একদিকে জ্বালানি তেলের সংকট, দাম বৃদ্ধি অন্যদিকে নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিসের দামের ঊর্ধ্বগতি। সব মিলিয়ে খরচ বেড়ে যাচ্ছে, এ সময় নজর দেওয়া জরুরি বিদ্যুৎ খরচের দিকে। ঘরে আপনি কেমন বাল্ব ব্যবহার করছেন তার উপর নির্ভর করে বিদ্যুৎ খরচ।
ঘরের ফ্যান, ফ্রিজ বা এসির মতো বড় যন্ত্রের পাশাপাশি আলো জ্বালানোর জন্য ব্যবহৃত বাল্বও বিদ্যুৎ খরচের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। অনেক সময় শুধু সঠিক ধরনের বাল্ব ব্যবহার করেই মাসিক বিদ্যুৎ বিল কিছুটা কমানো সম্ভব। তাই ঘরে কোন ধরনের বাল্ব ব্যবহার করলে কতটা বিদ্যুৎ খরচ হয় এ বিষয়টি জানা জরুরি।
ইনক্যান্ডেসেন্ট বা পুরোনো ফিলামেন্ট বাল্বএকসময় ঘরে সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত হতো ইনক্যান্ডেসেন্ট বা ফিলামেন্ট বাল্ব। সাধারণত ৬০ ওয়াট বা ১০০ ওয়াটের এই বাল্বগুলো বিদ্যুৎ অনেক বেশি খরচ করে। কারণ এ ধরনের বাল্বে বিদ্যুতের বেশিরভাগ অংশ তাপে পরিণত হয়, আর আলো তৈরি হয় তুলনামূলক কম।
ধরা যাক, একটি ১০০ ওয়াট বাল্ব প্রতিদিন ৫ ঘণ্টা জ্বালানো হলো। তাহলে দিনে প্রায় ০.৫ ইউনিট বিদ্যুৎ খরচ হবে। মাসে প্রায় ১৫ ইউনিট বিদ্যুৎ লাগতে পারে। বাংলাদেশে ইউনিটপ্রতি গড় দাম ৮-১০ টাকা ধরলে শুধু একটি বাল্বের জন্যই মাসে প্রায় ১২০ থেকে ১৫০ টাকা পর্যন্ত বিল আসতে পারে। তাই এখন অনেক দেশেই এই ধরনের বাল্ব প্রায় ব্যবহার হয় না।
ফিলামেন্ট বাল্বের বিকল্প হিসেবে বাজারে আসে সিএফএল বা কমপ্যাক্ট ফ্লুরোসেন্ট ল্যাম্প। একই আলো পেতে যেখানে ফিলামেন্ট বাল্বে ৬০ ওয়াট প্রয়োজন হয়, সেখানে সিএফএল বাল্বে প্রায় ১৫ ওয়াটেই কাজ চলে যায়। একটি ১৫ ওয়াট সিএফএল বাল্ব যদি প্রতিদিন ৫ ঘণ্টা জ্বলে, তাহলে দিনে প্রায় ০.০৭৫ ইউনিট বিদ্যুৎ ব্যবহার হবে। মাসে তা দাঁড়াতে পারে প্রায় ২ থেকে ২.৫ ইউনিট। ফলে মাসিক খরচ অনেকটাই কমে যায়।
এলইডি বাল্ববর্তমানে সবচেয়ে জনপ্রিয় ও বিদ্যুৎ সাশ্রয়ী আলো হলো এলইডি বাল্ব। একই উজ্জ্বলতা পেতে যেখানে ফিলামেন্ট বাল্বে ৬০ ওয়াট লাগে, সেখানে এলইডি বাল্বে মাত্র ৯ বা ১০ ওয়াটই যথেষ্ট। যদি একটি ১০ ওয়াট এলইডি বাল্ব প্রতিদিন ৫ ঘণ্টা জ্বালানো হয়, তাহলে দিনে প্রায় ০.০৫ ইউনিট বিদ্যুৎ খরচ হবে। মাসে প্রায় ১.৫ ইউনিটের মতো বিদ্যুৎ লাগতে পারে। অর্থাৎ ফিলামেন্ট বাল্বের তুলনায় প্রায় ৮০-৯০ শতাংশ পর্যন্ত বিদ্যুৎ সাশ্রয় করা সম্ভব।
এলইডি টিউব লাইটঅনেক বাসায় এখনো টিউব লাইট ব্যবহার করা হয়। পুরোনো টিউব লাইট সাধারণত ৪০ ওয়াট বিদ্যুৎ খরচ করে। কিন্তু নতুন এলইডি টিউব লাইটে প্রায় ১৮ থেকে ২০ ওয়াটেই সমান আলো পাওয়া যায়। ফলে অফিস, দোকান বা বাসার বড় কক্ষেও এলইডি টিউব লাইট ব্যবহার করলে বিদ্যুৎ খরচ কমানো যায়।
বাংলাদেশের ঘরোয়া হিসাবধরা যাক একটি বাসায় ৮টি বাল্ব আছে এবং প্রতিটি প্রতিদিন গড়ে ৫ ঘণ্টা জ্বলে। যদি ফিলামেন্ট বাল্ব ব্যবহার করা হয়, তাহলে মাসে প্রায় ১২০ ইউনিটের কাছাকাছি বিদ্যুৎ খরচ হতে পারে। সিএফএল ব্যবহার করলে তা প্রায় ২০-২৫ ইউনিটে নেমে আসতে পারে। আর এলইডি বাল্ব ব্যবহার করলে খরচ কমে প্রায় ১২-১৫ ইউনিটের মধ্যে থাকতে পারে। অর্থাৎ শুধু বাল্ব পরিবর্তন করেই মাসে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ বিদ্যুৎ সাশ্রয় সম্ভব।
ঘরের আলো ব্যবহারে কিছু সহজ অভ্যাসও বিদ্যুৎ সাশ্রয়ে সাহায্য করতে পারে। যেমন-অপ্রয়োজনে আলো জ্বালিয়ে না রাখা, দিনের বেলা প্রাকৃতিক আলো ব্যবহার করা, কম ওয়াটের এলইডি বাল্ব ব্যবহার করা এবং প্রয়োজন অনুযায়ী আলো নির্বাচন করা।
আরও পড়ুনদিনে ৪ ঘণ্টা ইন্ডাকশন চুলায় রান্না করলে মাসে বিদ্যুৎ খরচ কত?ফ্রিজ ব্যবহারের যেসব ভুলে বাড়বে বিদ্যুৎ বিলকেএসকে