শিক্ষা

অনলাইন ক্লাসের পক্ষে নন শিক্ষক-শিক্ষার্থী-অভিভাবকরা

জ্বালানি সংকটের কারণে অনলাইন ও অফলাইনে সমন্বয় করে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ক্লাস চালুর পরিকল্পনা করছে সরকার। এ নিয়ে শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের সঙ্গে মতবিনিময় করেছেন শিক্ষামন্ত্রীসহ শিক্ষা প্রশাসনের কর্মকর্তারা। বুধবার (৮ এপ্রিল) দুপুরে রাজধানীর আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটে এ সভার আয়োজন করা হয়।

সভায় শিক্ষার্থীদের মধ্য থেকে তিনজন মতামত দেন। কয়েকজন অভিভাবক ও শিক্ষক এবং শিক্ষাবিদও এ বিষয়ে তাদের মতামত তুলে ধরেন। শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা তাদের মতামতে স্পষ্টভাবে অনলাইন ক্লাস চালু না করার পক্ষে মত দেন। শিক্ষকরাও অনলাইন ক্লাসের নানান সীমাবদ্ধতার কথা তুলে ধরেন।

নয়াটোলা আনওয়ারুল উলুম নুমানিয়া মডেল কামিল মাদরাসার শিক্ষার্থী কামাল হোসেন বলে, অনলাইন ক্লাস শুরু হলে সবার হাতে মোবাইল থাকবে। অভিভাবকরা তখন মোবাইল কেড়ে নিতে পারবে না। আমরা মোবাইল হাতে পেলে পড়াশোনা তো করিই না। ফাঁকে ফাঁকে ফেসবুক চালানো হবে। গেম ছাড়া অনেকের সময় কাটবে না। মোবাইল হাতে পেলে এ অভ্যাস আরও বাড়বে।

আহমেদ বাওয়ানী একাডেমি স্কুল অ্যান্ড কলেজের অষ্টম শ্রেণির ছাত্রী নিশাত তিথি বলে, বর্তমানে সংকটময় পরিস্থিতি চলছে, এটা ঠিক। কিন্তু আমাদের পড়ালেখা এগিয়ে নেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করলে অনলাইন ক্লাসের পক্ষে নয়। অনলাইন ক্লাস হলে বিভিন্ন রকমের সমস্যা সৃষ্টি করতে পারে। এতে পড়াশোনায় ঘাটতি পড়বে বলে মনে করি।আরও পড়ুনকোন কোন স্কুলে অনলাইনে ক্লাস, জানালেন শিক্ষামন্ত্রীপ্রাথমিকে ৩৪ হাজার প্রধান শিক্ষক পদ শূন্য, নিয়োগ-পদোন্নতি কবে?

মতিঝিল আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজের এক শিক্ষার্থীর অভিভাবক ফাহমিদা আক্তার বলেন, জুমঅ্যাপ ছাড়া শিক্ষার্থীরা ক্লাস করতে পারবে না। সেক্ষেত্রে প্রত্যেকের হাতে ভালো মোবাইল ফোন থাকা লাগবে। কিন্তু সবার হাতে তো মানসম্মত মোবাইল ফোন নেই। হয়তো দেওয়াও সম্ভব নয়। এর ফলে অনলাইন ক্লাস চালু করাটা চ্যালেঞ্জিং হবে।

মিরপুরের শাহ আলী উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির এক ছাত্রীর অভিভাবক শাহীদা বেগম বলেন, আমরা চাচ্ছি অনলাইন ক্লাস না করে যেখানে পাঁচ ঘণ্টার ক্লাস হবে, সেখানে তিন ঘণ্টা ধরে দেন। যাতে শিক্ষার্থীরা সরাসরি শিক্ষা নিতে পারবে। সেটা করা হলে ভালো হয়।

পুরান ঢাকার একটি বিদ্যালয়ের একজন শিক্ষক বিদ্যুৎ সাশ্রয়ে দিনের আলোয় শ্রেণি কার্যক্রম চালানো, সৌরবিদ্যুতের ব্যবস্থা করা, শীতাতপ যন্ত্র বন্ধ রাখাসহ বিভিন্ন কার্যক্রম চালানোর ওপর জোর দেন। আরেকজন শিক্ষক ‘সেভ এনার্জি ক্যাম্পেইন’ করার পরামর্শ দেন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক আব্দুস সালাম বলেন, শুক্র ও শনিবারের সাপ্তাহিক ছুটি বাতিল করে তা কাজে লাগানো যেতে পারে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সপ্তাহের অন্য দিন ছুটি দেওয়া যেতে পারে। সেক্ষেত্রে যানজটের সমস্যা কমবে। পাশাপাশি এক এক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এক একদিন সাপ্তাহিক ছুটি দিলেও যানজট কমানো যাবে।

শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মতামত শোনার পর বক্তব্য দেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। তিনি বলেন, আমরা সব স্কুলে একযোগে নয়, বরং যেসব প্রতিষ্ঠানের সক্ষমতা রয়েছে; যেমন- ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজ, রাজউক উত্তরা মডেল কলেজ, রেসিডেন্সিয়াল মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজ- এসব স্কুলে পাইলট প্রকল্প হিসেবে এ উদ্যোগ নেওয়া হতে পারে, যাতে জ্বালানি সাশ্রয়, যানজট কমানো এবং শিক্ষার্থীদের নিয়মিত পাঠক্রম অব্যাহত রাখা সম্ভব হয়।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, রাজধানীতে অনেক শিক্ষার্থী ব্যক্তিগত গাড়িতে স্কুলে যাতায়াত করে, যা প্রতিদিন বিপুল জ্বালানি অপচয় ও যানজট সৃষ্টি করে। করোনাকালে হঠাৎ করে অনলাইন শিক্ষায় যেতে হয়েছিল, কিন্তু ভবিষ্যতের জন্য আমাদের আগে থেকেই প্রস্তুত থাকতে হবে।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ। মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব আব্দুল খালেকের সভাপতিত্বে মতবিনিময়ে স্বাগত বক্তব্য দেন মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (অতিরিক্ত দায়িত্ব) অধ্যাপক বি এম আব্দুল হান্নান।

সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব আবু তাহের মো. মাসুদ রানা এবং কারিগরি ও মাদরাসা শিক্ষা বিভাগের সচিব দাউদ মিয়া।

এএএইচ/এমএএইচ/