দেশজুড়ে

তালিকা বিলম্বে ফেরত গেছে দেড় হাজার মেট্রিক টন চাল

তালিকা প্রণয়নে দেরি হওয়ায় কক্সবাজারে সরকারের খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির আওতায় ১০ টাকা কেজি ১ হাজার ৫১৬ মেট্রিক টন চাল ফেরত গেছে। এতে টেকনাফ, উখিয়া, রামু ও মহেশখালী উপকূলীয় অঞ্চলের ৫০ হাজার ৫৬৬ পরিবার চাল পাওয়া থেকে বঞ্চিত হয়েছেন।জনপ্রতিনিধিরা যথাসময়ে তালিকা প্রণয়ন করতে না পারায় সেপ্টেম্বর মাসে এসব পরিবার চাল পায়নি। জনপ্রতিনিধিদের দ্বন্দ্ব ও কিছু কিছু ক্ষেত্রে অনিয়ম-স্বজনপ্রীতির কারণে তালিকা প্রণয়নে দেরি হচ্ছে। কয়েকটি এলাকায় জনপ্রতিনিধিদের কর্মসূচি উদ্বোধনের নামে আটকে রাখা হয়েছে চাল বিক্রির কার্যক্রম। তবে এ নিয়ে খাদ্য বিভাগ ও জনপ্রতিনিধিদের পরস্পর বিরোধী বক্তব্য পাওয়া গেছে।জানা গেছে, সরকার ১০ টাকা কেজি দরে ৫০ লাখ পরিবারের মাঝে প্রথম ধাপে তিন মাস (সেপ্টেম্বর, অক্টোবর ও নভেম্বর) চাল বিতরণের উদ্যোগ নিয়েছে। ৭ সেপ্টেম্বর প্রধানমন্ত্রী চাল বিতরণ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন। জনপ্রতিনিধিরা তালিকা প্রণয়নে গড়িমসি করায় কক্সবাজার জেলায় প্রথম মাসে বিপুল সংখ্যক পরিবার বিশেষ সুবিধায় চাল পাওয়া থেকে বঞ্চিত হয়েছে।গত মাসের প্রথম সপ্তাহের মধ্যে তালিকা প্রণয়নের নির্দেশ দেয়া হলেও কক্সবাজারের ৮৭ হাজার ৭২২টি পরিবারের পূর্ণাঙ্গ তালিকা প্রণয়নে ব্যর্থ হন স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান ও মেম্বাররা। এজন্য সেপ্টেম্বর মাসে মাত্র ৩৭ হাজার ১৫৬ পরিবার ছাড়া বাকিরা চাল পাওয়া থেকে বঞ্চিত হয়েছেন। এমনকি দেড় মাস পেরিয়ে গেলেও এখনো পর্যন্ত পূর্ণাঙ্গ তালিকা প্রস্তুত হয়নি রামু, মহেশখালী, উখিয়া ও টেকনাফ উপজেলায়। এসব উপজেলায় ডিলার নিয়োগ হলেও উখিয়া উপজেলায় এখনও ডিলার পর্যন্ত নিয়োগ হয়নি। রামু, উখিয়া ও টেকনাফে জনপ্রতিনিধিদের মাধ্যমে কর্মসূচি উদ্বোধনের নামে চাল বিক্রি আটকে রাখা হয়েছে বলেও অভিযোগ উঠেছে।  জেলা খাদ্য অফিস সূত্র জানায়, জেলার ৮টি উপজেলায় ৮৭ হাজার ৭২২ কার্ডধারী পরিবারকে ১০ টাকা কেজিতে চাল দেয়া হবে। এজন্য ৬টি উপজেলায় ১২৮ জন ডিলার নিয়োগ দেয়া হয়েছে। টেকনাফ উপজেলার ডিলার নিয়োগও চূড়ান্ত করা হয়েছে। তবে উখিয়া উপজেলায় এখনো ডিলার নিয়োগ হয়নি। কার্ডধারীদের তালিকা প্রণয়নের দায়িত্ব ছিল জনপ্রতিনিধিদের ওপর। যথাসময়ে তালিকা প্রণয়ন না হওয়ায় সেপ্টেম্বর মাসে অধিকাংশ ইউনিয়নে চাল বিতরণ করা সম্ভব হয়নি। গত মাসে জেলার মাত্র ৩৭ হাজার ১৫৬টি কার্ডধারী পরিবারের মাঝে চাল বিতরণ করা হয়েছে। বঞ্চিত হয়েছে ৫০ হাজার ৫৬৬টি পরিবার। এর মধ্যে সেপ্টেম্বরে মোটেও চাল পায়নি রামু উপজেলার ১০ হাজার ৮১৬, মহেশখালীর ১৩ হাজার ২৬৫, উখিয়ার ১০ হাজার ৩২৯ ও টেকনাফের ১৬ হাজার ১৫৯ পরিবার।   উখিয়ার রত্মাপালং ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান খায়রুল আলম চৌধুরী বলেন, আমার ইউনিয়নে ১ হাজার ১২৯ জনের তালিকা চূড়ান্ত করা হয়েছে। যাচাই-বাছাই করতে গিয়ে সময় ক্ষেপণ হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘কয়েকদিনের মধ্যেই কার্ড দেয়া শুরু হবে।’ এ প্রসঙ্গে উখিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ মাঈন উদ্দিন বলেন, ‘জনপ্রতিনিধিদের কাছ থেকে তালিকা পেতে বিলম্ব হয়েছে। ইতোমধ্যেই উপকারভোগীদের তালিকা প্রণয়ন ও ডিলার নিয়োগ চূড়ান্ত করা হয়েছে। কয়েকদিনের মধ্যে চাল বিক্রি শুরু করা যাবে।’মহেশখালী উপজেলার ধলঘাটা ইউপি চেয়ারম্যান কামরুল হাসান বলেন, ‘আমার ইউনিয়নে ৫৮১ জনের তালিকা চূড়ান্ত করা হয়েছে। ১৫ দিন আগেই তালিকা জমা দেয়া হয়।’ এ প্রসঙ্গে মহেশখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ আবুল কালাম বলেন, ‘একজন ইউপি চেয়ারম্যানই আগে তালিকা দিয়েছেন। অন্যরা তালিকা দিতে দেরি করেছেন। চলতি মাসে চাল দেয়া শুরু হবে।’ খাদ্য অফিসের নীতিমালা অনুযায়ী, মাসের বরাদ্দ মাসে উত্তোলন করা না গেলে সেই বরাদ্দ বাতিল বলে গণ্য হবে। ইতোমধ্যে ৫০ হাজার ৫৬৬টি পরিবারের সেপ্টেম্বর মাসের ১ হাজার ৫১৬ মেট্রিক টন চালের বরাদ্দ বাতিল হয়ে গেছে।কক্সবাজার জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক এস এম তাহসিনুল হক বলেন, ‘যথাসময়ে জনপ্রতিনিধিদের কাছ থেকে তালিকা না পাওয়ায় সেপ্টেম্বর মাসে অর্ধেকেরও বেশি ইউনিয়নে চাল বিতরণ করা যায়নি। উখিয়া-টেকনাফে উদ্বোধনের সময় দিতে না পারার কারণে শুরু করা যাচ্ছে না। চলতি মাসের মধ্যেই জেলার ৭১ ইউনিয়নের সকল উপকারভোগীর মাঝে চাল বিক্রি করা যাবে।’ তবে সেপ্টেম্বর মাসে যারা চাল পাননি তাদের বরাদ্দ ফেরত গেছে বলে তিনি স্বীকার করেন। কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মো. আলী হোসেন বলেন, ‘বিষয়টি নিয়ে একাধিকবার ইউএনওদের তাগাদা দেয়ার পর বৈঠকও করা হয়। এক্ষেত্রে তালিকা প্রণয়ন ও অন্যান্য বিষয়ে জনপ্রতিনিধিদের ভূমিকা বেশি থাকায় তাদের উপর অনেকটা নির্ভর করতে হয়েছে। তবে দ্রুত সব ইউনিয়নের উপকারভোগীরা যাতে চাল পায় তা নিশ্চিত করা হবে।’এসএস/পিআর