কক্সবাজারের টেকনাফে অভিযান চালিয়ে ইয়াবা ও চাকুসহ ডাকাত আবদুল হাকিমের স্ত্রী-ভাই ও মিয়ানমারের এক নাগরিককে আটক করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) সদস্যরা। টেকনাফ পৌর এলাকার পুরাতন পল্লান পাড়ায় বিশেষ কায়দায় নির্মিত প্রাসাদের মতো বাড়িতে বৃহস্পতিবার বিকেলে অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়। এসময় ওই বাড়ির একটি কক্ষ থেকে অপহৃত এক যুবককে উদ্ধার করা হয়েছে। তাকে ৪ দিন আগে অপহরণ করা হয়েছিল। শুক্রবার বিকেলে বিজিবি এসব তথ্য গণমাধ্যমকে জানায়। অপহৃত যুবকের নাম মোহাম্মদ সেলিম। তিনি টেকনাফ উপজেলার সাবরাং ইউনিয়নের শাহপরীর-দ্বীপ জালিয়া পাড়ার নুর মোহাম্মদের ছেলে। উদ্ধার হওয়া যুবক সেলিম জানান, ২০ ফেব্রুয়ারি বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে টেকনাফ পৌর এলাকার কায়ুকখালী ব্রিজের উপর থেকে তাকে অপহরণ করে পুরাতন পল্লান পাড়াস্থ আব্দুল হাকিম ডাকাতের ঘরের একটি রুমে হাত-পা বেঁধে রাখা হয়। পরে মুঠোফোনে পরিবারের কাছ থেকে ৮ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে অপহরণকারীরা। টাকা না দেয়ায় তাকে বেশ কয়েকবার হত্যারও হুমকি দেয়া হয়।টেকনাফ ২ বিজিবি ব্যাটালিয়নের উপ-অধিনায়ক মেজর আবু রাসেল সিদ্দিকী জানান, এ অপহরণের খবর পেয়ে অভিযানে যায় বিজিবি। বিজিবির উপস্থিতি টের পেয়ে হাকিম ডাকাত পালিয়ে গেলেও আটক করা হয় তার ভাই কবির আহমেদ, স্ত্রী ইসমত আরা বেগম ও মিয়ানমার মংডু সিকদার পাড়া নুর আমিনকে। মুক্তিপণের জন্য ৪ দিন ধরে বাড়ির একটি কক্ষে হাত-পা বাঁধা অবস্থায় আটকে রাখা যুবক সেলিমকে উদ্ধার করা হয়েছে। এসময় উদ্ধার করা হয়েছে ৩ হাজার ৯৩৭ পিস ইয়াবা, ৭টি মোবাইল ও ২টি ধারালো চাকু । তিনি আরো জানান, ইয়াবা উদ্ধার ও বৈদেশিক নাগরিকদের আশ্রয় দেয়ার অভিযোগে তাদের বিরুদ্ধে বিজিবি হাবিলদার মো. মিনহাজ উদ্দিন বাদী হয়ে দুটি মামলা দায়ের করেছেন। টেকনাফ মডেল থানা পুলিশের অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. মাইন উদ্দিন জানান, রোহিঙ্গা ডাকাত সর্দার আব্দুল হাকিমকে পলাতক আসামি করে মাদক, অপহরণ ও বৈদেশিক নাগরিক আইনে ৩টি মামলা রুজু করা হয়েছে। হাকিম ডাকাত এ পর্যন্ত হত্যা, অস্ত্র, ডাকাতিসহ মোট ৯ টি মামলায় পলাতক রয়েছে বলে জানান ওই কর্মকর্তা।সায়ীদ আলমগীর/এমএএস/এমএস