দেশজুড়ে

স্ত্রী হত্যায় স্বামীর যাবজ্জীবন

যশোরের ঝিকরগাছা উপজেলার আটুলিয়া গ্রামে গৃহবধূ নাজমা খাতুন হত্যা মামলায় স্বামী রোকনুজ্জামানকে যাবজ্জীবন ও অর্থদণ্ড দিয়েছেন আদালত। দণ্ডপ্রাপ্ত রোকনুজ্জামান আটুলিয়া গ্রামের হাফিজুর রহমানের ছেলে।সোমবার বিকেলে এক রায়ে স্পেশাল জজ (জেলা জজ) ও বিশেষ দায়রা জজ আদালতের বিচারক নিতাই চন্দ্র সাহা এ সাজা দেন। রাষ্ট্রপক্ষে মামলাটি পরিচালনা করেন স্পেশাল পিপি এসএম বদরুজ্জামান পলাশ।তিনি জানান, ২০০৮ সালের নভেম্বর মাসে আসামি রোকনুজ্জামান চৌগাছার মোক্তারপুর গ্রামের আব্দুস সালামের মেয়ে নাজমা খাতুনকে বিয়ে করে। বিয়ের আড়াই মাসের মাথায় ২০০৯ সালের ২২ জানুয়ারি রাতে রোকনুজ্জামান তার স্ত্রী নাজমাকে শ্বাসরোধে হত্যার পর গোয়াল ঘরে ঝুলিয়ে রেখে আত্মহত্যা করেছে বলে প্রচার করে। নাজমার বাড়ির লোকজন এসে আত্মহত্যার বিষয়টি নিয়ে সন্দেহ হলে পরদিন নিহত নাজামার বাবা আব্দুস সালাম তিনজনকে আসামি করে ঝিকরগাছা থানায় একটি হত্যা মামলা করেন। নিহতের স্বামী রোকনুজ্জামানকে আটক করে আদালতে সোপর্দ করে পুলিশ। আটক রোকনুজ্জামান হত্যার কথা স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি দেয়। জবানবন্দিতে উল্লেখ করে বিয়ের পর থেকে তার স্ত্রী নাজমা তার সঙ্গে কারণে অকারণে গালিগালাজ করতো। ২২ জানুয়ারি বিকেলে নাজমা তাকে গালি দিয়ে ডাকলে কয়েকটি চড় দেয়।এরপর রাতে নাজমা তার সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করলে গলাটিপে শ্বাসরোধে হত্যার পর মরদেহ গোয়াল ঘরে ঝুলিয়ে রেখে পালিয়ে যায়। এ মামলার তদন্ত শেষে ২৩ ফেব্রুয়ারি তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই মারুফ রহমান নিহতের স্বামী রোকনুজ্জামানকে অভিযুক্ত করে আদালতে চার্জশিট জমা দেন। পুনঃতদন্ত করে আদালতে চার্জশিট জমা দেন তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই দিলীপ কুমার বিশ্বাস। এ মামলার স্বাক্ষ্যগ্রহণ শেষে আসামি রোকনুজ্জামানের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় বিচারক তাকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড ও ২০ হাজার টাকা জরিমানার আদেশ দেন। মিলন রহমান/এআরএ/পিআর