলো এটি ব্যবহারকারীর স্বাস্থ্যের বিভিন্ন তথ্য নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করতে পারে। বেশিরভাগ আধুনিক স্মার্টওয়াচে এখন হার্ট রেট সেন্সর থাকে, যা সারাদিন ব্যবহারকারীর হৃদস্পন্দন পর্যবেক্ষণ করতে পারে।
হঠাৎ হৃদস্পন্দনের অস্বাভাবিক পরিবর্তন হলে অনেক স্মার্টওয়াচ সতর্কবার্তাও দেয়। এর পাশাপাশি কিছু উন্নত মডেলে রক্তে অক্সিজেনের মাত্রা (SpO₂), ঘুমের মান, এমনকি স্ট্রেস লেভেল পর্যন্ত বিশ্লেষণ করার সুবিধা রয়েছে। ফলে ব্যবহারকারীরা নিজের স্বাস্থ্য সম্পর্কে আগেভাগেই সচেতন হতে পারেন। নারীদের মাসিকচক্রের নোটিফিকেশনও দেয় স্মার্টওয়াচ।
শুধু স্বাস্থ্য পর্যবেক্ষণই নয়, শরীরচর্চার ক্ষেত্রেও স্মার্টওয়াচ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। হাঁটা, দৌড়ানো, সাইক্লিং, সাঁতারসহ বিভিন্ন ধরনের ব্যায়ামের তথ্য এটি রেকর্ড করতে পারে। অনেক স্মার্টওয়াচে বিল্ট-ইন জিপিএস থাকে, যা ব্যবহারকারীর চলার দূরত্ব ও গতি নির্ভুলভাবে মাপতে সাহায্য করে। ফলে যারা নিয়মিত ফিটনেস চর্চা করেন, তাদের জন্য স্মার্টওয়াচ একটি ব্যক্তিগত ট্রেনারের মতো কাজ করতে পারে।
স্মার্টওয়াচ এখন ব্যক্তিগত প্রোডাক্টিভিটি বাড়াতেও বড় ভূমিকা রাখছে। স্মার্টফোনের সঙ্গে সংযুক্ত থাকার কারণে কল, মেসেজ বা বিভিন্ন অ্যাপের নোটিফিকেশন সরাসরি ঘড়িতেই দেখা যায়। এতে বারবার ফোন বের করার প্রয়োজন হয় না। মিটিং রিমাইন্ডার, টু-ডু লিস্ট, ক্যালেন্ডার অ্যালার্ট এসব সুবিধা দৈনন্দিন কাজকে আরও সংগঠিত করে।
এছাড়া অনেক স্মার্টওয়াচে ভয়েস অ্যাসিস্ট্যান্ট ব্যবহারের সুবিধা থাকে। এর মাধ্যমে ব্যবহারকারীরা কেবল কণ্ঠস্বর ব্যবহার করেই বিভিন্ন নির্দেশ দিতে পারেন। যেমন অ্যালার্ম সেট করা, আবহাওয়ার তথ্য জানা বা দ্রুত কোনো মেসেজ পাঠানো। এতে সময় বাঁচে এবং কাজের গতি বাড়ে।
নিরাপত্তার দিক থেকেও স্মার্টওয়াচ এখন বেশ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। কিছু উন্নত মডেলে ফল ডিটেকশন বা দুর্ঘটনা শনাক্ত করার প্রযুক্তি রয়েছে। ব্যবহারকারী হঠাৎ পড়ে গেলে বা কোনো দুর্ঘটনার মতো পরিস্থিতি ঘটলে ঘড়িটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে নির্দিষ্ট জরুরি নম্বরে সতর্কবার্তা পাঠাতে পারে। এতে জরুরি অবস্থায় দ্রুত সহায়তা পাওয়া সম্ভব হয়।
বর্তমানে স্মার্টওয়াচের ব্যবহার শুধু স্বাস্থ্য বা কাজের ব্যবস্থাপনায় সীমাবদ্ধ নেই। অনেক ঘড়িতে মোবাইল পেমেন্ট, মিউজিক কন্ট্রোল, এমনকি স্মার্ট হোম ডিভাইস নিয়ন্ত্রণের সুবিধাও যুক্ত হয়েছে। ফলে এটি ধীরে ধীরে স্মার্টফোনের একটি গুরুত্বপূর্ণ সহায়ক ডিভাইসে পরিণত হচ্ছে।
প্রযুক্তি বিশ্লেষকদের মতে, ভবিষ্যতে স্মার্টওয়াচ আরও উন্নত স্বাস্থ্য পর্যবেক্ষণ সুবিধা নিয়ে আসবে। যেমন রক্তচাপ পরিমাপ, রক্তে শর্করার মাত্রা নির্ণয় বা বিভিন্ন রোগের প্রাথমিক লক্ষণ শনাক্ত করার মতো প্রযুক্তি যুক্ত হওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে। এতে ব্যক্তিগত স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনায় স্মার্টওয়াচের গুরুত্ব আরও বাড়বে।
আরও পড়ুনস্মার্টওয়াচে কেন নিজের ছবি বসাচ্ছেন ব্যবহারকারীরা?একবার চার্জে ৩৩ দিন চলবে এই স্মার্টওয়াচ
সূত্র: গ্যাজেট ৩৬০
কেএসকে