গত ২৪ ঘণ্টা ধরে কুমিল্লা নগরীসহ পুরো জেলায় থেমে থেমে বৃষ্টি হচ্ছে। বৃহস্পতিবার ঈদের দিন সকালেও বৃষ্টি থাকতে পারে বলে আবহাওয়াবিদরা আশঙ্কা করছেন। কিন্তু গত বছরের ঈদ-উল ফিতরের নামাজের ন্যায় এ বছরও কুমিল্লার মুসলিল্লদের জন্য কোনো সুখবর শুনাতে পারেননি কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশন কর্তৃপক্ষ। ঈদের দিন দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কারণে বৃষ্টি থাকার আশঙ্কা থাকলেও উন্মুক্ত ঈদগাহে নেয়া হয়নি আগাম কোনো প্রস্তুতি। খোলা মাঠে বৃষ্টিতে ভিজেই নামাজ পড়তে হবে মুসল্লিদের। তবে সিটি কর্পোরেশন কর্তৃপক্ষ ঈদগাহের চার পাশে এবং নগরীর কয়েকটি স্থানে ফোয়ারায় আলোক সজ্জার মাধ্যমে নগরবাসীর দৃষ্টি আকর্ষনের চেষ্টা করলেও নামাজ আদায়ের স্থানে বৃষ্টি থেকে রক্ষা করতে কোনো ব্যবস্থা না নেয়ায় অন্যান্য সকল উদ্যোগই এখন ভেস্তে যেতে চলেছে। জানা যায়, গত বছরের ঈদ উল ফিতরের নামাজের সময় নগরীর কেন্দ্রীয় এ ঈদগা মাঠে বৃষ্টিতে ভিজে মুসল্লিদের নাকাল অবস্থার সৃষ্টি হয়। এ সময় অনেকেই সিটি কর্পোরেশন কর্তৃপক্ষের প্রতি চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেন। কিন্তু এ বছরও একই চিত্র। ঈদ-উল ফিতরের নামাজের জন্য দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার বিষয়টি আমলে নেয়নি সংশ্লিষ্টরা। এতে বৃষ্টির আশঙ্কায় অনেক মুসল্লিই স্ব-স্ব মসজিদে ঈদের জামাতে অংশ নেয়ার কথা জানিয়েছেন। ঈদ-উল ফিতর উপলক্ষে কুমিল্লা নগরীর কেন্দ্রীয় ঈদগাহে সকাল সাড়ে ৮টায় ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। এতে ইমামতি করবেন নগরীর কান্দিরপাড় জামে মসজিদের পেশ ইমাম মাওলানা ক্বারী মো: ইব্রাহীম। কুমিল্লা সিটি মেয়র মনিরুল হক সাক্কু নগরবাসীকে ঈদগাহে এসে নামাজ আদায় করার জন্য আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি সকলকে নিজ নিজ জায়নামাজ, চাদর, বিছানা ও ছাতা নিয়ে কেন্দ্রীয় ঈদগাহে ঈদের নামাজে শরীক হওয়ার আহ্বান অনুরোধ করেছেন। ঈদের দিন সকালে বৃষ্টি থাকলে বিকল্প হিসেবে ঈদগাহের দক্ষিণ পাশে জিমনেশিয়ামে নামাজ আদায়ের কথা রয়েছে। এদিকে দেশের অন্যান্য সিটি কর্পোরেশন কর্তৃপক্ষ ঈদগাহে বৃষ্টি থেকে মুসল্লিদের রক্ষা করতে ছাউনীর ব্যবস্থা করলেও কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশন কর্তৃপক্ষ কেন ব্যবস্থা নেয়নি, এমন প্রশ্নের জবাবে সিটি মেয়র মনিরুল হক সাক্কু জানান, ‘আবহাওয়ার উপর কারও হাত নেই, আল্লাহ ভরসা। তিনি আরও জানান, গত বছরও বৃষ্টিতে ভিজে হাজার হাজার লোক নামাজ আদায় করেছে, এ বছরও বৃষ্টি হলে মুসল্লিরা নামাজ আদায় করবে।মো. কামাল উদ্দিন/এমএএস/এমএস