অবশেষে কক্সবাজার শেখ কামাল আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামের জমির মালিকানা হস্তান্তর করা হয়েছে। নির্মিত স্টেডিয়ামটির ৪৯ দশমিক ১২৫ একর পরিমাপের জমিটি যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়কে হস্তান্তর করেছে কক্সবাজার জেলা প্রশাসন। মঙ্গলবার সকালে জেলা প্রশাসক মো. আলী হোসেন স্বাক্ষরিত জমির দলিলটি মন্ত্রণালয়ের হয়ে গ্রহণ করেছেন যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সচিব (ভারপ্রাপ্ত) মো. আসাদুল ইসলাম। জেলা প্রশাসনে সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ সেলিম শেখ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। জেলা প্রশাসন সূত্র জানায়, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০১১ সালের ৩ এপ্রিল কক্সবাজার জেলেপার্ক মাঠের এক জনসভায় আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়াম নির্মাণের ঘোষণা দেন। এ ঘোষণার পর জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ স্থান নির্ধারণের কাজ শুরু করে। পরে কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতের পাশে গলফ মাঠের কিছু জমি চূড়ান্তভাবে নির্ধারণ করে ক্রীড়া পরিষদ। কক্সবাজার ঝিলংজা মৌজায় ৪৯ দশমিক ১২৫ একর অকৃষি জমিতে আন্তর্জাতিক মানের স্টেডিয়াম নির্মাণ করার অনুমতি দিতে ক্রীড়া পরিষদের পক্ষ থেকে পর্যটন মন্ত্রণালয়ে আবেদন জানানো হয়।২০১৩ সালের ১৮ এপ্রিল প্রধানমন্ত্রীর অনুমোদন পাওয়ার পর ১৯ এপ্রিল বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের একটি প্রতিনিধি দল কক্সবাজারে এসে জমি বুঝে নিয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়াম নির্মাণ কাজ শুরু করে। ২০১৩ সালে ৩ সেপ্টেম্বর উখিয়ার এক জনসভায় ৩৬টি উন্নয়ন প্রকল্পের সঙ্গে ‘কক্সবাজার শেখ কামাল আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়াম’-এর ফলক উম্মোচন করেন প্রধানমন্ত্রী। ২০১৪ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি ‘কক্সবাজার শেখ কামাল আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়াম’র আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। কিন্তু গত কয়েক বছরেও ক্রিকেট মাঠের এই জমির কাগজে পত্রে মালিক হতে পারেনি যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়। পর্যটন মন্ত্রণালয়ের এই জমি সরকারের খাস খতিয়ানে এনে দীর্ঘ প্রক্রিয়া শেষে ১৪ মার্চ ক্রীড়া মন্ত্রণালয়কে হস্তান্তর করা হয়।কক্সবাজার জেলা প্রশাসনের পক্ষে জেলা প্রশাসক মো. আলী হোসেন স্বাক্ষরিত জমির দলিলটি বুঝে নিয়েছেন যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিব মো. আসাদুল ইসলাম। এ সময় জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের যগ্ম সচিব অশোক কুমার বিশ্বাস, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক কাজী আবদুর রহমানসহ পদস্থ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক মো. আলী হোসেন বলেন, জেলা প্রশাসনের মালিকানাধীন ৪৯ দশমিক ১২৫ একর অকৃষি জমি শেখ কামাল আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়াম ও ক্রিকেট কমপ্লেক্স স্থাপনের জন্য যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়কে মালিকানা হস্তান্তর করা হয়েছে। এখন জমিটি যুব মন্ত্রণালয় তাদের নিয়ন্ত্রণাধীন যেকোনো বিভাগকে দিয়ে রক্ষণাবেক্ষণ করতে পারবে। এদিকে, জমি গ্রহণের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করতে করতে গতকাল সোমবার (১৩ মার্চ) ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা কক্সবাজার আসেন। তারা ওইদিন কক্সবাজার শেখ কামাল আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়াম ও কক্সবাজার বীর শ্রেষ্ঠ রুহুল আমিন স্টেডিয়াম পরিদর্শন করেন। এ সময় ক্রীড়া সচিব বলেন, ক্রীড়া স্থাপনা নির্মাণে সব সময় দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা নিচ্ছে সরকার। যার কারণে ক্রীড়া ক্ষেত্রে এখন সফলতা অনেক বেশি। আর কক্সবাজারকে ক্রীড়ার জন্য সবচেয়ে বেশি প্রাধান্য দেয়া হচ্ছে। এ সময় উপস্থিত ছিলেন, যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব মো. ওমর ফারুক, জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ সচিব আশোক কুমার বিশ্বাস, কক্সবাজার জেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক অনুপ বড়ুয়া অপু, সহ-সভাপতি অধ্যক্ষ জসিম উদ্দিন, নির্বাহী সদস্য জসিম উদ্দিন, একেএম রাশেদ হোসাইন নান্নু প্রমুখ।সায়ীদ আলমগীর/এএম/এমএস