আসছে পহেলা বৈশাখ। গ্রাম-বাংলার ঐতিহ্যবাহী এই উৎসবকে ঘিরে অতিথি আপ্যায়নের অন্যতম প্রধান অনুষঙ্গ হলো মুড়ি-বাতাসা। বহু বছর ধরে এই সহজ কিন্তু মিষ্টি খাবারটি অতিথি আপ্যায়নের অংশ হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। গ্রামের বাড়িতে এখনো দেখা যায়, মুড়ি, মুড়কি আর বাতাসা দিয়ে অতিথিকে স্বাগত জানানো হয়। শুধু গ্রামেই নয়, শহরেও অনেক পরিবার এই ঐতিহ্য ধরে রাখার চেষ্টা করে।
তবে শহরে বাতাসা সাধারণত দোকান থেকে কিনে আনতে হয়। কিন্তু চাইলে খুব সহজ উপকরণ দিয়ে বাড়িতেই তৈরি করা সম্ভব। এতে যেমন খরচ কম হয়, তেমনি ঘরোয়া স্বাদও পাওয়া যায়।
আসুন জেনে নেওয়া যাক কীভাবে বাতাসা তৈরি করবেন-
উপকরণচিনি ১ কাপপানি ১/৪ কাপলেবুর রস ১ চা চামচ
প্রথমে একটি বেকিং শিট, ট্রে বা সিলিকন মোল্ড ভালোভাবে প্রস্তুত করে নিতে হবে। এর ওপর হালকা করে তেল ব্রাশ করে দিন।
এরপর একটি প্যানে পরিমাণমতো চিনি ও পানি নিয়ে চুলায় মাঝারি আঁচে বসান। চিনি গলে গিয়ে পানির সঙ্গে ভালোভাবে মিশে গেলে ধীরে ধীরে নেড়ে যেতে থাকুন। মিশ্রণটি যাতে পুড়ে না যায় বা নিচে লেগে না থাকে, সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। কিছুক্ষণ পর দেখা যাবে চিনি-পানির মিশ্রণটি ঘন হতে শুরু করেছে এবং সাদা বুদবুদের মতো ফেনা উঠছে।এই সময় এতে সামান্য লেবুর রস যোগ করুন।
যখন মিশ্রণটি একেবারে ঘন, আঠালো ও হালকা সাদা ফেনাযুক্ত হয়ে যাবে, তখন দ্রুত চুলা থেকে নামিয়ে নিন। এবার দ্রুত চামচ বা ছোট ল্যাডেলের সাহায্যে মিশ্রণটি নিয়ে প্রস্তুত রাখা ট্রে বা সিলিকন মোল্ডে অল্প অল্প করে ঢেলে দিন। সমানভাবে ছড়িয়ে দিলে বাতাসার আকার সুন্দর হবে। এরপর এটি কিছু সময় ঠান্ডা হতে দিন। পুরোপুরি ঠান্ডা হয়ে গেলে দেখবেন বাতাসা শক্ত হয়ে সুন্দর আকার ধারণ করবে।এরপর পরিবেশন করুন।
টিপস১. এই ঐতিহ্যবাহী বাতাসা মুখবন্ধ বয়ামে সংরক্ষণ করলে অনেকদিন পর্যন্ত ভালো থাকে। তাই চাইলে আগেই বানিয়ে রেখে অতিথি আপ্যায়নের সময় ব্যবহার করা যায়।
২. বাতাসা পাওয়ার জন্য সবসময় চুলার আঁচ মাঝারি রাখতে হবে এবং মিশ্রণকে অতিরিক্ত জ্বাল দেওয়া যাবে না। অতিরিক্ত জ্বাল দিলে বাতাসা শক্ত ও ভঙ্গুর হয়ে যেতে পারে। ৩. হালকা ঘ্রাণের জন্য এলাচ গুঁড়াও ব্যবহার করতে পারেন।
আরও পড়ুন: গরমে পারফেক্ট ডেজার্ট ‘তরমুজের পুডিং’ গরমে সতেজ থাকতে বাড়িতেই বানান গাজরের মিল্কশেকএসএকেওয়াই