জাতীয়

বিশ্ব ব্যাংকের কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে

আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বলেছেন, বিশ্বব্যাংক যদি তাদের আস্থা ধরে রাখতে চায় তাহলে পদ্মা সেতু দুর্নীতির তদন্তে যেসব কর্মকর্তা ছিলেন তাদের বিরুদ্ধে ব্যাংকটিকে ব্যবস্থা নিতে হবে। এটি করলে শুধু বাংলাদেশ নয়, বিশ্বের অন্যান্য দেশও তাদের প্রতি আস্থা ফিরে পাবে।বৃহস্পতিবার বিচার প্রশাসন প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটে এক প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠানের উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী এ কথা বলেন।তিনি আরও বলেন, আমি পরিষ্কারভাবে বলছি, বিশ্বব্যাংক আইনের ঊর্ধ্বে নয়। কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে যদি মিথ্যা অভিযোগ দিয়ে কারও সম্মানহানি করে, তাহলে ওই ব্যক্তি নিশ্চয়ই ব্যবস্থা নিতে পারেন।পদ্মা সেতু প্রকল্পে ‘দুর্নীতির মিথ্যা গল্প বানানোর নেপথ্যে ‘প্রকৃত ষড়যন্ত্রকারীদের’ খুঁজে বের করতে হাইকোর্ট বুধবার একটি রুলও জারি করেছেন। এ বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, যখন এটা আদালতে গড়িয়েছে তখন বক্তব্য আদালতের মাধ্যমে আসাই ভালো।’মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ যখন বিশ্বব্যাংকের সদস্য হয়, তখন বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে একটি এগ্রিমেন্ট হয়। ঋণ বাতিল করলে বিশ্বব্যাংকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া যাবে না বলে কোনো বিধান সেই চুক্তিতে আছে বলে আমার মনে হয় না। সন্দেহেরবশে বিশ্বব্যাংক যে আচরণ করেছে, তার প্রতিকার চায় বাংলাদেশ।বাংলাদেশসহ পৃথিবীর অন্য দেশগুলোর আস্থা ফেরাতে পদ্মা সেতু ইস্যুতে বিশ্বব্যাংককে পদক্ষেপ নিতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন আইনমন্ত্রী আনিসুল হক। তিনি বলেন, আমার কথা হচ্ছে, বিশ্বব্যাংকের কাছে এই ব্যবহারের জন্য প্রতিকার চাই। প্রতিকার ক্ষতিপূরণ দিয়েও হতে পারে,  যেসব কর্মকর্তা আমাদের বিরুদ্ধে এই অবিচার করেছেন, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে পারেন।প্রশিক্ষণ কর্মশালার উদ্বোধন অনুষ্ঠানে বিচারকদের উদ্দেশ্যে মন্ত্রী বলেন, বিচার কাজে হস্তক্ষেপ করতে আমরা সরকার গঠন করিনি। আমরা চাই মানুষ ন্যায়বিচার পাক, বিচার বিভাগ স্বাধীন না হলে সেটা সম্ভব নয়। ৪৬ বছরে অনেক ক্ষেত্রে আমরা সেই ন্যায়বিচার পাইনি। এখন বিচার বিভাগের যে কাজ, সেটা আপনারা করবেন। বিচারক কর্মকর্তাদের কোর্সের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রতিষ্ঠানের মহাপরিচালক বিচারপতি খোন্দকার মূসা খালেদের সভাপতিত্বে আইন সচিব আবু সালেহ শেখ মো. জহিরুল হক উপস্থিত ছিলেন।অনুষ্ঠানে বিচারকদের উদ্দেশে মন্ত্রী বলেন, সহকারী জজ হিসেবে কাজ শুরু করেছিলেন, এরপর অনেক সময় চলে গেছে। এর মধ্যে পৃথিবী পাল্টে গেছে। এই কোর্স আপনাদের যুগোপযোগী হতে সাহায্য করবে।বিচার বিভাগ বর্তমান সরকারের আমলে ‘সম্পূর্ণ স্বাধীন’ দাবি করে আনিসুল হক বলেন, বিচার কাজে হস্তক্ষেপ করতে আমরা সরকার গঠন করিনি। আমরা চাই মানুষ ন্যায়বিচার পাক, বিচার বিভাগ স্বাধীন না হলে সেটা সম্ভব নয়।  ৪৬ বছরে অনেকক্ষেত্রে আমরা সেই ন্যায়বিচার পাইনি।এখন বিচার বিভাগের যে কাজ (মানুষকে ন্যায়বিচার প্রদানে), সেটা আপনারা করবেন। বিচার বিভাগ স্বাধীন হতে হলে বিচারকদের ব্যক্তিগত জীবনে আর্থিক স্বাধীনতা দরকার। এ কারণে আমরা ছোট্ট একটা অবদান হিসেবে বেতন বাড়িয়েছি।এফএইচ/এআরএস/এমআরএম/আরআইপি