বঙ্গাব্দের সাল গণনায় ২৯ বছরের গরমিলের দাবি করে গবেষণাপত্র উপস্থাপন করেছেন জাতীয় বঙ্গাব্দ পরিষদের আহ্বায়ক মোহাম্মদ আবু হানিফা। তিনি কপিরাইট সনদভুক্ত ‘জাতীয় বঙ্গাব্দ’, ‘ভাওয়ালব্দ’ ও ‘হানিফ’স ইয়ার’-এর উদ্ভাবক।
সোমবার (১৩ এপ্রিল) গাজীপুর প্রেসক্লাবে সেই গবেষণাপত্র উপস্থাপন করেন তিনি।
গবেষণাপত্রে তিনি বলেন, প্রচলিত বঙ্গাব্দের জন্ম তথ্য সত্য নয়। তাতে বাংলাদেশের বাংলা একাডেমি থেকে প্রকাশিত ‘বাংলা সনের জন্মকথা’ নামক গ্রন্থসহ অন্যান্য সাহিত্য ও সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য দৃষ্টে ঐতিহাসিক ৬২২ খ্রিষ্টাব্দে বঙ্গাব্দে ১ম বর্ষের অভিষেক হয়েছিল। তাতে ২০২৬ খ্রিষ্টাব্দের ১৪ এপ্রিলের ১৪০৪ বঙ্গাব্দের নওরোজ শুরু করার নিয়ম রয়েছে। অথচ ১৪০৪ বঙ্গাব্দের স্থানে আমরা সে বর্ষকে ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ হিসেবে নিয়েছি। তাতে বঙ্গাব্দের গণনা পদ্ধতিতে ২৯ বছরের গরমিল মেনে চলা হচ্ছে; যা ঠিক নয়। প্রচলিত বঙ্গাব্দের এই হিসাব অশুদ্ধ। আর অশুদ্ধ বিধানের প্রচলিত বঙ্গাব্দের তারিখ আমাদের সামাজিক ও সাংস্কৃতিক এবং ইতিহাসের কাল বর্ণনার আকর হিসেবে ব্যবহারের জায়গাও শুদ্ধতার মানদণ্ড নয়।
তিনি আরও বলেন, ইতোপূর্বে বাংলা একাডেমি ও বাংলাদেশ সরকারের সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের অধীনে একাধিকবার প্রচলিত বঙ্গাব্দের যে সকল সংস্কার করা হয়েছিল, সে সকল সংস্কারের কাজও ত্রুটিযুক্ত হওয়ায় বঙ্গাব্দের হিসাব পদ্ধতিতে ত্রুটির জায়গা আরও বেড়েছে। আবার সাধারণভাবে আমরা বাঙালি হিসেবে বাংলা সনের তারিখ কেন মনে রাখতে পারি না, সে সমস্যার জায়গা নিয়েও ভাবা হয়নি। এ কারণে পরিপূর্ণ শুদ্ধ ও সুন্দর বিধান যুক্ত আমার ‘জাতীয় বঙ্গাব্দ’-এর নিয়ম ছাড়া কোনোভাবেই বাঙালিদের বাংলা সনের শুদ্ধতা পাওয়া সম্ভব নয়।
তিনি আরও বলেন, আমরা আমাদের গর্বিত করতে চাইলে এবং আমাদের জ্ঞান ও প্রজ্ঞা অনেক উন্নত হিসেবে মানদণ্ডের জায়গা বুঝাতে চাইলে, আমাদের প্রচলিত বঙ্গাব্দকে বাতিল করে আমার গবেষণার দ্বারা উদ্ভাবনকৃত এবং কপিরাইট সনদের মর্যাদাভুক্ত ‘জাতীয় বঙ্গাব্দ’র নীতি অবশ্যই প্রবর্তনের উদ্যোগ নিতে হবে।
গবেষণাপত্র উপস্থাপনকালে জাতীয় বঙ্গাব্দ পরিষদের সদস্য, গাজীপুরের কবি আবু তাহের সিদ্দিকী, কবি ও ডেন্টিস্ট মো. বরকতুল্লাহ খান (ফয়েজ), ময়মনসিংহের গফরগাঁও উপজেলাধীন টাংগাব ইউনিয়ন পরিষদের মেম্বার মো. সাইফুল ইসলাম ও বাংলাদেশ কলাজগত সোসাইটির সদস্য মো. ইকবাল হোসেন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
মো. আমিনুল ইসলাম/এমএন/এএসএম