চুম্বন হলো দু’টি প্রিয় মানুষের আবেগ প্রকাশের সবচেয়ে প্রাকৃতিক মাধ্যম। সকালের ঘুম ভাঙার মুহূর্তটা কারও কাছে রোমান্টিক, কারও কাছে অস্বস্তিকর। বিশেষ করে বাসি মুখে চুমু খাওয়া নিয়ে বিতর্ক তো আছেই। ঘুম থেকে উঠেই কারো মুখের গন্ধ সহ্য করা কঠিন মনে হলেও, চিকিৎসাবিজ্ঞান বলছে এই অস্বস্তির আড়ালেই লুকিয়ে থাকতে পারে অনেক অপ্রত্যাশিত উপকার।
মানুষের স্নেহ, বন্ধন ও ভালোবাসার মানুষটির জন্য উদ্বেগ এই সব অনুভূতি জাগিয়ে তোলে। ফলে শরীরে অক্সিটোসিন, ডোপামিন এবং সেরোটোনিন নামক ‘হ্যাপি হরমোন’ এর নিঃসরণ বেড়ে যায়। এছাড়া চুম্বন শরীরে থাকা কর্টিসোল নামক স্ট্রেস হরমোন কমাতেও সাহায্য করে।
দন্ত বিশেষজ্ঞ খালিদ কাশিম জানান, ঘুম ভাঙার পর বাসি মুখে চুম্বন দাঁতের স্বাস্থ্যের জন্যও উপকারী। চুম্বনের সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো মুখে লালার (স্যালাইভা) উৎপাদন বৃদ্ধি। এই স্যালাইভা দাঁত ও মাড়ির স্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এটি মুখের অ্যাসিডের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখে, ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়ার বিরুদ্ধে লড়াই করে এবং দাঁতের ক্ষয় রোধে সহায়তা করে।
লালা শুধু চেবানো বা খাবার গিলতে সাহায্য করে না, বরং মুখের জীবাণুর বিরুদ্ধে লড়াইও করে। তাই চুম্বনের সময় এই প্রাকৃতিক প্রক্রিয়া দাঁতের জন্য আদর্শ।
৪ মিনিটের চুমুও ইমিউনিটি ও মানসিক স্বাস্থ্যের জন্যও উপকারীদীর্ঘ সময় চুম্বনের ফলে শরীরে বিভিন্ন হরমোন নিঃসৃত হয়, যা মানসিক চাপ কমাতে সাহায্য করে। মানসিক চাপ কমলে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাও ইতিবাচক প্রভাব পায়। পাশাপাশি সঙ্গীর সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা মানসিক সুস্থতাও বাড়ায়, যা সামগ্রিক স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী।
সাবধানতা জরুরিচুমু খ্ওয়া দাঁত মাজা বা ফ্লসিংয়ের বিকল্প নয়। মুখের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে দিনে দু’বার দাঁত মাজা, নিয়মিত ফ্লসিং এবং প্রয়োজন হলে ডেন্টাল চেকআপ জরুরি। মুখের দুর্গন্ধের পেছনে থাকতে পারে ধূমপান, অতিরিক্ত কফি, রসুন,পেঁয়াজ, দীর্ঘ সময় না খাওয়া, এমনকি কিছু ওষুধের প্রভাব। কখনো কখনো হ্যালিটোফোবিয়া নামের মানসিক অবস্থায় মানুষ অকারণেও মুখে গন্ধ আছে বলে মনে হতে পারে।
সকালের চুম্বন শুধু রোম্যান্স নয়, এটি হতে পারে দিনের ইতিবাচক শুরু। দাঁতের স্বাস্থ্যে সামান্য উপকার, মানসিক ঘনিষ্ঠতা এবং ভালোবাসার প্রকাশ। সব মিলিয়ে মর্নিং কিস হয়তো এতটা খারাপ অভ্যাস নয়, যতটা আমরা ভাবি।
সূত্র:ডেইলি মেইল
আরও পড়ুন: বিয়ের আগে বর-কনের যেসব স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা উচিত ঘুম থেকে ওঠার পরের ৩০ মিনিট কী কী করবেন?
এসএকেওয়াই/