গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলায় বনের জমি হতে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করতে গেলে বন কর্মকর্তা ও বনকর্মীদের সঙ্গে গ্রামবাসীর এক সংঘর্ষ হয়। এতে বনকর্মীসহ কমপক্ষে ১১ জন আহত হয়েছেন।
সোমবার বিকেল ৩টার দিকে স্থানীয় বরমী ইউনিয়নের গারোজন (খলারটেক) গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। আহতরা শ্রীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন।
শ্রীপুর উপজেলা বন কর্মকর্তা মো. মোজাম্মেল হোসেন জানান, গারোজন এলাকায় সরকারি বনভূমি দখল করে ঘরবাড়ি নির্মাণ করছে এমন খবর পেয়ে সেখানে উচ্ছেদে যান বনকর্মীরা।
এ সময় স্থানীয় আইন উদ্দিন ও আহসান উল্লার নেতেৃত্বে একদল উচ্ছৃঙ্খল গ্রামবাসী দা লাঠি নিয়ে তাদের ওপর হামলা চালায়। এতে হামলায় শ্রীপুর সদর উপজেলা বিট কর্মকর্তা মো. রফিকুল ইসলাম, বনপ্রহরী আনোয়ার হোসেন, সাজেদুর রহমান ও আজহারুল ইসলাম ও শংকর বীর আহত হন।
তারা বনবিভাগের দুটি মোটরসাইকেল ভাঙচুর করেছে। আহতদের মধ্যে বন প্রহরী আনোয়ার হোসেন, সাজেদুর রহমান ও আজহারুল ইসলামকে শ্রীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয় এবং অন্যরা প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন।
স্থানীয় ছালাম মিয়ার স্ত্রী পারুল বেগম বলেন, সরকারি খাস জমিতে দীর্ঘদিন ধরে বসবাস করে আসছি। কিছুদিন পূর্বে কালবৈশাখী ঝড়ে বাড়ির শৌচাগার ক্ষতিগ্রস্ত হয়। পরে শৌচাগার মেরামত করার প্রস্তুতি নিলে বন বিভাগের লোকজন এসে আমাদের কাছে ১০ হাজার টাকা দাবি করে।
দাবিকৃত টাকা পরিশোধ না করলে বনপ্রহরী নিয়ে এসে আমাদের বাড়ি উচ্ছেদের হুমকি দেয়। পরে তারা প্রতিবাদ করলে সংঘর্ষ বাধলে বন কর্মকর্তা ও বন প্রহরীরা তাদের বাড়ি ঘরে ভাঙচুর চালায়।
এ সময় উত্তেজিত গ্রামবাসী বন কর্মকর্তাদের ধাওয়া দিলে সংঘর্ষ বাধে। ওই সময় পারুল বেগমের ছেলে আলআমিন (২২), মহর আলী মেয়ে জুলেখা বেগম (২০), শমসের আলীর মেয়ে মিতাসহ ৫-৬ জন আহত হন।
তবে বন কর্মকর্তা মোজাম্মেল হক টাকা দাবির কথা অস্বীকার করে বলেন, সরকারি সম্পদ রক্ষা করতে গেলে আমাদের লোকজনের ওপর হামলা চালানো হয়।
মো. আমিনুল ইসলাম/এএম/পিআর