বাগেরহাটের মোল্লাহাটে একটি মর্দা হাতির আক্রমণের শিকার হয়ে তিনজন নিহত হয়েছেন। শনিবার সকালে গোপালগঞ্জ-মোল্লাহাটের সীমান্তবর্তী মধুমতী নদী পার হয়ে ওই হাতি মোল্লাহাট উপজেলার উদয়পুর ইউনিয়নের গাড়ফা গ্রামে প্রথমে হানা দেয়। সকাল সাড়ে ৭টার দিকে ওই এলাকার ফরিদ মোল্লার বাড়িতে হামলা চালিয়ে ৩টি টিনের ঘর ভেঙে ফেলে। পরে নদীর তীরে এক নারীকে হাতিটি তার সুর দিয়ে পেঁচিয়ে আছাড় দেয়। গুরুতর আহত অবস্থায় ওই মহিলাকে উদ্ধার করে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তির পর তিনি মারা যান। প্রায় একই সময়ে হাতির হামলার শিকার হয়ে মোল্লাহাটের আটজুড়ি গ্রামের বোয়ালিয়া কাহালপুর এলাকায় এক নারীকে এবং পার্শ্ববর্তী গ্রাম বাসাবাটির অপর এক নারীকে পদপিষ্ট করে মেরে ফেলে। বর্তমান ওই হাতিটি বাসাবাটি গ্রামের একটি বাগানে অবস্থান করছে বলে মোল্লাহাট থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জানান।মোল্লাহাট থানা পুলিশের ওসি আনম খাররুল আনম জাগো নিউজকে জানান, শনিবার ভোরের দিকে পার্শ্ববর্তী গোপালগঞ্জের ঘোনা পাড়ায় বেঁধে রাখা পুরুষ হাতিটি শিকল উপড়ে ভর নদী পার হয়ে মোল্লাহাট উপজেলায় ঢুকে পড়ে। শনিবার সকালে উদয়পুরের গাড়ফা এলাকায় নদীর তীরে মনোয়ার বেগম নামের এক নারীকে সুর দিয়ে পেঁচিয়ে আছাড় দিয়ে আহত করে। পরে পাকা সড়ক দিয়ে হাতিটি বোয়ালিয়া কাহালপুর পেট্রলপাম্পের কাছে আরেক নারীকে পদপিষ্ট করে মেরে ফেলে। এক পর্যায়ে ওই হাতিটি পার্শ্ববর্তী বাসাবাটি গ্রামে গিয়ে হানা দিয়ে তাণ্ডব শুরু করে। এসময়ে বাসাবাটি গ্রামের এক নারী হাতির পায়ের নীচে চাপা পড়ে মারা যান। উন্মত্ত হাতিটি বাগেরহাটের সার্কাস মালিক আবুল কামাল মোল্লার হাতি বলে ওসি জানান।এদিকে সার্কাস পরিচালনার সঙ্গে জড়িত আবুল কালাম মোল্লার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জাগো নিউজকে বলেন, ওই হাতির মালিক সিলেটের বিশ্বনাথ এলাকার মতিউর রহমান। একই মালিকের অপর একটি মায়া হাতি তিনি ভাড়ায় এনে সার্কাস খেলা দেখাচ্ছিলেন। শুক্রবার তার ওই মায়া হাতিটি মালিকের কাছে পৌঁছে দেবার জন্য পাঠানো হয়েছে। তিনি জানান, গত ৩ দিন আগে ওই পুুরুষ হাতিটিকে মায়া হাতির কাছে প্রজনন করার জন্য আনা হয়েছিল। প্রজননের পর মায়া হাতিটি ঢাকার উদ্দেশ্যে শুক্রবার সকালে রওনা হয়। এসময়ে পুরুষ হাতিটিও তার পেছন পেছন যায় বলে তিনি জানান। তবে শুক্রবার মায়া হাতিটি ঢাকার উদ্দেশ্যে চলে গেলেও পুরুষ হাতিটিকে তার মালিক গোপালগঞ্জ রেখে টাকা তুলছিলেন বলে তিনি জানান। ওই পুরুষ হাতির আক্রমণের শিকার হয়ে ৩ জনের মুত্যুর খরবও তিনি শুনেছেন বলে জানান। হাতির আক্রমণের শিকার হয়ে নিহতদের মধ্যে রয়েছেন বাগেরহাট সদর উপজেলার যাত্রাপুর এলাকার ইয়াছিন আলীর স্ত্রী মনোয়ার বেগম। অন্য নিহতের মধ্যে রয়েছেন, মোল্লাহাটের আটজুড়ি ই্উনিয়নের বাসাবাটি গ্রামের ফুল মিয়ার ছেলে মিজানুর রহমান ও উদয়পুর ইউনিয়নের গাড়ফা গ্রামের যতীন্দ্রনাথ বিশ্বাসের স্ত্রী কুলসুম বিশ্বাস। শওকত আলী বাবু/এমজেড/এমএস