উপমহাদেশের প্রখ্যাত সংগীতশিল্পী আশা ভোঁসলে মারা গেছেন। আজ রোববার দুপুর ১২টার দিকে মুম্বাইয়ের একটি হাসপাতালে তার মৃত্যু হয় বলে জানিয়েছেন আশা ভোসলের ছেলে আনন্দ ভোসলে। তার মৃত্যুর খবরে উপমহাদেশের সংগীতাঙ্গনে নেমে এসেছে গভীর শোকের ছায়া।
তার প্রয়াণে শোকাহত ভক্ত-অনুরাগীদের পাশাপাশি ভেঙে পড়েছেন বাংলাদেশের জীবন্ত কিংবদন্তি শিল্পী রুনা লায়লা। তিনি বলেন, ‘পৃথিবীর বড় বড় দু’জন কিংবদন্তি শিল্পী পরপর চলে গেলেন’।
আশা ভোঁসলের মৃত্যু সংবাদ পাওয়ার পরপরই গণমাধ্যমে গভীর শোক ও আবেগঘন প্রতিক্রিয়া জানান রুনা লায়লা। তিনি বলেন, ‘পৃথিবীর বড় বড় দু’জন কিংবদন্তি শিল্পী পরপর চলে গেলেন। লতা মুঙ্গেশকর দিদি ২০২২ সালে চলে গেলেন, আর এখন আশা দিদিও চলে গেলেন। এমন শিল্পী আর এই পৃথিবীতে জন্মাবে না। আমার কাছে মনে হচ্ছে আমার পৃথিবীটাই শূন্য হয়ে গেল।’
নিজের ব্যক্তিগত সম্পর্কের কথা স্মরণ করে রুনা লায়লা আরও বলেন, ‘তারা দুজনেই আমাকে ভীষণ স্নেহ করতেন, মায়ের মতোই। এই কষ্ট ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়। আমার শেষ দেখা হয়েছিল আমার সুর করা গান ‘চলে যাওয়া ঢেউগুলো আর ফিরে আসেনি’-এর রেকর্ডিংয়ের সময়। এরপর ফোনে যোগাযোগ হয়েছে, কিন্তু কিছুদিন ধরে ভাবছিলাম আবার কথা বলবো। আজ করবো, কাল করবো এই ভাবনায় আর করা হয়নি। শেষ কথাটাও বলা হলো না।’
রুনা লায়লার কণ্ঠে ছিল আক্ষেপ আর বেদনার ভার, ‘যখন মনে হয়েছিল দিদিকে ফোন করি, যদি তখনই করতাম, তাহলে হয়তো আজ এই আফসোসটা থাকত না। নিজের ভেতরে খুব কষ্ট হচ্ছে এই কষ্ট সত্যিই ভাষায় প্রকাশের নয়।’
অনেকদিন ধরেই যে আশা ভোঁসলে অসুস্থ ছিলেন, তেমন নয়। গতকাল শনিবার সন্ধ্যায় হঠাৎই ছড়িয়ে পড়ে তার অসুস্থতার খবর। ভারতীয় সংগীতের অন্যতম আইকনিক ও বহুমুখী প্লেব্যাক গায়িকা হিসেবে সুপরিচিত আশা ভোসলে।
আট দশকের বেশি দীর্ঘ ক্যারিয়ারে তিনি একাধিক ভারতীয় ভাষার পাশাপাশি বিভিন্ন বিদেশি ভাষায়ও হাজার হাজার গান রেকর্ড করেন। শাস্ত্রীয়, লোকসংগীত, পপ থেকে গজল বিভিন্ন ধারার সংগীতে অসাধারণ মানিয়ে নেওয়ার ক্ষমতা তাকে অনন্য উচ্চতায় পৌঁছে দিয়েছে।
এমআই/এলআইএ