ভ্রমণ

যে দিঘিতে ভেসে উঠতো সোনা-রুপার থালা

ফেনী নদীর নামানুসারে জায়গার নামও ফেনী। ওই নামেরই জেলা, উপজেলা এবং শহর। ফেনী জেলাটি বাংলাদেশের দক্ষিণ-পূর্ব অংশে। উত্তরে কুমিল্লা জেলা ও ভারতের ত্রিপুরা রাজ্য, দক্ষিণে চট্টগ্রাম জেলা ও বঙ্গোপসাগর, পূর্বদিকে চট্টগ্রাম ও ত্রিপুরা, পশ্চিমে নোয়াখালী। এ জেলায় ঐতিহাসিক স্থান অনেক। যেমন- পাগলা বাবার মাজার, শতবর্ষী চাঁদগাজী ভুঁঞা মসজিদ, প্রাচীর সুড়ঙ্গ মঠ, বিলোনিয়া সীমান্ত পোস্ট, বিলোনিয়া পুরোনো রেল স্টেশন ইত্যাদি। এখানকার আরেকটি ঐতিহাসিক জায়গা ‘বিজয় সিংহ দিঘি’। ইতিহাস যেন একাকার হয়েছে এই বিশাল জলাশয়ে। ফেনী শহর থেকে প্রায় ২ কিলোমিটার পশ্চিমে বিজয় সিংহ গ্রামে ফেনী সার্কিট হাউজের সামনে দিঘিটি অবস্থিত।

লোকমুখে প্রচলিত, এ দিঘি খনন করিয়েছিলেন সেন বংশের রাজা বিজয় সেন। জনশ্রুতি আছে, ত্রিপুরার এক রাজকন্যার অন্ধত্ব দূর করার জন্য নাকি এ দিঘি খনন করা হয়েছিল। তাই একে রাজাঝির দিঘিও বলা হয়। তবে দিঘিটির ইতিহাস নিয়ে বিতর্কের অবসান এখনো হয়নি। অনেকে দাবি করেন, সেন বংশের কোনো নৃপতি নয়, স্থানীয় এক রাজা বিজয় সিংহ নিজের মাকে খুশি করতে খনন করিয়েছিলেন এ দিঘি।

দিঘির আয়তন প্রায় ৩৭.৫৭ একর। উঁচু পাড় এবং সবুজ বৃক্ষ ঘেরা দিঘিটি এখানকার প্রাকৃতিক পরিবেশে যোগ করেছে বিশেষ বৈশিষ্ট্য। বিজয় সিংহ দিঘি দেখার জন্য বিভিন্ন স্থান থেকে দর্শনার্থী আসেন। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে পর্যটকের পদচারণায় দিঘির চারপাশ মুখরিত হয়ে ওঠে।

আরও পড়ুনসিলেটে ঘুরতে গিয়ে যা দেখা গেল 

লোকমুখে শোনা যায়, এক সময়ে নাকি এ বিশাল জলাশয় থেকে সোনা-রুপার থালা ভেসে উঠতো। তবে সেসব থালা যে কেউ চাইলেই ব্যবহার করতে পারতো না। দিঘির কাছে করজোড়ে মিনতির পর দিঘিই মানুষকে এ সম্পদ দান করতো। শুধু সোনা-রুপার থালাই নয়, যে কোনো আয়োজনে দিঘির কাছে বাসন-পাতিল মিনতি করলে দিঘি তা-ও দিতো। এক ভিখারিনী একবার একটি থালা চুরি করেন। এরপর থেকে বন্ধ হয়ে যায় থালা ভেসে ওঠা। এসবের কোনো প্রামাণিক ভিত্তি নেই। কেবল মানুষের মুখে মুখে প্রচলিত গল্পকথা হয়ে আছে আজও।

তবে স্থানীয়রা এটাও বলেন যে, আগে বিজয় সিংহ দিঘি থেকে বেশ বড় বড় মাছ পাওয়া যেত। যার ওজন ৮০ থেকে ১০০ কেজি। চারদিক গাছে সাজানো, মনোরম পরিবেশ। বাংলাদেশের নানা প্রান্ত থেকে প্রচুর মানুষ এখানে ঘুরতে আসেন। বিকেলবেলায় শান্ত সুন্দর প্রকৃতির সান্নিধ্য পেতে চাইলে কিছুটা সময় কাটিয়ে আসতে পারেন শুদ্ধ জল ও বাতাসের এ মিলনস্থলে।

আরও পড়ুনঢাকার কাছে বেড়াতে যাওয়ার সাত স্পট  যেভাবে যাবেন

ফেনী জেলা ট্রাঙ্ক রোড জিরো পয়েন্ট অথবা ফেনী রেলওয়ে স্টেশন থেকে সিএনজিযোগে সহজেই বিজয় সিংহ দিঘি দেখতে যাওয়া যায়। এ ছাড়া রিকশায় চড়েও যাওয়া যাবে। রিকশায় চড়ে শহরের মহিপাল পয়েন্ট হয়ে সার্কিট হাউজ রোড ধরে বিজয় সিংহ দিঘিতে পৌঁছানো যায়।

থাকবেন যেথায়

বিজয় সিংহ দিঘির অত্যন্ত কাছে ফেনী সার্কিট হাউজ গড়ে তোলা হয়েছে। দিঘি থেকে মাত্র ৩ কিলোমিটার দূরে মিজান রোডে ফেনী জেলা পরিষদ ডাকবাংলোর অবস্থান। এ ছাড়া চাইলে এলজিইডি রেস্ট হাউজ, পানি উন্নয়ন বোর্ডের রেস্ট হাউজ এবং পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির রেস্ট হাউজে রাত যাপন করতে পারবেন। অথবা ফেনী শহরে রাত যাপনের জন্য আবাসিক হোটেল বেছে নিতে পারেন।

এসইউ