দেশজুড়ে

সাঁওতালদের সঙ্গে কথা বললো বিচার বিভাগীয় তদন্ত দল

গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জে সাঁওতালদের ওপর হামলা, বাড়িঘর লুটপাট, আগুন, গুলি করে হত্যা উচ্ছেদের ঘটনায় উচ্চ আদালতের নির্দেশে গঠিত বিচার বিভাগীয় তদন্ত দল দ্বিতীয় দিনের মতো সাঁওতালপল্লীতে গিয়ে তদন্ত করেছে। এ সময় সাঁওতালদের সঙ্গে কথা বলেন তারা।বুধবার দুপুরে গাইবান্ধা চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ শহিদুল্লা গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার সাপমারা ইউনিয়নের মাদারপুর ও জয়পুরপাড়ার সাঁওতালপল্লীতে গিয়ে তদন্ত শুরু করেন। তদন্তকালে তিনি মাদারপুর গির্জার সামনে মাদারপুর ও জয়পুরপাড়ার খোলা আকাশের নিচে তাবুর (ত্রিপল) নিচে আশ্রয় নেয়া বেশ কয়েক পরিবারের সদস্য ও সাঁওতালপল্লীর স্থায়ী বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলেন।এছাড়া তদন্তকালে গত ৬ নভেম্বরের ঘটনা সম্পর্কে সাঁওতালদের পক্ষে ভূমি উদ্ধার সংগ্রাম কমিটির সাধারণ সম্পাদক শাজাহান আলীর ছেলে শফিকুল ইসলামসহ বেশ কয়েক জনের বক্তব্য রেকর্ড করেন। পরে তিনি বিকেলে রংপুর চিনিকলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. আব্দুল আউয়ালের কাছে ঘটনার বর্ণনা শোনেন। এ সময় তার বক্তব্য রেকর্ড করা হয়। তদন্তের সময় উপস্থিত ছিলেন, গোবিন্দগঞ্জ আদালতের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. তাসকিনুল হক। এর আগে, উচ্চ আদালতের নির্দেশে ২৭ ডিসেম্বর তদন্ত শুরু করেন গাইবান্ধা জেলার চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ শহিদুল্লাহ।প্রসঙ্গত, গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জের রংপুর চিনিকল কর্তৃপক্ষ ১৯৬২ সালে আখ চাষের জন্য গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার সাহেবগঞ্জ এলাকায় সাঁওতাল সম্প্রদায়ের কাছ থেকে ১ হাজার ৮৪২ একর জমি অধিগ্রহণ করে। কিন্তু দীর্ঘদিন ওসব জমিতে মিল কর্তৃপক্ষ আখ চাষ না করে স্থানীয় কিছু প্রভাবশালীর কাছে লিজ প্রদান করে। তারা লিজ নেয়ার পর ওসব জমিতে তামাক, ধান, শাক-সবজিসহ বিভিন্ন ফসলের আবাদ করতে থাকে। এছাড়া এসব জমিতে ১২টি পুকুর খনন করে মাছ চাষ করছে প্রভাবশালীরা। গত নভেম্বরের ৬ তারিখে পুলিশ-ইক্ষু শ্রমিক ও সাঁওতালদের সঙ্গে ত্রিমুখী সংঘর্ষে তিন সাঁওতালের মৃত্যু হয়। আহত হয় পুলিশসহ ৩০ জন। এ ঘটনায় পুলিশের পক্ষ থেকে একটি ও সাঁওতালদের পক্ষ থেকে দুটি মামলা করা হয়।মো. জিল্লুর রহমান পলাশ/এএম/এমএস