নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় এক অটোরিকশা ব্যবসায়ীকে মামলার ভয় দেখিয়ে ৫০ হাজার টাকা ও একটি অটোরিকশা জোরপূর্বক ছিনিয়ে নেয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের উপ-পরিদর্শক (এসআই) সেলিম মিয়ার বিরুদ্ধে। নিরীহ অটোরিকশা ব্যবসায়ী টাকা দিতে অস্বীকার করলে তাকে মারধর করে বলে অভিযোগ পাওয়া যায়।বুধবার এসআই সেলিমের বিরুদ্ধে নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপারের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন ব্যবসায়ী মিজানুর রহমান। মিজানুর ফতুল্লার নিউ হাজীগঞ্জ এলাকার আব্দুর রাজ্জাকের ছেলে।লিখিত অভিযোগে মিজানুর রহমান উল্লেখ করেছেন, গত ২২ জুলাই বিকেলে ৫টার দিকে জেলা ডিবি পুলিশের এসআই সেলিমসহ ৮ জন মিজানুর রহমানের গ্যারেজে যায়। ওই সময় মিজানুরকে পেন্ডিং মামলার ভয় দেখিয়ে জোরপূর্বক দুটি সাদা কাগজে স্বাক্ষর নিয়ে ৫০ হাজার টাকা ও একটি অটোরিকশা নিয়ে যায়। ওই সময় পুলিশ অফিসারের মামলা দেয়ার হুমকি ভয়ে মিজানুর রহমান চুপ থাকে।পরে গত ২৪ জুলাই বিকেলে ৫টার সময়, ২৬ জুলাই দুপুর ১২টার দিকে ও ৩০ জুলাই রাত ১০টার দিকে মিজানুর রহমানের অনুপুস্থিতিতে গ্যারেজে এসে এসআই সেলিম মিয়া গ্যারেজের ম্যানেজার কবিরের নিটক আরো ৩৫ হাজার টাকা দাবি করে। টাকা দিতে না পারায় কবিরকে মারধর করে। এমনকি এসআই সেলিম টাকার জন্য প্রতিদিনই মিজানুর রহমানের গ্যারেজ গিয়ে চাপ সৃষ্টি করে। পরে বাধ্য হয়ে বুধবার জেলা পুলিশের সুপারের কাছে লিখিত অভিযোগ দেয়া হয়।অভিযুক্ত ডিবির এসঅাই সেলিম তার বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগ অস্বীকার বলেন, জনৈক মামুন নামে এক ব্যক্তির অটোরিকশা চুরির অভিযোগের ভিত্তিতে মিজানুরের গ্যারেজে অভিযান চালিয়ে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা নিয়ে আসা হয়। আর মিজানুর ডিবি অফিসে এসে ২০ হাজার টাকা দিয়ে অটোরিকশা চোরকে ধরিয়ে দেয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে স্বাক্ষর করে। সে অহেতুকভাবে আমার বিরুদ্ধে এসপি স্যারে বরাবর অভিযোগ দায়ের করেছে।এদিকে অভিযোগ উঠেছে, ডিবির এসআই সেলিম নারায়ণগঞ্জে একজন আলোচিত পুলিশ অফিসার হিসেবে পরিচিত। তিনি টাকার জন্য অনেক কিছু করে থাকেন। তার বিরুদ্ধে ব্যাপক গ্রেফতার-বাণিজ্যের অভিযোগ রয়েছে। সম্প্রতি এসআই সেলিম শহরের গোগনগর নলুয়াপাড়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ বিয়ার, মদ ও ইয়াবা উদ্ধার করেন।এসময় জনৈক এক মাদক ব্যবসায়ীকে আটক করলেও দেড় লাখ টাকার রফাদফায় ঘটনাস্থল থেকে ওই মাদক ব্যবসায়ীকে ছেড়ে দেয়া হয়। আর উদ্ধারকৃত বিয়ারের অর্ধেক অন্যত্র বিক্রি করে বাকি অর্ধেক উদ্ধার দেখিয়ে মামলা দেয়া হয়। কিন্তু মামলায় মদ ও ইয়াবা উদ্ধার দেখানো হয়নি।মো. শাহাদাত হোসেন/বিএ