কুষ্টিয়ায় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা (ইজিবাইক) চালক সুজন সিকদার (২৮) হত্যা মামলার তিন আসামিকে গ্রেফতার করেছে র্যাব। গ্রেফতারকৃতরা হলেন- ঝিনাইদহ জেলার কয়ারগাছী আবাসন প্রকল্প এলাকার আমজেদ হোসেনের ছেলে শরীফুল ইসলাম শরিফ, কুষ্টিয়া সদর উপজেলার আলামপুর দত্তপাড়া এলাকার খন্দকার ইউনুস আলীর ছেলে রাকিবুল ইসলাম আসাদ এবং ঝিনাইদহ জেলার বড় খড়িখালী এলাকার আব্দুল গনি মোল্লার ছেলে রাজু মোল্লা। মঙ্গলবার বেলা ১১টায় প্রেস ব্রিফিংয়ের মাধ্যমে গ্রেফতারের কথা জানান র্যাব-১২-এর কুষ্টিয়ার কোম্পানী কমান্ডার মেজর মোসাদ্দেক ইবনে মুজিব। প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি জানান, সোমবার দুপুরে ইবি থানার বিত্তিপাড়া বাজারে তারা সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড ঘটানোর লক্ষ্যে একত্রিত হচ্ছিলো এমন গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র্যাব সদস্যরা অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করেন। পরে তাদের জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে শরীফুল ইসলাম শরিফ ভোড়ামারায় ইজিবাইক চালক সুজন সিকদারকে হত্যার কথা স্বীকার করেন এবং ছিনতাইকৃত ইজিবাইকটি ঝিনাইদহ জেলার কয়ারগাছীতে রয়েছে বলেও স্বীকার করেন। পরে র্যাব সদস্যরা সেখানে অভিযান চালিয়ে ছিনতাইকৃত ইজিবাইকটি উদ্ধার করেন। এ সময় কুষ্টিয়া সদর উপজেলার আলামপুরে রাকিবুল ইসলাম আসাদের বাড়ি থেকে একটি বিদেশি পিস্তল, দুই রাউন্ড তাজা গুলি ও একটি ম্যাগাজিন উদ্ধার করা হয়। র্যাবের এই কর্মকর্তা আরো জানান, হত্যাকাণ্ডের ৩ দিন আগে আসামিরা ঝিনাইদহ থেকে ইজিবাইক ছিনতাইয়ের লক্ষ্যে কুষ্টিয়ায় আসে। এ সময় আসামি রাকিবুল ইসলাম আসাদ তার এক বন্ধু সুজন সিকদারের ইজিবাইকটি ভাড়া নিয়ে কুষ্টিয়া শহরের মজমপুর থেকে ভেড়ামারার উদ্দেশ্যে রওয়ানা হয়। পরে ভেড়ামারা উপজেলার সাতবাড়িয়া এলাকায় নির্জন স্থানের একটি লিচু বাগানে পৌঁছালে তারা সুজন সিকদারকে উপর্যুপরি কুপিয়ে হত্যা করে মৃত্যু নিশ্চিত করে।হত্যার পর আসামিরা ভেড়ামারা রেলস্টেশন এলাকায় রাত্রীযাপন করে। পরদিন সকালে আলমডাঙ্গা হয়ে ঝিনাইদহ সদরে গিয়ে সেখানে ইজিবাইকটি বিক্রির চেষ্টা করে। এ ব্যাপারে শরীফুল ইসলাম শরিফ ও রাকিবুল ইসলাম আসাদের বিরুদ্ধে অস্ত্র আইনে মামলা হয়েছে এবং রাজু মোল্লাকে সিআইডিতে হস্তান্তর করা হয়েছে বলেও জানান র্যাবের এই কর্মকর্তা।আল-মামুন সাগর/এফএ/এবিএস