পাঁচদিনের উৎসবমুখর আরতির মাধ্যমে পূজা শেষে বিশ্বের দীর্ঘতম কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতে সম্প্রীতির বন্ধনে প্রতিমা বিসর্জন সম্পন্ন হয়েছে। দুদিন ধরে অবিশ্রান্ত বৃষ্টি। বৈরী আবহাওয়াকে উপেক্ষা করে মঙ্গলবার সৈকতের বালিয়াড়িতে সব ধর্মের মানুষের উপস্থিতিতে সম্প্রীতির এক সেতুবন্ধ তৈরি হয়। আর এ বন্ধনে সকলেই এক সুরে প্রত্যয় ঘোষণা করেছেন অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ গড়ার। শেষ আরতি, ঢোলের তালে তালে ‘মা দুর্গা কি জয়’ স্লোগানে মুখরিত ছিল সমুদ্র পাড়। হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকজন শ্রদ্ধা ভালোবাসায় মাতৃবিদায়ের বিষাদপূর্ণ অশ্রু অঞ্জলির মাধ্যমে সাগরের জলে দেবী দুর্গাকে বিদায় জানায়।বেলা আড়াইটা থেকে জেলার নানা প্রান্তের প্রতিমা বহনকারী গাড়ি আসতে শুরু করে কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতে। একই সঙ্গে ভক্ত ও দর্শনার্থী ছাড়াও দেশ-বিদেশের বিপুলসংখ্যক পর্যটক বিজয়া দশমীর প্রতিমা বিসর্জনে শামিল হন। সংশ্লিষ্টদের মতে, এবারো প্রতিবারের মতো লাখো মানুষের সমাগম হয়েছে। বিসর্জনের আগে সৈকতের মুক্তমঞ্চে সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী বীরেন শিকদার। প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, অপশক্তি মনে করেছিল কয়েকজন পুরোহিতকে হত্যা করলে দেশে সম্প্রীতি বিনষ্ট হবে। কিন্তু প্রতিমা বিসর্জনে কক্সবাজার সৈকতে সব ধর্মের মানুষের উপস্থিতি তাদের ধারণাকে মিথ্যা প্রমাণিত করেছে। দেশের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক। তাই এখানে দেশি কিংবা বিদেশি কোনো নাগরিকের নিরাপত্তার ঝুঁকি নেই। শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ সব সম্প্রদায়ের মানুষের নিরাপদ ঠিকানা। জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি অ্যাড. রণজিত দাশের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক বাবুল শর্মার সঞ্চালনায় আরো বক্তব্য রাখেন স্থানীয় সংসদ সদস্য সাইমুম সরওয়ার কমল, কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (কউক) চেয়ারম্যান লে. কর্নেল (অব.) ফোরকান আহমেদ, কক্সবাজার জেলা পরিষদ প্রশাসক মোস্তাক আহমদ চৌধুরী প্রমুখ।সমাপনী অনুষ্ঠানের বক্তব্য শেষে পুরোহিতের মন্ত্র পাঠের পর ধারাবাহিক প্রতিমা বিসর্জন দেয়া হয় সৈকতে উত্তাল ঢেউয়ে।কক্সবাজারের টেকনাফ, কুতুবদিয়া ও মহেশখালী ছাড়া বাকি পাঁচ উপজেলাসহ প্রতিবেশী পার্বত্য জেলা বান্দরবান, লোহাগাড়া, নাইক্ষ্যংছড়ি ও লামা থেকে দুই শতাধিক প্রতিমা সৈকতে বিসর্জন দেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন কক্সবাজার সদর উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক অ্যাড. বাপ্পী শর্মা। তিনি বলেন, সৈকতে প্রতিমা বিসর্জনের মধ্যদিয়ে কক্সবাজারের সম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষার প্রত্যয় ঘোষণা হল। এতে শামিল হয়েছিল সকল ধর্মের মানুষ। মঙ্গলবার সকালেও ২৮৬ পূজামণ্ডপে লাখো মানুষের ঢল নামে। ভক্ত, পূজারি মণ্ডপগুলোতে ঘুরে ঘুরে মা দুর্গার প্রতি শেষ বর কামনা করেন। সায়ীদ আলমগীর/এআরএ/আরআইপি