যশোরের মণিরামপুর উপজেলার ঝাঁপা বাঁওড়ের ইজারা নিয়ে দ্বন্দ্বে প্রকৃত মৎস্যজীবীদের ওপর হামলা ও নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় প্রভাবশালী দুই সহদর হাবিল খান ও কাবিল খানের নেতৃত্বে জেলে সম্প্রদায়ের বাড়িতে হামলা, নির্যাতন ও হুমিক দেওয়া হচ্ছে। এতে অনেকে এলাকা ছাড়া হয়েছেন। সন্ত্রাসীরা বাওড়ের মাছ লুট করছে। একইসঙ্গে মিথ্যা মামলায় ফাঁসিয়ে হয়রানিও করছে।
শনিবার দুপুরে প্রেসক্লাব যশোর মিলনায়তনে সংবাদ সম্মেলনে সোনার বাংলা মৎস্যজীবী সমবায় সমিতি সভাপতি শ্যামল বিশ্বাস এসব অভিযোগ করেন। পরে প্রেসক্লাবের সামনে থেকে বিক্ষোভ মিছিল বের করেন কয়েকশ নারী পুরুষ।
সংবাদ সম্মেলনে শ্যামল বিশ্বাস বলেন, খুলনা বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ের আপিল বিভাগের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ঝাঁপা বাওড়টি ৫৩ লাখ ৬৫ হাজার টাকায় আমাদের সমিতির নামে তিন বছরের জন্য ইজারা দেয়া হয়। কিন্তু ভূমি আপিল বোর্ডে ঝাঁপা বাওড় মৎস্যজীবী সমবায় সমিতি আপিল করলে এর কার্যক্রম স্থগিত করে দেয়।
সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বাওড়ে মাছ ধরা নিষেধ। কিন্তু মশ্মিমনগর গ্রামের হাবিব খান ও কাবিল খানের সন্ত্রাসীরা কিছুদিন ধরে গরীব জেলেদের উপর নির্যাতন শুরু করেছে। তারা সোনার বাংলা মৎস্যজীবী সমিতির সদস্য জেলেদের হুমকি ধামকি দিচ্ছে।
গত ৮ ও ৯ জুন সন্ত্রাসীরা জেলেদের মারপিট ও বাড়িতে হামলা করেছে। এই সন্ত্রাসী বাহিনী বাওড়ের মাছ লুট করে নিচ্ছে। ইতোমধ্যে অনেক হিন্দু পরিবার ভয়ে এলাকা ছেড়ে পালিয়েছে। সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানাচ্ছি।
সংবাদ সম্মেলন শেষে কয়েকশ নারী পুরুষ প্রেসক্লাবের সামনে থেকে বিক্ষোভ মিছিল বের করেন। তারা সন্ত্রাসীদের গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন।
অভিযোগের ব্যাপারে জানতে চাইলে কাবিল খান সাংবাদিকদের বলেন, আমাদের বিরুদ্ধে জেলেদের অভিযোগ সঠিক নয়। আমরা ঝাঁপা বাওড়ের কোনো কিছুতে নেই। জেলেদের মধ্যে দুটো গ্রুপ হয়ে গেছে। তারা বাওড় নিয়ে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ দিয়েছে। এজন্য বাওড়ে কার্যক্রম স্থগিত রয়েছে।
একটি চক্র বাওড়ের ইজারার ব্যবস্থা করার জন্য জেলেদের কাছ থেকে কোটি টাকা খেয়েছে। তারা এখন জেলেদের বাওড় বুঝিয়ে দিতে পারছে না। এজন্য তারা নিজেদের গা বাঁচাতে জেলেদেরকে মাঠে নামিয়েছে। রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ আমাদের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছে।
মিলন রহমান/এফএ/আরআইপি