কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলা সদরের রাজাপালং ও রত্নাপালং ইউনিয়ন ছাড়া বাকি ৩ ইউনিয়নের প্রায় লক্ষাধিক মানুষ নাগরিক সুবিধাহীন জীবন কাটাচ্ছেন। বিশেষ করে উপজাতি অধ্যুষিত জনপদ জালিয়াপালং ইউনিয়নের মনখালী, পালংখালী ইউনিয়নের তেলখোলা, মোছারখোলা এলাকার গ্রামীণ জনপদের অসংখ্য খাল, ছড়া, নালা, জলাশয় ও ভাঙন পারাপারে বাঁশের সাঁকোই তাদের একমাত্র ভরসা। গ্রামবাসীর অভিযোগ, জাতীয় ও ইউপি নির্বাচনে প্রার্থীরা এসব জনপদের যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নে প্রতিশ্রুতি দিয়ে ভোট আদায় করলেও নির্বাচনের পর আর কারো দেখা মিলে না। পালংখালী ইউনিয়নের তেলখোলার লোকজন জানায়, থাইংখালী থেকে তেলখোলা পর্যন্ত মাত্র সাড়ে ৩ কিলোমিটারের দূরত্ব। সড়কের এ অংশটি সংস্কার করে যান চলাচলের উপযোগী করে দেয়ার দাবি ছিল দীর্ঘদিনের। এ সত্ত্বেও ওই সড়কের উপর কোনো জনপ্রতিনিধির সুনজর পড়েনি। ফলে বর্ষাকালে তেলখোলা মোছারখোলার মাধ্যমিক স্তুরের প্রায় শতাধিক শিক্ষার্থীকে ৬ কিলোমিটার পথ পায়ে হেঁটে আসা যাওয়া করতে হয়। বনবিভাগের স্থানীয় হেডম্যান বাউনু চাকমা জানান, অনুন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থার কারণে এখানকার মানুষ শিক্ষা, স্বাস্থ্য, সুপেয় পানি, উৎপাদিত পণ্য বাজারজাতকরণসহ সার্বিক বিষয়ে সুবিধা বঞ্চিত। এটি যুগ যুগ ধরে চলে আসায় গা সওয়া হয়ে গেছে। স্থানীয় ইউপির সাবেক সদস্য মানিক চাকমা জানান, ইউনিয়ন পরিষদের বার্ষিক উন্নয়ন বরাদ্ধে বৈষম্যের কারণে তেলখোলা-মোছারখোলা এলাকায় বিগত ৫ বছর কোনো উল্লেখযোগ্য উন্নয়ন করা যায়নি। যে কারণে বিগত ইউপি নির্বাচনে স্থানীয় ভোটাররা তাকে প্রত্যাখ্যান করেছে। হলদিয়াপালং ইউনিয়নের স্থানীয় ইউপি সদস্য সরওয়ার আলম বাদশা অভিযোগ করে জানান, গোবিশন ঝুরার উপর নির্মিত স্লুইচ গেইটটি ধসে পড়ার কারণে অত্র এলাকার ৫ গ্রামের প্রায় ১০ হাজার মানুষের যোগাযোগ ব্যবস্থা বন্ধ হয়ে যায়। এমতাবস্থায় বাঁশের সাঁকো দিয়ে কোনো রকম পারাপার হলেও তা ক্ষণস্থায়ী।তিনি জানান, উক্ত স্লুইচ গেইটটি পুনঃনির্মাণ বা সংস্কারের ব্যাপারে প্রশাসনের বিভিন্ন দফতরে যোগাযোগ করেও কোনো কাজ হয়নি। জালিয়াপালং ইউনিয়নের মাদারবনিয়া গ্রামের থোয়ামং চাকমা জানান, অনুন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থার কারণে নৃতাত্ত্বিক জনগোষ্ঠীর অধিকাংশ ছেলে মেয়ে প্রাথমিক শিক্ষা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। স্থানীয় চেয়ারম্যান নুরুল আমিন চৌধুরী তথ্যের সত্যতা স্বীকার করে বলেন, গত ৫ বছরে এলাকার কোনো উন্নয়ন হয়নি। যে কারণে গ্রামীণ জনপদের অসংখ্য মানুষ নাগরিক সুবিধা থেকে বঞ্চিত হয়ে আসছে। উখিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকতা মো. মঈন উদ্দিন জানান, সরকার প্রত্যন্ত জনপদের প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ। এসব ভোগান্তির বিষয়ে হয়তো যথাযথ উপস্থাপন হয়নি বলে সমাধান আসেনি। এখন বিষয়টি সম্পর্কে তদারকি করে সংশ্লিষ্ট বিভাগের সহযোগিতায় গুরুত্ব সহকারে ব্যবস্থা নেয়া হবে।সায়ীদ আলমগীর/এসএস/এবিএস