দেশজুড়ে

পাট চাষে আগ্রহ হারাচ্ছেন কুমিল্লার কৃষকরা

পাটের ন্যায্য মূল্য না পাওয়া, মাঠ পর্যায়ে কৃষি বিভাগ কর্তৃক কৃষকদেরকে পাট চাষে উৎসাহী না করা এবং সরকারিভাবে পাট চাষে কোনো ভর্তুকি না দেয়ায় পাট চাষে ক্রমেই আগ্রহ হারাচ্ছেন কুমিল্লার কৃষকরা। জেলার ১৬ উপজেলার মধ্যে ৫টি উপজেলায় চলতি মৌসুমে পাট চাষ শূণ্যতে নেমে এসেছে। এছাড়া অপর উপজেলা গুলোতেও লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হয়নি। জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর সূত্রে জানা যায়, চলতি মৌসুমে এ জেলায় ১ হাজার ৭৩১ হেক্টর জমিতে পাট চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়। এর মধ্যে দেশি ১ হাজার ৩৩১ হেক্টর এবং তোষা ৪০০ হেক্টর জমিতে। কিন্তু লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হয়েছে মাত্র ১ হাজার ৬২৬ হেক্টর জমিতে। এর মধ্যে দেশি ১ হাজার ২৩১ হেক্টর এবং তোষা ৩৯৫ হেক্টর। অপরদিকে, এ বছর জেলার আদর্শ সদর, সদর দক্ষিণ, চৌদ্দগ্রাম, নাঙ্গলকোট ও বরুড়া উপজেলায় পাট চাষের পরিমাণ শূণ্যতে নেমে এসেছে। কৃষি বিভাগের তথ্যানুসারে এ বছর সর্বাধিক পাট চাষ হয়েছে হোমনা, মুরাদনগর, ব্রাহ্মণপাড়া ও দেবিদ্বার উপজেলায়।দেবিদ্বার উপজেলার সাইচাপাড়া গ্রামের কৃষক বজলু মিয়া ও শব্দর আলী জানান, পাট বিক্রি করে যে টাকা পাওয়া যায় ওই জমিতে অন্য ফসল করলে তার দ্বিগুন টাকা পাওয়া যায়। তবে জ্বালানী হিসেবে ব্যবহার করতে কিছু জমিতে এ বছর পাট চাষ করেছি। তারা আরও জানান, স্থানীয় বাজারে পাটের ভালো মূল্য না থাকায় তারা পাট চাষ কমিয়ে সেখানে অন্য ফসল চাষ করছেন। এসময় তারা পাট চাষে সরকারি সহায়তা কামনা করেন। কুমিল্লা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক কৃষিবিদ আসাদুল্লাহ জানান, পাটের স্বর্ণালী যুগ আবারো ফিরে আসছে। বর্তমান সরকার পাট জাত পণ্যের উৎপাদন, ব্যবহার ও বিপণনের বিষয়ে ভর্তুকিসহ নানা পদক্ষেপ নিয়েছেন। ভবিষ্যতে সরকার পাট চাষে কৃষকদের আগ্রহী করতে ভর্তুকি দেয়ার চিন্তা-ভাবনা করছে। এতে কৃষকরা পাট চাষে আরও আগ্রহী হয়ে উঠবেন।  কামাল উদ্দিন/এফএ/এবিএস