সাংবাদিক আব্দুল হাকিম শিমুলের মাথায় বিদ্ধ গুলির সঙ্গে মেয়রের শটগানের গুলির মিল পাওয়ায় জেলা আওয়ামী লীগের বহিষ্কৃত সাংগঠনিক সম্পাদক পৌর মেয়র হালিমুল হক মিরু ও তার সযোগীদের ফাঁসির দাবিতে আবারও উত্তাল হয়ে উঠছে শাহজাদপুর। শিমুল হত্যায় জড়িতদের ফাঁসির দাবিতে পোস্টার ও ব্যানারে ছেয়ে গেছে শাহজাদপুরসহ সিরাজগঞ্জ জেলা।
আওয়ামী লীগ দলীয় সংসদ সদস্য থেকে শুরু করে সাংবাদিক, আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ, যুবলীগ, বিএনপি ও নিহতের স্বজনরাসহ শাহজাদপুরের হাজারো জনতা এখন মিরু ও তার ভাই মিন্টু-পিন্টুর ফাঁসির দাবিতে ঐক্যবদ্ধ।
জানা যায়, মার্চ মাসে সাংবাদিক শিমুলের মাথার ভেতর থেকে পাওয়া সিসার লেটবল, জব্দকৃত মেয়রের লাইসেন্সকৃত শটগান, কার্তুজের লেট বল ও কার্তুজের খোসার ব্যালেস্টিক রিপোর্ট ডাকযোগে সিরাজগঞ্জ সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট (শাহজাদপুর আমলী) আদালতে পাঠায় সিআইডির ব্যালেস্টিক বিভাগ। সিআইডির পাঠানোর রিপোর্টের সঙ্গে মীরুর শটগানের গুলির মিল পাওয়ায় অভিযুক্তদের ফাঁসির দাবিতে আবার উত্তাল হয়ে পড়েছে শাহজাদপুরসহ সিরাজগঞ্জ জেলা।
সিআইডির রিপোর্ট পাওয়ার পর গত ২১ মার্চ সিরাজগঞ্জ পুলিশ সুপার মিরাজ উদ্দিন আহম্মেদ তার নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের এ তথ্য নিশ্চিত করে জানান, মেয়র মীরুর লাইসেন্সকৃত শটগানে ব্যবহৃত লেটবলের সঙ্গে ভিকটিম শিমুলের মাথায় বিদ্ধ লেটবলের সাদৃশ্য পেয়েছে সিআইডি’র ব্যালাস্টিক বিভাগ।
তবে ভিডিও ফুটেজে দেখা গেছে ঘটনার সময় অন্যান্য আগ্নেয়াস্ত্র থেকেও গুলি ছোড়া হয়েছিল। এ কারণে গত ৭ মার্চ শাহজাদপুর পৌর এলাকার মনিরামপুর মহল্লায় মেয়র মীরুর বাড়ির পাশের পুকুর থেকে উদ্ধারকৃত মিন্টুর ব্যবহৃত পাইপগানটির ব্যালেস্টিক পরীক্ষার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়।
তিনি আরও জানান, সাংবাদিক শিমুল হত্যার ঘটনায় মোট ১৪ জন আসামিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। অন্যান্য আসামিদের গ্রেফতারে পুলিশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে। এছাড়াও ভিডিও ফুটেজ দেখে জড়িতদের আইনের আওতায় আনার প্রক্রিয়া চলছে।
পেশাগত দায়িত্ব পালনরত সাংবাদিকের মৃত্যু এবং শোকে তার নানির মৃত্যুকে হত্যা হিসেবে আখ্যায়িত করে মামলাটি দ্রুত বিচার আইনে গ্রহণের দাবি জানান স্থানীয় সংসদ সদস্য হাসিবুর রহমান স্বপন। একই সঙ্গে বিচার বিভাগীয় তদন্ত করে দ্রুত হত্যাকারীদের বিচার দাবি করেন তিনি।
প্রসঙ্গত, গত ২ ফেব্রুয়ারি শাহজাদপুরে মেয়র গ্রুপ ও ছাত্রলীগের একাংশের সংঘর্ষ চলাকালে পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে গুলিবিদ্ধ হন সাংবাদিক শিমুল। পরদিন ৩ ফেব্রুয়ারি ঢাকায় নেয়ার পথে তার মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় শিমুলের স্ত্রী নুরুন্নাহার বেগম বাদী হয়ে মেয়র মীরু ও তার ভাই মিন্টুসহ ১৮ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও ২৫ জনকে আসামি করে থানায় মামলা দায়ের করেন। তার মৃত্যুর সংবাদ ছড়িয়ে পড়লে ক্ষোভে ফেটে পড়ে শাহজাদপুরবাসী।
ইউসুফ দেওয়ান রাজু/এফএ/জেআইএম