সরকারি কর্ম কমিশন (পিএসসি) ৪৭তম বিসিএসের লিখিত পরীক্ষার ফল প্রকাশ করেছে। এতে তিন হাজার ৬৩১ জন প্রার্থী উত্তীর্ণ হয়েছেন। তবে এই বিসিএসে ক্যাডার ও নন-ক্যাডার মিলিয়ে শূন্যপদের সংখ্যা তিন হাজার ৬৬৮ জন। অর্থাৎ, শূন্যপদের চেয়ে ৩৭ জন কম প্রার্থী লিখিত পরীক্ষায় পাস করে মৌখিক পরীক্ষার জন্য বিবেচিত হয়েছেন।
চাকরিপ্রার্থীরা বলছেন, মৌখিক পরীক্ষা দিয়েও অনেক প্রার্থী বাদ পড়েন। সেখানে শূন্যপদের চেয়েও লিখিত পরীক্ষায় কম পাস করানোয় অসংখ্য পদ শূন্য থেকে যাবে। কয়েক বছর সময় নিয়ে একটি বিসিএস শেষ করে পিএসসি। অথচ নিয়োগযোগ্য পদ শূন্য রেখে প্রার্থীদের বঞ্চিত করা হয়। মূলত দ্রুত বিসিএস শেষ করতে কৌশলে কম প্রার্থীকে প্রিলি ও লিখিত পরীক্ষায় পাস করানোর পথে হাঁটছে পিএসসি।
তবে বিষয়টি অস্বীকার করেছেন পিএসসির কর্মকর্তারা। সাংবিধানিক এ প্রতিষ্ঠানটি বলছে, যোগ্যতাসম্পন্ন প্রার্থী না পাওয়ায় বেশিসংখ্যক চাকরিপ্রার্থীকে মৌখিক পরীক্ষার জন্য বিবেচিত করা সম্ভব হয়নি। শূন্যপদগুলো পরবর্তী বিসিএসের বিজ্ঞপ্তির সময় সমন্বয় করা হবে।
পিএসসি সূত্র জানায়, ২০২৪ সালের ২৮ নভেম্বর ৪৭তম বিসিএসের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। বিজ্ঞপ্তিতে শূন্য ক্যাডারের পদের সংখ্যা ৩ হাজার ৪৮৭। আর নন-ক্যাডার পদের সংখ্যা ২০১। এ বিসিএস থেকে মোট তিন হাজার ৬৮৮ জনকে নিয়োগ দেওয়ার কথা।
৪৭তম বিসিএসে আবেদন করেন মোট ৩ লাখ ৭৪ হাজার ৭৪৭ জন। গত ১৯ সেপ্টেম্বর প্রিলিমিনারি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। ২৮ সেপ্টেম্বর-এ বিসিএসের প্রিলিমিনারি পরীক্ষার ফল প্রকাশ করা হয়। এতে উত্তীর্ণ হন ১০ হাজার ৬৪৪ জন। এরপর ২৭ নভেম্বর থেকে বিসিএস লিখিত পরীক্ষা শুরু হয়, যা শেষ হয় ১৮ ডিসেম্বর। ৭ এপ্রিল লিখিত পরীক্ষার ফল প্রকাশ করা হয়। এতে পাস করেছেন ৩ হাজার ৬৩১ জন।
৪৭তম বিসিএসের লিখিত পরীক্ষা দিলেও পাস করতে পারেননি রাব্বী হাসান। তিনি জাগো নিউজকে বলেন, পরীক্ষা ভালো দিলেও ফলাফল আশানুরূপ হয়নি। খাতা মূল্যায়ন নিয়ে আগে থেকেই আশঙ্কা ছিল। এর ওপর পিএসসি কম পাস করিয়ে স্বল্পসংখ্যক প্রার্থীর মৌখিক পরীক্ষা নিতে চাইছে। এতে দ্রুত বিসিএস শেষ করতে পারবে। অথচ তাদের এমন সিদ্ধান্তে অসংখ্য চাকরিপ্রার্থীর দীর্ঘদিনের কষ্ট পানিতে যাচ্ছে। অনেকের জীবনের গতিপথই বদলে যেতে পারে। এটা স্পষ্টতই হঠকারিতা।
বিষয়টি নিয়ে জানতে পিএসসির চেয়ারম্যানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। পরে কয়েকজন সদস্যের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তারা গণমাধ্যমে কথা বলতে অস্বীকৃতি জানান। পরীক্ষা শাখার কয়েকজন কর্মকর্তাও বিষয়টি নিয়ে কথা বলতে চাননি।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে পিএসসির একজন নারী সদস্য জাগো নিউজকে বলেন, যোগ্যতাসম্পন্ন প্রার্থীরাই পাস করেছেন, তারাই মৌখিক পরীক্ষা দেবেন। পাস না করলে, প্রয়োজনীয় নম্বর না পেলে তো কাউকে রাখা যাবে না। শূন্যপদ আছে, এ যুক্তিতে তো আর কম নম্বর পাওয়া কাউকে আমরা পাস করিয়ে নিয়োগের সুপারিশ করতে পারি না। এ সুযোগ নেই।
এএএইচ/এমএএইচ/