জাতীয়

২০০ টাকার দ্বন্দ্বে হত্যা, ৩ বছর পর ‘ফাঁস হলো রহস্য’

গাজীপুরে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে সংঘটিত এক হত্যাকাণ্ডের প্রায় দুই বছর ১০ মাস পর রহস্য উদ্ঘাটন করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। এ ঘটনায় এজাহারভুক্ত এক নম্বর আসামি মো. শাওন মিয়াকে (৩০) গ্রেফতার করা হয়েছে। তথ্যপ্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে গত ১২ এপ্রিল চট্টগ্রামের মীরসরাই থানার দক্ষিণ ওয়াহেদপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করা হয়।

সোমবার (১৩ এপ্রিল) পিবিআই সদরদপ্তরের মিডিয়া বিভাগ জানায়, ২০২৩ সালের ১৩ মে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে মাসুদ রানা কাজের উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে বের হন। পরে পূর্বপরিকল্পিতভাবে কয়েকজন তাকে বাড়ির পূর্ব-দক্ষিণ পাশের পায়ে হাঁটার রাস্তায় গতিরোধ করে। এ সময় মো. শাওন মিয়া, সুজন মিয়া, গদু মিয়া, আব্দুর রশিদসহ অজ্ঞাতপরিচয় আরও কয়েকজন ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে গুরুতর জখম করে।

আহতাবস্থায় মাসুদ রানা প্রাণ বাঁচাতে দৌড়ে বাড়ির সামনে এসে পড়ে গেলে এগিয়ে আসেন পরিবারের সদস্যরা। পরে স্থানীয়দের সহায়তায় তাকে প্রথমে গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এবং পরে অবস্থার অবনতি হলে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় পরদিন ১৪ মে বেলা ১১টা ৫০ মিনিটে তার মৃত্যু হয়।

এ ঘটনায় নিহতের ভাই বাদী হয়ে গাজীপুর মহানগরীর সদর থানায় একটি হত্যা মামলা করেন। দীর্ঘদিন থানা পুলিশ তদন্ত করলেও পরে পুলিশ সদরদপ্তরের নির্দেশে মামলাটি পিবিআইকে হস্তান্তর করা হয়।

পিবিআই জানায়, তথ্যপ্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে চট্টগ্রামের মীরসরাই থানার দক্ষিণ ওয়াহেদপুর এলাকা থেকে শাওন মিয়াকে গ্রেফতার করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেন এবং আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।

তদন্তে জানা যায়, গ্রেফতার শাওন মিয়া নিহত মাসুদ রানার বাসার সামনে ভাড়াটিয়া হিসেবে বসবাস করতেন। মাসুদের কাছে তার ২০০ টাকা পাওনা ছিল। এ সামান্য টাকা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। ঘটনার দিন টাকা চাওয়াকে কেন্দ্র করে বাগবিতণ্ডা ও ধাক্কাধাক্কির একপর্যায়ে শাওন মিয়া ক্ষিপ্ত হয়ে মাসুদ রানার কাছ থেকে চাকু কেড়ে নিয়ে তার বুকে আঘাত করেন। এতে তিনি গুরুতর আহত হন এবং পরে মারা যান।

পিবিআই জানায়, এ ঘটনায় জড়িত অন্য আসামিদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে এবং মামলার তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।

টিটি/এমএএইচ/