বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্য দিয়ে শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (শেকৃবি) উদযাপিত হয়েছে পহেলা বৈশাখ ও বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩।
মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) সকাল সাড়ে ৯টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষি অনুষদ ভবনের সামনে বেলুন ও পায়রা উড়িয়ে বাংলা বর্ষবরণ অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন শেকৃবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আব্দুল লতিফ।
অনুষ্ঠান উদ্বোধনের পর উপাচার্যের নেতৃত্বে এক র্যালি বের হয়। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারী ও শিক্ষার্থীরা স্বতঃস্ফূর্ত অংশ নেন। এরপর অনুষ্ঠিত হয় আলোচনা সভা।
আরও পড়ুনঢাবিতে ছাত্রদলের বৈশাখী উৎসব ৬ জেলায় তাপপ্রবাহ, সিলেটে বৃষ্টির আভাস
এ সময় উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আব্দুল লতিফ বলেন, বাংলা বর্ষ গণনা প্রাচীনকাল থেকেই প্রচলিত। বাংলাদেশের মানুষের প্রধান খাদ্য ভাত হওয়ায় দেশের প্রায় ৮০ শতাংশ জমিতে ধান চাষ হতো। ধানের ভিত্তিতে আউশ, আমন ও বোরো- এই তিন মৌসুম নির্ধারণ করা হয়েছে, কৃষি বিজ্ঞানীরা এগুলোকে খরিপ-১, খরিপ-২ ও রবি ভাগে বিভক্ত করেছেন। রবি মৌসুম চৈত্র মাসে শেষ হয় এবং চৈত্র সংক্রান্তি প্রাচীনকাল থেকেই উৎসব হিসেবে পালিত হয়ে আসছে। চৈত্রে ফসল ঘরে ওঠায় কৃষকদের হাতে অর্থ থাকতো, তাই খাজনা আদায় সহজ করতে মুঘল সম্রাট আকবর বাংলা সন প্রবর্তন করেন বলে ধারণা করা হয়।
তিনি আরও বলেন, কৃষির উন্নয়ন ছাড়া কৃষকের উন্নয়ন সম্ভব নয়। সংকটের সময় দেখা গেছে মানুষের হাতে টাকা থাকলেও খাবার মেলেনি। তাই কৃষিপণ্য উৎপাদন বাড়ানো জরুরি। তবে এ বছর কৃষকরা তাদের পণ্যের ন্যায্য মূল্য পাচ্ছেন না। কৃষির উন্নয়ন, কৃষকের ন্যায্য দাম ও অধিকার নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি।
বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলোর উদ্যোগে নববর্ষ উপলক্ষে দিনব্যাপী মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন ছিল। সাংস্কৃতিক ও সামাজিক সংগঠনগুলো নাটিকা, নাচ-গান ও স্টল সাজানোর মাধ্যমে দেশীয় ঐতিহ্য তুলে ধরেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন সংগঠন স্টল সাজিয়ে বাংলাদেশের ঐতিহ্য উপস্থাপন করে, পাশাপাশি প্রতিটি ক্লাব বাহারি খাবারের আয়োজন করে।
সাইদ আহম্মদ/কেএসআর