আজ ১৪ আগস্ট। নওগাঁর ধামইরহাট কৃষক হত্যা দিবস। উপজেলার সীমান্তবর্তী এলাকা কুলফৎপুর গ্রামে পাকিস্তানি বাহিনী নারকীয় হত্যাযজ্ঞ চালিয়ে ১৪ জন নিরীহ কৃষককে হত্যা করে। সেই থেকে দিনটি উপজেলাবাসীর কাছে শোক দিবস হিসেবে পালিত হয়ে আসছে।জানা যায়, পাক হানাদার বাহিনী এলাকার নিরীহ মানুষের উপর নির্মম অত্যাচার আর নারকীয় হত্যাযজ্ঞ, নারী ধর্ষণ, অগ্নি সংযোগ চালিয়ে বিভীষিকাময় পরিস্থিতি সৃষ্টি করেছিল। উপজেলাকে স্বাধীন করতে প্রাণ দিতে হয়েছিল ২০ জন সাধারণ মানুষকে। এদেশীয় রাজাকার, আলবদর, আল সামস বাহিনীর সহযোগিতায় ১৯৭১ সালে ১৪ আগস্ট বেলা সাড়ে ১১টার দিকে পুরো গ্রামটিকে ঘিরে ফেলে পাক হানাদার বাহিনী। গ্রামবাসী আগে থেকে কিছুই আঁচ করতে পারেনি। গ্রাম থেকে একে একে যুবকদের ধরে নিয়ে গ্রামের পূর্ব পার্শ্বে পুকুর পাড়ে লাইন করে ব্রাশ ফায়ার চালায় পাকবাহিনী। এতে ঘটনাস্থলে ১৪ জন নিরীহ কৃষক মারা যায়। সেই বিভীষিকাময় দিনে প্রাণ হারায় তজমুদ্দীন, বিজুমুদ্দীন, আব্বাস আলী, রহিম উদ্দীন, ফয়জুল ইসলাম, আফতাব উদ্দীন, তায়েজ উদ্দীন, ছয়েফ উদ্দীন, কছিমুদ্দীন, আমজাদ হোসেন, চানমুদ্দীন, অবির উদ্দীন, মতিবুল ইসলাম ও আবেদ আলী। সেই থেকে ১৪ আগস্ট ওই গ্রামের জন্য একটি বেদনাদায়ক স্মৃতি হয়ে আছে। যে স্থানে ১৪ কৃষককে হত্যা করা হয় সেখানে আজো কোনো স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণ করা হয়নি। বর্তমানে জায়গাটি গো-চারণ ক্ষেত্র হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। দেশ স্বাধীন হওয়ার প্রাক্কালে মুক্তিযোদ্ধা ও মিত্র বাহিনীর আক্রমণে উপজেলার আগ্রাদ্বিগুন, মাহীসন্তোষ গড়, ফার্শিপাড়া ক্যান্টনমেন্ট, ধামইরহাট থানা ভবন, হরিতকীডাঙ্গা নয়াপুকুর, পাগল দেওয়ান ক্যান্টনমেন্ট এলাকায় অবস্থানরত পাকবাহিনী ভয়ে কেঁপে ওঠে। তারা অস্ত্র ও খাকি পোশাক ফেলে পালাতে শুরু করে। ১৯৭১ সালের ১২ ডিসেম্বর ধামইরহাট উপজেলা পাক হানাদার মুক্ত হয়। দীর্ঘ ৪৫ বছর পার হলেও স্বাধীনতার জন্য যারা আত্মহুতি দিয়েছিলেন তাদের কবরগুলো আজ গোচারণ ভূমিতে পরিণত হয়েছে। তাছাড়া নিহতের পরিবারগুলোর খোঁজও নিতে আসেনি কেউ।এ ব্যাপারে এলাকার প্রবীণ সাংবাদিক মুক্তিযোদ্ধা মোজাম্মেল হক বলেন, স্বাধীনতার ৪৫ বছর পরও ওই স্থানে শহীদ স্মৃতিস্তম্ভ নির্মিত না হওয়ায় আমরা জাতি হিসেবে লজ্জিত। ধামইরহাট মুক্তিযোদ্ধা সংসদের কমান্ডার আব্দুর রউফ বলেন, শহীদদের স্মৃতি রক্ষার্থে মুক্তিযোদ্ধা সংসদ সর্বাত্মক চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। আশা করি শিগগিরই ওই জায়গাটিতে স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণ করা সম্ভব হবে। আব্বাস আলী/এসএস/এমএস