পাপ মোচন কিংবা পরকালে মুক্তি আশায় অনেক কিছুই করেন ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা। টঙ্গির তুরাগ তীরে আয়োজিত বিশ্ব ইজতেমায় জালাল আহম্মেদ নিজের ভাতের হোটেল বন্ধ করে চালু করেছেন ফ্রি ওজুখানা। যেখানে অসংখ্য মুসুল্লি ওজু করে ইজতেমায় ময়দানে প্রবেশ করছেন।টঙ্গি গোল চত্বরের মুখে ফুটপাতের উপর ভাতের হোটেল জালালের। কাজ করে তিনি কর্মচারী। তবে ইজতেমা আসলেই বদলে যায় জালালের হোটেলের চেহারা। খাবার বিক্রির বদলে তিনি মুসুল্লিদের ওজুর পানি সরবরাহ করেন। মুসুল্লিদের সুবিধার্থে তৈরি করেছেন ওজুখানা।এ প্রতিবেদকের কথা হয় কর্মচারি শামিমের সঙ্গে। তিনি জানান, গত বছরের ইজতেমা থেকেই এ ফ্রি ওজুখানা চালু করেন মালিক জালাল। সারা বছর ব্যবসা করলেও ইজেতমায় দুই পর্বের ৬দিন ব্যবসা করেন না তিনি।অপর কর্মচারি সবুজ জানান, আমরা মুসুল্লিদের নিরবিচ্ছিন্ন পানি সরবরাহের জন্য ওয়াসার সংযোগ নিয়েছি। ১২ টি ড্রাম কিনে তাতে পানিও মজুদ রেখেছি। যাতে করে মুসুল্লিরা পানির সংকটে না পড়ে। সকাল থেকে হাজারের বেশি মুসুল্লি এখানে ফ্রি ওজুর সেবা পেয়েছে।ইমরান নামে অপর কর্মচারি বলেন, ব্যবসার বদলে ফ্রি ওজু খানায় আমরা শ্রম দিলেও মালিক বলেছেন, বকশিসসহ আমাদের বেতন দিবেন। মুসুল্লিদের সেবা করে আমরাও সওয়াবের ভাগিদার হচ্ছি। এ ব্যাপারে জালাল আহমেদ বলেন, এ সময়ে চাইলেই ব্যবসা করতে পারতাম। ব্যবসাও বেশ চলতো। কিন্তু মুসুল্লিদের সেবা করার সুযোগ সব সময় পাবো না। সওয়াব লাভ ও গুনাহ মাফের আশায় দেশ বিদেশ থেকে লাখো মানুষ আসছেন ইজতেমায়। তাদের সেবা করতে পারাটাও তো কম সওয়াবের নয়। সে চিন্তা থেকেই ভাতের হোটেল বদলে করলাম ফ্রি ওজুখানা। ইজতেমা ময়দানে ঢোকার আগেই ওজু করতে পারায় খুশি মুসুল্লিরাও। ইব্রাহিম নামে এক মুসুল্লি জানান, ‘পরিস্কার পানি, ওজু করে হাদিয়া দিতে চাইলাম। ছেলেগুলো নেয়নি। আল্লাহ ওদের পূর্ণ সওয়াব দিন।’জেইউ/এমএমজেড/এমএস