মুহাম্মদ শফিকুর রহমান
এমনিতেই আমাদের দেশে বনভূমি ও বন্যপ্রাণীর সংখ্যা দিন দিন কমে যাচ্ছে। প্রতিকূল পরিবেশের সঙ্গে লড়াই করে যে অল্প কিছু প্রাণী টিকে আছে, তাদের জীবন এখন নতুন এক বিপদের মুখে—অসংবেদনশীল কনটেন্ট নির্মাণ।
এক শ্রেণির কনটেন্ট ক্রিয়েটর শুধু ভিউয়ের আশায় বন্যপ্রাণীর স্বাভাবিক জীবনযাত্রায় হস্তক্ষেপ করছেন। ড্রোন উড়িয়ে শেয়ালের বাসা খুঁজে বের করা, মা না থাকলে বাচ্চা তুলে এনে ভিডিও করা, খাবার দেখিয়ে ভয় বা প্রলুব্ধ করে অস্বাভাবিক আচরণ করানো—এসব শুধু অনৈতিকই নয়, অপরাধও বটে। ভয়ে দিগ্বিদিক ছুটে বেড়ানো প্রাণীগুলোর জন্য এটি মারাত্মক মানসিক চাপ তৈরি করে।
শুধু শেয়াল নয়, পাখিরাও এই অযাচিত হস্তক্ষেপের শিকার। বাসার কাছে ড্রোন পাঠানো হলে তীব্র শব্দে পাখিরা আতঙ্কিত হয়ে বাসা ছেড়ে পালায়। অনেক সময় ডিম বা ছানা নিচে পড়ে গিয়ে মারা যায়। বিশেষ করে ঈগলের মতো বড় পাখির ক্ষেত্রে এর প্রভাব আরও ভয়াবহ। প্রশ্ন হলো—কিছু ভিউ বা লাইক পাওয়ার জন্য কি আমরা এই নিরীহ প্রাণীদের জীবন বিপন্ন করে তুলতে পারি?
এ ধরনের কনটেন্ট আসলে কী বার্তা দেয়? প্রকৃতিকে ভালোবাসা, নাকি তার ওপর নির্যাতন? বাংলাদেশের আইন অনুযায়ী, বন্যপ্রাণীকে বিরক্ত করা, ভয় দেখানো বা তাদের স্বাভাবিক আচরণে হস্তক্ষেপ করা দণ্ডনীয় অপরাধ। এর জন্য জেল ও জরিমানার বিধান আছে। তারপরও এ ধরনের কার্যক্রম সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অবাধে চলতে দেখা যায়, যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক।
আমাদের দেশ প্রকৃতিগত সৌন্দর্যে ভরপুর। বন্যপ্রাণীর ক্ষতি না করেও অসংখ্য সুন্দর ও সৃজনশীল কনটেন্ট তৈরি করা সম্ভব। তাই দায়িত্বশীল কনটেন্ট নির্মাণের চর্চা জরুরি। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে বিনীত অনুরোধ—যত দ্রুত সম্ভব এ ধরনের ক্ষতিকর কনটেন্ট ও পেজগুলোর বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক। প্রকৃতি আমাদের—রক্ষা করার দায়িত্বও আমাদেরই।
এসইউ