দলীয় প্রতীক নৌকার প্রার্থীর প্রচারণায় অংশ না নিয়ে উল্টো বিদ্রোহী প্রার্থীকে জয়ী করতে কাজ করছে জেলা যুবলীগ সাধারণ সম্পাদকসহ জেলা ও থানার একাধিক শীর্ষ নেতা-কর্মী। ফেনী সদর উপজেলার বালিগাঁও ইউপি নির্বাচনে নৌকা ঠেকাতে এখানে দলের একটি অংশ কোমর বেঁধে মাঠে নেমেছে। শুরুতে নেপথ্যে থেকে কলকাঠি নাড়লেও নির্বাচনের দিন যত ঘনিয়ে আসছে ততই তারা প্রকাশ্যেই নৌকার বিপক্ষে বিদ্রোহী প্রার্থীর প্রচার-প্রচারণায় মাঠে নেমেছেন। জেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক শুসেন চন্দ্র শীলের নেতৃত্বে ফেনীর আওয়ামী রাজনীতির শীর্ষ নেতারা দলীয় প্রার্থীর বিপক্ষে স্বয়ং মাঠে নামায় দলীয় ত্যাগী নেতাকর্মীরা পড়েছেন বিপাকে। সেই সঙ্গে হুমকি-ধামকিরও অভিযোগ রয়েছে অহরহ। সরেজমিন শহরতলীর এ ইউনিয়ন ঘুরে দেখা যায়, যেখানে সারা জেলায় নৌকার দাপটে ধানের শীষসহ অন্য প্রার্থীরা অসহায় সেখানে ব্যতিক্রম বালিগাঁও। এখানে বরং নৌকার প্রার্থীসহ তার সমর্থকরা সব সময় নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। বর্তমান চেয়ারম্যান ও জেলা ছাত্রলীগের এক সময়ের সাধারণ সম্পাদক মোজাম্মেল হক বাহার এ ইউনিয়নে নৌকার প্রার্থী। অন্যদিকে, তাকে ঠেকাতে দলের একাংশ ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি আবুল কালাম আজাদকে সমর্থন দিয়েছেন। বিশেষ করে গত ক’দিন জেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক শুসেন চন্দ্র শীল বিদ্রোহী প্রার্থীর আনারস প্রতীকের পক্ষে প্রকাশ্য প্রচার-প্রচারণায় নামায় স্থানীয় নেতাকর্মীদের একাংশ নৌকা বিরোধী প্রচারণায় সরব। এদের মধ্যে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক কামাল উদ্দিন, সদর উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক আবদুর শুক্কুর মানিক, জেলা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি জিয়াউদ্দিন বাবলু, ইউনিয়ন যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক মো. জহির সক্রিয় রয়েছেন। অন্যদিকে, দলীয় প্রার্থী বাহারকে নিয়ে মাঠে রয়েছেন ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ সভাপতি জিয়াউল হাসান চৌধুরী কায়েস, সদর উপজেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক করিম উল্লাহ আজাদ ও জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক হানিফ কিরন।নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয় একাধিক আওয়ামী লীগ নেতা জানান, দলের ত্যাগী নেতা হিসেবে পরিচিত বাহারকে জেলা আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে মনোনয়ন দেয়ায় নেতাকর্মীরা যেমন সন্তুষ্ট তেমনি ভিন্ন দলের কাছেও রয়েছে তার জনপ্রিয়তা। বাহারকে সমর্থন দিয়ে ভিন্ন দলের নেতাকর্মীরাও এখানে এবার নৌকায় ভোট দেবে। এটা স্থানীয় রাজনীতিতে আওয়ামী লীগের এক ধরনের বিজয়। তবে এ বিজয়ে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে নিজ দলের একটি অংশ। জেলা যুবলীগের প্রভাবশালী নেতা শুসেন শীলের বিরাগভাজন হওয়ায় তিনি বিগত নির্বাচনে যেমন দলীয় মনোনয়ন বঞ্ছিত হয়েছেন তেমনি এবারের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে মনোনয়ন পেয়েও দলের একাংশের বাধার মুখে পড়েছেন। এলাকায় নৌকার পোস্টার-ফেস্টুন ছিঁড়ে ফেলা ছাড়াও প্রচার-প্রচারণায় রীতিমত বাধা দেয়া হচ্ছে। এছাড়া দলীয় নেতাকর্মীদেরও হুমকি-ধামকি এমনকি পুলিশি হয়রানির ভয় দেখানো হচ্ছে। এসব বিষয়ে জেলা-উপজেলা নেতাদের অবহিত করা হচ্ছে বলে তারা জানান।তাদের মতে, চলমান ইউপি নির্বাচনে বিএনপি অধ্যুষিত এ জেলায় জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নিজাম উদ্দিন হাজারী এমপির নেতৃত্বে দলের বিদ্রোহ কঠোর হস্তে দমন করায় এর সুফল পাচ্ছে আওয়ামী লীগ। শুধু চেয়ারম্যান নয়, মেম্বার পদেও আওয়ামী লীগ সমর্থিতদের জয়জয়কার। সেখানে বালিগাঁও ইউনিয়নের উল্টো চিত্র নিয়ন্ত্রণ না করলে জেলা আওয়ামী লীগ প্রশ্নবিদ্ধ হবে।অপরদিকে, আনারস মার্কার সমর্থকদের দাবি, চেয়ারম্যান থাকাকালীন বাহার কোনো ধরনের উন্নয়ন না করায় এলাকায় জনবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছেন। এছাড়া দলীয় কর্মকাণ্ডেও তার কোনো ভূমিকা নেই। কেন্দ্রে তদবির করে দলীয় মনোনয়ন পেলেও স্থানীয় নেতাকর্মীরা তাকে মানতে পারছে না। এছাড়া, আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর বালিগাঁওতে শুসেন চন্দ্র শীলের নেতৃত্বে ব্যাপক উন্নয়ন হয়েছে। তাই তার নির্দেশনা অনুযায়ী দল ও এলাকার স্বার্থে তরুণ প্রার্থী আবুল কালাম আজাদের আনারস প্রতীককে জয়ী করতে দলীয় নেতাকর্মীরা কাজ করছে।তবে এ বিষয়ে জেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক শুসেন চন্দ্র শীল জাগো নিউজকে বলেন, কারো মঞ্চে যাওয়া মানে তার পক্ষে কাজ করা না। আমিতো ধানের শীষের প্রচারণাও অংশ নিয়েছি।এ ব্যাপারে জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আবদুর রহমান বিকম জাগো নিউজকে বলেন, জেলা ও কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে মোজাম্মেল হক বাহারকে নৌকার মনোনয়ন দেয়া হয়েছে। তবে স্থানীয় নেতৃত্বের সঙ্গে মোজাম্মেল হক বাহারের অ্যাডজাস্ট হচ্ছে না । এ ব্যাপারে জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নিজাম উদ্দিন হাজারী এমপি শিগগিরই সিদ্ধান্ত দিবেন বলে তিনি জানান।জহিরুল হক মিলু/এসএস/পিআর