সন্ত্রাস নির্মূল ত্বকী মঞ্চের আহ্বায়ক ও নিহত ত্বকীর বাবা রফিউর রাব্বি বলেছেন, সাধারণত অপরাধের বিচারকার্য বিলম্ব হয় অপরাধের রহস্য উদঘাটন হয় না বলে। ত্বকী হত্যাকাণ্ডের বেলায় হয়েছে উল্টোটা। ত্বকী হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন হলেও রহস্যজনক কারণে এ হত্যাকাণ্ডের বিচার কার্যে বিলম্ব হচ্ছে। ত্বকীকে কারা খুন করেছে তা দেশবাসীর অজানা নয়। এ হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে নারায়ণগঞ্জের একটি পরিবার জড়িত।
বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় নারায়ণগঞ্জ শহরের চাষাঢ়ায় অবস্থিত কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে ত্বকী হত্যার বিচারের দাবিতে সাংস্কৃতিক জোটের মোমবাতি শিখা প্রজ্জ্বলনে তিনি এসব কথা বলেন।
রাব্বি আরও বলেন, বিগত কয়েক মাস আগে আমাদের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন ত্বকীকে কারা হত্যা করেছে তিনি জানেন। রক্ত মাখা প্যান্ট কোথায় পাওয়া গেছে তিনি জানেন। গোয়েন্দা সংস্থার রিপোর্ট তার (প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার) কাছে আছে এবং তিনি বলেছেন ত্বকী হত্যার বিচার করবেন সব কিছু জেনেও এভাবে সোয়া চার বছর বিচার বন্ধ করে রাখাকে আমরা কি করে সুশাসন বলবো? আমরা রাষ্ট্রের কাছে মানবিক চরিত্র আশা করি। আমরা ত্বকী হত্যার সঙ্গে জড়িত সকল হত্যাকারী ও হত্যার নির্দেশ দাতাদের গ্রেফতার করে অভিযোগপত্র প্রদানের নির্দেশ দেয়ার জন্য আবারো প্রধানমন্ত্রীর কাছে দাবি জানাচ্ছি।
নারায়ণগঞ্জ জেলা সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি অ্যাডভোকেট জিয়াউল ইসলাম কাজলের সভাপতিত্বে এ সময় উপস্থিত ছিলেন সাধারণ সম্পদাক ধীমান সাহা জুয়েল, নাগরিক কমিটির সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রহমান, গণসংহতি আন্দোলনের আহ্বায়ক তরিকুল সুজন, সাংস্কৃতিক জোটের সাবেক সভাপতি ভবানী সংকর রায়, জাহিদুল হক দিপু, জেলা সিপিবির সভাপতি হাফিজুল ইসলাম, বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দলের জেলা শাখার সভাপতি নিখিল দাস প্রমুখ।
প্রসঙ্গত, ২০১৩ সালের ৬ মার্চ বিকেলে নারায়ণগঞ্জের মেধাবী ছাত্র তানভীর মোহাম্মদ ত্বকী শহরের শায়েস্তাখান সড়কের বাসা থেকে বের হয়ে আর ফেরেনি। পরে ৮ মার্চ সকালে চাড়ারগোপে শীতলক্ষ্যা নদীর তীরে তার মরদেহ পাওয়া যায়। ত্বকী হত্যা মামলার আসামিদের মধ্যে ৮জনই পলাতক। আর ঘটনার সঙ্গে জড়িত সন্ধেহে পাঁচজনকে গ্রেফতার করা হয়। তাদের মধ্যে দুইজন আসামি ইউসুফ হোসেন লিটন ও সুলতান শওকত স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।
শাহাদাত হোসেন/আরএআর/জেআইএম