বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জে পানগুছি নদীতে ট্রলারডুবির ঘটনায় শুক্রবার সকালেও তিন নারীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় এ পর্যন্ত ১৭ জনের মরদেহ উদ্ধার করেছে উদ্ধারকারী টিমের সদস্যরা।
তবে নিখোঁজের তালিকায় থাকা মোরেলগঞ্জের ভাইজোড়া এলাকার খাদিজা বেগম (৪০) ও তার ছেলে জুবায়ের হোসেনের পর শুক্রবার কামরুন্নেছা (৫৮) নামের আরেক নারীর জীবিত থাকার সন্ধান নিশ্চিত করেছেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. ওবায়দুর রহমান।
তিনি আরও জানান, শুক্রবার সকালে মোরেলগঞ্জ ফেরিঘাট ও কাঠালতলা এলাকা থেকে নদীতে ভাসমান অবস্থায় তিনটি মৃতদেহ উদ্ধার হওয়ায় এ পর্যন্ত সর্বমোট ১৭ জনের মরদেহ উদ্ধার হয়েছে। নিখোঁজ এখনও ২ জনের সন্ধানে উদ্ধার কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।
ফায়ার সার্ভিসের উপসহকারী পরিচালক মাসুদার রহমান জানান, শুক্রবার সকালে মোরেলগঞ্জ ফেরিঘাট ও কাঠালতলা এলাকা থেকে নদীতে ভাসমান অবস্থায় মোরেলগঞ্জের বারইখালী শহিদুল ইসলামের মেয়ে লাবনী (২০), শরণখোলার খেজুরবাড়িয়া গ্রামের পুলিশ কনস্টেবল জাহিদ হোসেন লিটনের স্ত্রী নাছিমা (৩৫) ও পিরোজপুর জেলার ইন্দুরকানি উপজেলার পশ্চিম বালিপাড়া গ্রামের খলিল তালুকদারের স্ত্রী নাছরিনের (২৮) মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
তিনি আরও বলেন চতুর্থ দিনে উদ্ধারকাজে অংশ নিয়েছে নৌবাহিনী, কোস্টগার্ড ও ফায়ার সার্ভিসের একাধিক দল। নৌযান ও ট্রলার নিয়ে নদীর বিভিন্ন এলাকায় এখনও নিখোঁজদের সন্ধানে উদ্ধার অভিযান অব্যহত রেখেছেন তারা।
মঙ্গলবার সকালে প্রমত্তা পানগুছি নদীতে খেয়া পারাপারের ট্রলারডুবির ঘটনায় এখনো যারা নিখোজ রয়েছে তাদের মধ্যে রয়েছেন, উপজেলার পল্লীমঙ্গল গ্রামের বাচ্চু মিয়ার ছেলে রাহাত (১০ মাস), উত্তর ফুলহাতা গ্রামের মহসিন হোসেন ছেলে হাসিব (৬)।
মোরেলগঞ্জ থানার তদন্ত ওসি তারকনাথ বিশ্বাস বলেন, নিখোঁজের তালিকায় থাকা মোরেলগঞ্জ বারইখালী ইউনিয়েনের উত্তর সুতালড়ী গ্রামের হাফেজ আব্দুল আজিজের স্ত্রী কামরুননেছা (৫৮) দুর্ঘটনার দিন ট্রলারেই ওঠেনি।
তিনি এখন বাড়িতে রয়েছেন। ওই দিন তার স্বজনেরা তাকে বাড়িতে না পেয়ে নিখোঁজের তালিকায় নাম লিখিয়েছেন বলে তিনি দাবি করেন। বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ায় তার নাম তালিকা থেকে বাদ দেয়া হয়েছে।
শওকত আলী বাবু/এফএ/এমএস