দেশজুড়ে

নতুন আশা নিয়ে যশোরে নববর্ষ বরণ

যশোরে প্রাণোচ্ছ্বল আয়োজনে নববর্ষের প্রথম প্রহরকে বরণ করে নিয়েছে সর্বস্তরের মানুষ। এদিন সকালে পৌরপার্কে বসেছিল মিলনমেলা। নতুন বছরকে স্বাগত জানাতে ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সব শ্রেণি পেশার মানুষ সমবেত হন এখানে।

শহরের সব পথ যেন শেষ হয় পৌরপার্কে গিয়ে। আর এই পথ ধরে মানবস্রোতের মিলনে পৌর উদ্যান হয়ে ওঠে লোকারণ্য। উৎসব আনন্দে মাতোয়ারা পার্ক অঙ্গন।

সব বয়সের নারী, পুরুষ, শিশুদের এ মিলন মেলায় হাজির করে উদীচী যশোর। ৪২ বছর ধরে বর্ণিল বর্ষবরণ উৎসব আয়োজনে অসাম্প্রদায়িক চেতনার মানুষগুলোকে মিলনমেলায় হাজির করছে তারা। উদীচীর এ আনন্দ আয়োজনের পৃষ্ঠপোষকতায় ছিল দেশের অন্যতম বৃহৎ শিল্পগোষ্ঠি প্রাণ-আরএফএল গ্রুপ। উদীচীর চিয়ার আপ বর্ষবরণ ১৪২৪ অনুষ্ঠানে কো-স্পন্সর প্রাণ চিনিগুড়া চাল এবং পাওয়ার্ড বাই ভিশন।

পহেলা বৈশাখ ভোর ৬টা ৩১ মিনিটে শুরু হয় উদীচীর এ প্রভাতি অনুষ্ঠান। ইতোমধ্যে এ আনন্দ আয়োজন যশোরবাসীর হৃদয়ে স্থান করে নিয়েছে। হাজারো মানুষের প্রত্যাশার বিষয়টি মাথায় রেখেই প্রতি বছরের ন্যায় এবারও বর্ণিল অনুষ্ঠানমালার আয়োজন করেছে উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী।

আয়োজকরা জানান, দুই মাস আগে ডিএম শাহিদুজ্জামানকে চেয়ারম্যান ও সাজ্জাদুর রহমান খান বিপ্লবকে সদস্য সচিব করে বর্ষবরণ উৎসব পর্যদ-১৪২৪ গঠিত হয়।

‘নব প্রভাতের নব আগমনী গানে/ জাগাবো স্বদেশ প্রাণ প্রকৃতির টানে’ স্লোগানকে সামনে রেখে উদীচী যশোর এবার এই উৎসবের আয়োজন করছে। ৪২ বছর আগে পৌর উদ্যানের জোড়া সাঁকোর বর্ষবরণ উৎসবের মাধ্যমে যশোর উদীচীর বর্ষবরণের যাত্রা শুরু।

সাজ্জাদুর রহমান খান জানান, বাংলার আদি চর্যাপদের ছন্দ ‘আজিও  ভুসুক বাঙালি ভইলা’কে প্রাণে ধারণ করেই এবার অনুষ্ঠানের আয়োজন। পুরানো বছরের মলিনতাকে দূর করার প্রত্যয়ে তবলার ছন্দে প্রথম পর্বের অনুষ্ঠান শুরু হয়। পরিবেশিত হয় বিশ্ব ও প্রকৃতির বন্দনা, দেশ বন্দনা ও নতুন বছরের আবাহন গীতি।

দ্বিতীয় পর্বে কিশোর শিল্পীদের পরিবেশনায় বাংলার নানামুখী গানের একক, দ্বৈত, ত্রৈয়ী ও সম্মিলিত পরিবেশনা ছিল। ছিল পঞ্চকবির গান। সঙ্গে বাউল শাহ আব্দুল করিমের গান, কীর্তন, ছড়াগান ও প্রচলিত লোকগীতিও।

তৃতীয় পর্বে শিশু শিল্পীরা পুতুল নাচ, বৃন্দ আবৃত্তি ও গান পরিবেশন করে। চতুর্থ পর্বে ছিল যন্ত্র সংগীত ও বাংলা লোক গান। এই পর্বে লোক সংগীতের পথ প্রদর্শক প্রয়াত কালীকা প্রসাদ ভট্টাচার্য্য পরিচালিত গানের আয়োজন করা হয়। এর মাধ্যমে এই পুরাধা প্রতীমকে স্মরণ করা হয়।

পরে আবৃত্তির মাধ্যমে উপস্থাপিত হয় বিশেষ পর্ব ‘জাগাবো স্বদেশ’। এ পর্বে পাঠ্যপুস্তকে অসঙ্গতি, নারী নির্যাতন, নাসির নগর হামলা, সাঁওতাল পল্লী উচ্ছেদ, জঙ্গি হামলা ও সুন্দরবন রক্ষা আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে রচিত পরিবেশনা উপস্থাপন করা হয়। তারপর পরিবেশিত হয় কলস নৃত্য। আদিবাসীদের এই নৃত্যের পর একাল-সেকালের সুপরিচিত আধুনিক গান নিয়ে হাজির হন শিল্পীরা। সব শেষে ছিল বাউল গানের আসর।

মিলন রহমান/এআরএ/এমএস