দেশজুড়ে

ঘরে ঘরে বইছে আনন্দের ফল্গুধারা

আগামী কাল (০৭ অক্টোবর) শুক্রবার। সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সর্ববৃহৎ উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা। উৎসবকে ঘিরে ইতোমধ্যে সনাতন ধর্মালম্বীদের ঘরে ঘরে আনন্দের ফল্গুধারা বইছে। বহু প্রাণের ফল্গুধারার মধ্য দিয়ে আগামী কাল শুক্রবার পর্দা উঠবে এ আয়োজনের। নানা ধর্মীয় মাঙ্গলিক আচার অনুষ্ঠানে দেবীর ষষ্ঠাদি কল্পারম্ভের মধ্য দিয়ে শুরু হবে ৫দিনব্যাপী এই উৎসব। এজন্য এখন যশোরের ৮ উপজেলায় ৬২৭টি মন্দির ও মণ্ডপে চলছে আনন্দময়ীর আগমনী প্রস্তুতি। জেলা পূজা উদযাপন পরিষদ জানিয়েছে, গতবছর জেলায় ৬৪০টি মন্দির ও মণ্ডপে শারদীয় দুর্গাপূজা হয়েছিল। এবছর ৬২৭টি মণ্ডপে হবে। এবছর সবচেয়ে বেশি সদর উপজেলায় ১৩৫টি স্থানে পূজা অনুষ্ঠিত হবে। এর মধ্যে শহরের ৪৩ মন্দির ও মণ্ডপ রয়েছে। এছাড়া অভয়নগরে ১১৭টি, কেশবপুরে ৮৯টি, মণিরামপুরে ৮২টি, বাঘারপাড়ায় ৮৩টি, চৌগাছায় ৪৮টি, ঝিকরগাছায় ৪৭টি ও শার্শায় ২৬টি মন্দির ও মণ্ডপে দুর্গোৎসব অনুষ্ঠিত হবে। এদিকে উৎসব যেন নির্বিঘ্নে অনুষ্ঠিত হয় তার জন্য নানা পদক্ষেপ নিয়েছে জেলা প্রশাসন। এ উপলক্ষে বৃহস্পতিবার জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে প্রস্তুতিমূলক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় পূজা উদযাপন পরিষদের নেতৃবৃন্দ বিশেষ মনিটরিং সেল, দর্শনার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত, মণ্ডপের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ ও যানজট নিরসনের দাবি জানান। সভায় সভাপতিত্ব করেন যশোরের জেলা প্রশাসক ড. হুমায়ুন কবীর। এ সময় উপস্থিত ছিলেন জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি শহিদুল ইসলাম মিলন, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মুহাম্মদ সোহেল হাসান, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) সাবিনা ইয়াসমিন, জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি অসীম কুন্ডু, সাধারণ সম্পাদক দীপংকর দাস রতনসহ জেলা ও বিভিন্ন উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের নেতৃবৃন্দ।  জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি অসীম কুন্ডু বলেন, পূজায় সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য প্রশাসনের পাশাপাশি পরিষদের পক্ষ থেকেও প্রতিটি মণ্ডপে স্বেচ্ছাসেবক উপস্থিতি নিশ্চিত করা হয়ে থাকে। এবার একই ব্যবস্থা করা হয়েছে।জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক দীপংকর দাস রতন জানান, গতবারের চেয়ে এবছর যশোরে ১৩টি মন্দির ও মণ্ডপে পূজা কম হচ্ছে। কারণ হিসেবে তিনি বলেন, প্রধানত জলাবদ্ধতায় মণ্ডপগুলোতে পূজা আয়োজনের উপযোগী পরিবেশ নেই। প্রতিবারের মতো এবারো যশোরে সাড়ম্বরে দুর্গোৎসব উদ্যাপনের জন্য সবার উপস্থিতি ও সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।মিলন রহমান/এএম/পিআর