দেশজুড়ে

২০ লাখ টাকার চামড়া মাত্র তিন লাখ টাকায় বিক্রি!

নওগাঁর বদলগাছীতে পুলিশের জব্দ করা প্রায় ২০ লাখ টাকা দামের দেড় হাজার পিচ গরুর চামড়া নিলামে মাত্র তিন লাখ পাঁচ হাজার টাকায় বিক্রি করা হয়েছে।আদালতের নির্দেশে সোমবার দুপুরে উপজেলার পাহাড়পুর ইউনিয়নের মালঞ্চা গ্রামে পুলিশ এই নিলামের আয়োজন করে।বদলগাছী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) হুসাইন শওকত নিলামে উপস্থিত থেকে সর্বোচ্চ দরদাতাকে চামড়াগুলো বুঝিয়ে দিয়েছেন। নিলামে অংশগ্রহণকারী কেউই চামড়া ব্যবসায়ী ছিলেন না। তবে ওই নিলাম অনুষ্ঠানের কথা চামড়া ব্যবসায়ীদের জানায়নি পুলিশ। স্থানীয় একটি সিন্ডিকেট পুলিশ প্রশাসনের যোগসাজশে আয়োজকদের ম্যানেজ করে কম দামে চামড়াগুলো কিনে নিয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।নওগাঁ জেলা চামড়া ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি মনতাজ হোসেন বলেন, গরুর চামড়া নিলামে বিক্রির কথা আয়োজকরা চামড়া ব্যবসায়ীদের জানায়নি। ১৫০০ পিচ গরুর চামড়া বর্তমান বাজার মূল্য প্রায় বিশ লাখ টাকা। অথচ মাত্র তিন লাখ পাঁচ হাজার টাকায় নিলামে বিক্রি করা হয়েছে। ইউএনও এবং থানার ওসির কাছে নিলামের বিষয়টি জানতে চাইলে কোনো সদুত্তর পাওয়া যায়নি। বিষয়টি চামড়া ব্যবসায়ী সমিতির পক্ষ থেকে নওগাঁ জেলা প্রশাসক (ডিসি) ও পুলিশ সুপারকে (এসপি) লিখিতভাবে জানানো হবে। তিনি আরো বলেন, যারা নিলামে অংশ নিয়েছিলেন তারা কেউই চামড়া ব্যবসায়ী নন। ভারতে চামড়া পাচারকারী একটি সিন্ডিকেটই স্থানীয় এক ব্যক্তির নাম দিয়ে কম দামে চামড়াগুলো কিনে নিয়েছেন। যারা ভারতে পাচারের উদ্দেশ্যে চামড়াগুলো জড় করেছিলেন তাদেরই চামড়াগুলো দেয়া হয়েছে। চামড়াগুলো ভারতে পাচার করা হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তিনি।  নাম প্রকাশ না শর্তে নিলামে অংশ নেয়া দুই ব্যক্তি জাগো নিউজকে জানান, নিলামে অংশগ্রহণ করেন ১৫/২০ জন। কিন্তু আয়োজকদের ম্যানেজ করে কম মূল্যে চামড়াগুলো কিনে নেয়া হয়েছে। আর মোটা অঙ্কের টাকা পুলিশ প্রশাসনসহ বিভিন্ন অফিসে এই টাকার ভাগ পৌঁছে দেয়া হয়েছে। এছাড়া এতে অংশ নিয়ে তারা পাঁচ হাজার করে মোট দশ হাজার ভাগ পেয়েছেন। উপজেলা দাড়িশন গ্রামের আশরাফুল ইসলাম নামে এক ব্যক্তি আগে থেকে পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসনের যোগসাজশে পাতানো নিলামের আয়োজন ঠিকঠাক করে রেখেছিলেন। এ কারণেই তিনি মাত্র তিন লাখ পাঁচ হাজার টাকায় ১৫০০ পিছ চামড়া ডেকে নিয়েছেন।বদলগাছী থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জালাল উদ্দিন বলেন, শনিবার বিকেলে মালঞ্চা গ্রামের একটি বাড়ি থেকে দেড় হাজার গরুর চামড়াসহ তিন ব্যক্তিকে আটক করা হয়েছিল। আটক ব্যক্তিরা চামড়াগুলোর বৈধ কাগজপত্র দেখাতে পারেনি। তাই চামড়াগুলো ভারতে পাচারের উদ্দেশ্যে জড়ো করা হয়েছিল বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। এ ঘটনায় থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। আদালতের নির্দেশে জব্দকৃত চামড়া সোমবার প্রকাশ্যে নিলামে বিক্রি করা হয়েছে।উপজেলার দাড়িশন গ্রামের আশরাফুল ইসলাম সর্বোচ্চ তিন লাখ পাঁচ হাজার টাকায় চামড়াগুলো কিনেছেন। নিলামের বিষয়টি চামড়া ব্যবসায়ীদের কেন জানানো হয়নি এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, আপনি মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা থানার উপ-পরির্দশক সেলিম রেজার সঙ্গে কথা বলেন।এ ব্যাপারে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই সেলিম রেজার কাছে বিষয়টি জানতে চাইলে তিনি জানান, চামড়া নিলামে বিক্রি হবে সেটি চামড়া ব্যবসায়ীরা জানতেন, তাই তাদের জানানোর প্রয়োজন মনে করা হয়নি। নিলামে ইউএনও, ওসি, ইউপি চেয়ারম্যান উপস্থিত ছিলেন। ইউএনও স্যার সর্বোচ্চ ডাকা দাতাকে চামড়া দিয়েছেন। ইউএনও হুসাইন শওকত বলেন, নিলামে ১৫ জন ব্যক্তি অংশ নিয়েছিলেন। এদের মধ্যে তিন লাখ পাঁচ হাজার টাকায় সর্বোচ্চ দরদাতা আশরাফুল ইসলামকে চামড়াগুলো দেয়া হয়েছে। জেলা প্রশাসক ড. আমিনুর রহমান জানান, বিষয়টি তার জানা নেই। তবে বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।প্রসঙ্গত, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গত শনিবার উপজেলা পাহাড়পুর ইউপির মালঞ্চা গ্রামের জোবেদা বেগমের বাড়িতে অভিযান চালিয়ে মজুদ করে রাখা ১৫০০ পিচ গুরু চামড়াসহ তিনজনকে আটক করে পুলিশ। আটকরা হলো, উপজেলার কিসমাত পাঁচ ঘড়িয়া গ্রামের সাইদুল ইসলামের ছেলে আনিছুর রহমান, মালঞ্চা গ্রামের তাহেরের ছেলে আবুল কালাম ও সিলেট কোতোয়ালী থানার রায়নগর গ্রামের মৃত ইমান আলীর ছেলে অনাহার আলী। আব্বাস আলী/এআরএ/এবিএস