শরীয়তপুরের ‘আর.বি.এম ব্রিকস’ নামের একটি ইটভাটার ম্যানেজারের বিরুদ্ধে গ্রাহকের আড়াই কোটি টাকা নিয়ে পরিবারসহ আত্মগোপনের অভিযোগ উঠেছে। অভিযুক্ত ম্যানেজার উত্তম সাহা উধাও হওয়ার খবর জানাজানি হলে টাকা ফেরত পাওয়ার দাবিতে তার বাড়িতে ভিড় করছেন পাওনাদাররা।
এদিকে তার সন্ধান পেতে ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়ে উপযুক্ত পুরস্কার ঘোষণা করেছেন ইটভাটার মালিক।
স্থানীয় ও ভুক্তভোগীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, সদর উপজেলার রুদ্রকর বালার বাজার এলাকায় আর.বি.এম ব্রিকস নামের ইটভাটাটি দীর্ঘ এক যুগ আগে প্রতিষ্ঠিত হয়। বর্তমানে এটি দেখাশোনা করেন মালিক বিশাল সাহা। প্রতিষ্ঠানটির ম্যানেজারের দায়িত্বে ছিলেন পার্শ্ববর্তী পন্ডিত বাজার এলাকার উত্তম সাহা। অভিযোগ রয়েছে, উত্তম ব্যবসায়িক সূত্র ধরে এবং ইট বিক্রির কথা বলে বিভিন্ন জনের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। গত বুধবার রাতে বৃদ্ধ বাবা-মাকে বাড়িতে রেখে শ্বশুরবাড়ির লোকজনসহ স্ত্রী-সন্তানদের নিয়ে তিনি গা ঢাকা দেন। বিষয়টি বৃহস্পতিবার সকালে জানাজানি হলে ইটভাটা ও তার বাড়িতে ভীড় জমাতে শুরু করেন টাকা পাওনাদার ব্যক্তিরা।
আব্দুর রহিম তালুকদার নামের এক ভুক্তভোগী বলেন, গত ফেব্রুয়ারিতে এই ইটভাটা থেকে ইট কেনার জন্য ৬০ হাজার টাকা জমা দেই। আমাকে ইট দেওয়ার কথা বলে সময় পরিবর্তন করে আসছে প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজার উত্তম সাহা। আজ সকালে এসে জানতে পারি, তিনি অনেকের কাছ থেকে টাকা নিয়ে পালিয়ে গেছেন। আমি যেহেতু বৈধভাবে ইট কিনেছি, আমি আমার ইট চাই।
আল-আমিন সরদার নামে আরেক পাওনাদার দাবি করেন, ব্যবসার কথা বলে উত্তম তার কাছ থেকে ১৬ লাখ টাকা নেন, যার মধ্যে ১০ লাখ টাকা এখনো বকেয়া। তার দাবি, উত্তম সাহা গ্রাহকদের অন্তত ৫ কোটি টাকা নিয়ে পালিয়েছেন।
এদিকে উত্তম সাহার বাড়িতে গিয়ে তার বাবা-মাকে পাওয়া যায়। তবে তারাও জানেন না তার ছেলে এখন কোথায় আছে। অভিযুক্ত উত্তম সাহার বাবা দুলু সাহা বলেন, আত্মীয় অসুস্থতার কথা বলে রাতে পরিবারসহ বাড়ি থেকে বের হয় উত্তম। সে যে এত টাকা নিয়ে পালিয়েছে তা আমাদের জানা ছিল না।
এদিকে ম্যানেজার উত্তম সাহার সন্ধান পেতে উপযুক্ত পুরস্কার ঘোষণা দিয়ে ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়েছে প্রতিষ্ঠানটির মালিক বিশাল সাহা। তিনি বলেন, আমি বিষয়টি জানার পর থানায় এসেছি। এ ব্যাপারে আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণ করবো।
বিষয়টি নিয়ে পালং মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহ আলম বলেন, আমি এখন এ ব্যাপারে অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে বিষয়টি তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করবো।
বিধান মজুমদার অনি/কেএইচকে/জেআইএম