এএফসি এশিয়ান কাপ থেকে বাংলাদেশ নারী ফুটবল দলের শূন্যহাতে ফেরার একমাস পর অনূর্ধ্ব-২০ দলের মেয়েরাও ফিরলেন একই ফল নিয়ে। বুধবার থাইল্যান্ড থেকে ঢাকায় ফিরেছে বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-২০ নারী ফুটবল দল। থাইল্যান্ডে চলছে অনূর্ধ্ব-২০ এশিয়ান কাপ। বাংলাদেশ গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায় নিয়ে এখন এ টুর্নামেন্টে দর্শক।
জাতীয় ও অনূর্ধ্ব-২০ দল মিলিয়ে এশিয়ান পর্যায়ে বাংলাদেশের মেয়েরা হেরেছে টানা ৬ ম্যাচ। দুই দলেরই কোচ ছিলেন পিটার বাটলার। গ্রুপ পর্ব থেকে বিদায়ের পর তিনি বলেছেন, ‘এটা আমাদের জন্য বড় একটা অভিজ্ঞতা হলো। এশিয়ান পর্যায়ে আমাদের মেয়েরা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে শিখছে।’
শেখার কোনো শেষ নেই। সে হিসেবে বাংলাদেশের মেয়েরা আরেকটা শিক্ষা সফর শেষ করেই ফিরলো।
দুটি টুর্নামেন্টেই বাংলাদেশ ছিল আন্ডারডগ। হারানোর কিছু ছিল না। তবে পাওয়ার ছিল অনেক। যেমন সিনিয়র এশিয়ান কাপ থেকে বিশ্বকাপের চূড়ান্ত পর্ব ও অলিম্পিক বাছাইয়ে খেলার সুযোগ ছিল। অনূর্ধ্ব-২০ এশিয়ান কাপ থেকে ছিল বিশ্বকাপে খেলার সুযোগ।
এমন একটি সুযোগ নিতে পারলে বিশাল অর্জন হতো বাংলাদেশের মেয়েদের। সেটা হয়নি। দক্ষিণ এশিয়ার বাইরের প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে বাংলাদেশের মেয়েদের যে শিক্ষা হয়েছে সেটাই কাজে লাগাতে হবে বাফুফেকে।
থাইল্যান্ডে অনূর্ধ্ব-২০ নারী এশিয়ান কাপে বাংলাদেশের গ্রুপে ছিল থাইল্যান্ড, চীন ও ভিয়েতনাম। তিন ম্যাচেই বাংলাদেশ হেরেছে। গোল করেছে ২টি, খেয়েছে ৬টি। প্রথম ম্যাচে থাইল্যান্ডের বিপক্ষে ২ গোলে লিড নিয়েও ৩-২ ব্যবধানে হেরেছে বাংলাদেশের মেয়েরা। ওই ম্যাচে জোড়া গোল করেছিলেন মোসাম্মৎ সাগরিকা।
৩৬ এবং ৫০ মিনিটে দুটি গোল করে দলকে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে নিয়ে যে আশার আলো দেখিয়েছিলেন সাগরিকা, তা ধরে রাখতে পারেননি রক্ষণভাগের খেলোয়াড়রা। দ্বিতীয়ার্ধের শেষ ১০ মিনিটে থাইল্যান্ড তিন গোল করে ম্যাচ ঘুরিয়ে নেয়। বাংলাদেশের লড়াই প্রশংসিত হলেও জয় হাতছাড়া হয়।
দ্বিতীয় ম্যাচে চীনের বিপক্ষে বাংলাদেশ ভালো প্রতিরোধ গড়ে তোলে। প্রথমার্ধে গোলশূন্য থাকলেও দ্বিতীয়ার্ধে দুটি গোল করে চীন জয় তুলে নেয়। গোলরক্ষক মিলি আক্তারসহ মেয়েরা বীরত্বপূর্ণ লড়াই করেন।
বাংলাদেশের জন্য সবচয়ে বেশি হতাশার ছিল উজবেকিস্তানের বিপক্ষে শেষ ম্যাচ। ওই ম্যাচ জিতলে বা ড্র করলে পরের রাউন্ডে ওঠার সম্ভাবনা টিকে থাকতো। তবে অপেক্ষাকৃত শক্তিশালী দলের বিপক্ষে বাংলাদেশ হেরে যায় ১-০ গোলে।
আরআই/আইএইচএস