দেশজুড়ে

টানা ৪১ বছর রোজা রাখছেন সুখিরন নেসা

`পরের ক্ষেতে ঝাল, মুগ কলাই তুলে ও চানাচুর ফ্যাক্টরিতে কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করেন ৬৯ বছর বয়সী সুখিরন নেসা। সারাদিন রোজা রাখার পরও তিনি খাবারের জন্য কারো বাড়ি যান না। তিনি এখনোও নিজের কাজ নিজেই করেন।` কথাগুলো জানালেন প্রতিবেশী যুবক মঞ্জুর আলম।তিনি আরো জানান, `গত ৪১ বছর তিনি একটানা রোজা রাখছেন। রোজা তার হারিয়ে যাওয়া সন্তানের জন্য। শুধু বছরের বিশেষ কয়েকটি দিন বাদে তার এই রোজা বাদ যাওয়ার কথা আমরা শুনিনি।`সেই বড় ছেলে শহিদুল ইসলাম বলেন, `আমার জন্য মা কষ্ট করে রোজা রাখেন। আমি রোজা রাখতে নিষেধ করলেও তিনি শোনেন না। অসুখ বিসুখ হলেও তিনি রোজা ভাঙেন না। মায়ের এই অবদানের ঋণ আমি কোনো দিন শোধ করতো পারবো না।`১২ মাস রোজা রাখা নিয়ে সুখিরন নেছা স্মৃতিচারণ করে বলেন, `তার বয়স যখন ২৬ বছর, তখন বড় ছেলে শহিদুল ইসলাম হারিয়ে যান। দীর্ঘদিন খুঁজেও ১১ বছর বয়সী শহিদুলকে কোথাও খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না।’তিনি গ্রামের মসজিদ ছুঁয়ে প্রতিজ্ঞা করেন যে, আল্লাহ পাকের সন্তুষ্টির জন্য বারো মাস রোজা রাখবেন।এরপর দেড় মাস পর একদিন তার হারিয়ে যাওয়া সন্তান নিজ বাড়ির আঙিনায় ফিরে এসে ‘মা’ বলে ডাক দেয়। তারপর থেকেই সুখিরন স্থানীয় মসজিদের ইমাম হাফেজ তপু মিয়ার পরামর্শে বারো মাস রোজা রাখা শুরু করেন।আহমেদ নাসিম আনসারী/এসএস/পিআর