দেশে হামজনিত জটিলতায় আক্রান্ত শিশুদের চিকিৎসায় স্বল্প খরচের ‘বাবল কন্টিনিউয়াস পজিটিভ এয়ারওয়ে প্রেসার’ (বাবল সিপ্যাপ বা bCPAP) ব্যবহারের পরিধি দ্রুত বাড়ছে। এরই মধ্যে দেশের ৬টি হাসপাতালে এই পদ্ধতিতে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে এবং ৭ এপ্রিল পর্যন্ত ২৯ জন শিশু এ সেবা পেয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দ্রুত এই সেবা চালু করায় গুরুতর শ্বাসকষ্টে আক্রান্ত শিশুদের স্থিতিশীল রাখা সম্ভব হচ্ছে, যা না হলে জটিল ও ব্যয়বহুল চিকিৎসার প্রয়োজন হতো।
আইসিডিডিআর,বি এর জ্যেষ্ঠ বিজ্ঞানী ডা. মোহাম্মদ জোবায়ের চিশতি ও তার সহকর্মীদের উদ্ভাবিত এই প্রযুক্তি শিশুদের ফুসফুস খোলা রাখতে সহায়তা করে এবং অক্সিজেন সরবরাহ উন্নত করে। বিশেষ করে নিউমোনিয়া ও রক্তে অক্সিজেনের ঘাটতি (হাইপোক্সেমিয়া) থাকা শিশুদের জন্য এটি কার্যকর। স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের নেতৃত্বে এবং স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সহযোগিতায় এই কার্যক্রম বাস্তবায়ন হচ্ছে, যেখানে আইসিডিডিআর,বি প্রযুক্তিগত সহায়তা দিচ্ছে।
দ্রুত সম্প্রসারণের লক্ষ্যে আইসিডিডিআর,বি ধারাবাহিক হাতে-কলমে প্রশিক্ষণের আয়োজন করছে। ঢাকায় অনুষ্ঠিত সর্বশেষ প্রশিক্ষণে ৩০ জন স্বাস্থ্যকর্মী অংশ নেন। এতে ডিএনসিসি ডেডিকেটেড কোভিড-১৯ হাসপাতাল, সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, উত্তরা আধুনিক মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, জহুরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, কুমিল্লা, কুষ্টিয়া ও মাগুরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালসহ ব্রাহ্মণবাড়িয়া, নেত্রকোনা, চাঁদপুর, মাদারীপুর, মুন্সিগঞ্জ ও শরীয়তপুর জেলা সদর হাসপাতালের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।
এ পর্যন্ত দেশের ৩০টির বেশি হাসপাতালে ৭৫ জনেরও বেশি চিকিৎসক ও নার্সকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। ফলে প্রশিক্ষণ শেষে সংশ্লিষ্ট হাসপাতালগুলোতে দ্রুত এই সেবা চালু করা সম্ভব হচ্ছে।
আইসিডিডিআর,বি’র ভারপ্রাপ্ত নির্বাহী পরিচালক ডা. থাডিয়াস ডেভিড মে প্রশিক্ষণের উদ্বোধনী বক্তব্যে বলেন, বাংলাদেশে উদ্ভাবিত এই প্রযুক্তি এখন শুধু ঢাকায় নয়, আফ্রিকার বিভিন্ন দেশেও জীবন বাঁচাতে ব্যবহৃত হচ্ছে।
স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের যুগ্মসচিব ডা. মুহাম্মদ মোস্তাফিজুর রহমান প্রধান অতিথির বক্তব্যে বলেন, সময়মতো বাবল সিপ্যাপ ব্যবহার হামজনিত নিউমোনিয়া ও শ্বাসকষ্টে মৃত্যুহার ও জটিলতা কমাতে এরই মধ্যে কার্যকর ভূমিকা রাখছে। এর ব্যবহার আরও বিস্তারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিশিষ্ট শিশুরোগ বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. চৌধুরী আলী কাউসার। তিনি ও ডা. জোবায়ের চিশতি বাবল সিপ্যাপ ব্যবহারের মানসম্মত নির্দেশনা তুলে ধরেন। তারা জানান, শ্বাসকষ্ট ও হাইপোক্সেমিয়ায় আক্রান্ত শিশুদের ক্ষেত্রে দ্রুত চিকিৎসা শুরু, সঠিক রোগী নির্বাচন, অক্সিজেনের মাত্রা ও শ্বাসপ্রশ্বাস নিয়মিত পর্যবেক্ষণ এবং প্রয়োজন হলে দ্রুত রেফার করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে এই প্রযুক্তি ব্যবহারে উৎসাহ দেওয়া হচ্ছে। আইসিডিডিআর,বি বিনামূল্যে বাবল সিপ্যাপ যন্ত্র, প্রশিক্ষণ এবং সার্বক্ষণিক ক্লিনিক্যাল সহায়তা হটলাইন প্রদান করছে।
আগামী দিনে রাজশাহী, বরগুনা, ময়মনসিংহ, সিলেট, চট্টগ্রাম ও নাটোরসহ বিভিন্ন জেলায় সরাসরি প্রশিক্ষণ, তদারকি ও পরামর্শ কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে।
হাম প্রাদুর্ভাবের মধ্যে প্রতিরোধযোগ্য শিশুমৃত্যু কমাতে এবং নিউমোনিয়ার নিয়মিত চিকিৎসা জোরদারে সরকারের পাশে থাকার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছে আইসিডিডিআর,বি।
এসইউজে/এমএমকে