জলজট নিরসনে অবশেষে নালা দখল উচ্ছেদ অভিযান শুরু করেছে কক্সবাজার পৌর কর্তৃপক্ষ। বৃহস্পতিবার সকাল থেকে ভারপ্রাপ্ত মেয়র মাহবুবুর রহমানের নেতৃত্বে অভিযান চালানো হচ্ছে। শহরের বৌদ্ধমন্দির সড়কের নালার ওপর দিপালী ভবনের দখলাংশ ভেঙে এ অভিযান শুরু করা হয়। এরপর ভাঙা হয় সড়কের মাহতাবের মালিকানাধীন ভবনের নালার ওপর তৈরি ভবনের অংশ। বেলা ১২টার দিকে হাত দেয়া হয় নালার ওপর নির্মিত বলে বহুল আলোচিত আবু সেন্টারের অংশ ভাঙনের কাজে। এটি সম্পন্ন করে বাজারঘাটা ব্রিজ এলাকায় নালার ওপর তোলা শাহরাজ হোটেলে সিড়ি ভাঙা শুরু করে অভিযানকারীরা। এদিকে, অভিযান শুরু হওয়ার পর ড্রেনের ওপর গড়া ভবনের মালিকরা নিজেরাই নিজেদের দালান ভাঙার প্রতিশ্রুতি নিয়ে আসছেন। তাদেরকে সময়ও বেধে দেয়া হচ্ছে। মেয়র মাহবুবুর রহমান চৌধুরী অভিযানকালে সাংবাদিককের জানান, সামান্য বৃষ্টিতেও কক্সবাজার শহরে জলজট সৃষ্টি হয়ে জন দুর্ভোগ চরমে পৌঁছে। যা নিয়ে পৌর কর্তৃপক্ষকে নানা কটু কথা শুনতে হচ্ছে। শুনতে হয় নানা সমালোচনা। এই সমস্যা দীর্ঘদিনের হলেও ভোটের হিসেব পাল্টে যাওয়ার ভয়ে নির্বাচিত কোনো মেয়র কিংবা কাউন্সিলররা নালা দখল উচ্ছেদেও কঠিন সিদ্ধান্তে হাত দেয়নি। তিনি আরও জানান, এই অপারগতা পর্যটনকে নাজুক অবস্থায় ফেলছে। ফলে চোখ-কান বন্ধ করেই কর্তৃপক্ষ নালা দখল মুক্ত করে পানি নিষ্কাশন জারি করার উদ্যোগ নিয়েছে। মূল সমস্যা সৃষ্টিকারী ভবনগুলো এ-ক্যাটাগরিতে ফেলে বৃহস্পতিবার সকাল থেকে অভিযান শুরু করা হয়েছে। বৌদ্ধমন্দির এলাকার দিপালী ভবন দিয়ে শুরু করা ভাঙন চলমান থাকবে। আবু সেন্টারের দখল করে নালার ওপর গড়া ভবন ভেঙে দখল মুক্ত করা হয়েছে। পৌরসভার প্রশাসনিক কর্মকর্তা খোরশেদ আলম জানান, উচ্ছেদ কার্যকমে কাজ করছে ৩০ জনের অধিক শ্রমিক। সেই সঙ্গে কাটার ও ড্রেইল মেশিন এবং বিভিন্ন যন্ত্রপাতি ব্যবহার করা হচ্ছে। উচ্ছেদ অভিযানে মেয়র ছাড়াও কাউন্সিলর আশরাফুল হুদা ছিদ্দিকী জামসেদ, পৌরসভার প্রধান নির্বাহী, সচিব রাসেল চৌধুরীসহ সংশ্লিষ্ট বিভাগের সব কর্মকর্তা-কর্মচারী অংশ নেন। সায়ীদ আলমগীর/এএম/আরআইপি