শিক্ষা

যশোর বোর্ডে কমেছে পাসের হার ও জিপিএ-৫

চলতি বছর এসএসসি পরীক্ষায় যশোর মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডে পাসের হার ও জিপিএ-৫ প্রাপ্তি দুটোই কমেছে। গত বছরের তুলনায় পাসের হার ৮ শতাংশ এবং জিপিএ-৫ প্রাপ্তি এক-তৃতীয়াংশ কমে গেছে। শনিবার এসএসসি’র ফল প্রকাশের পর এ চিত্র উঠে এসেছে। পরীক্ষা চলাকালে হরতাল-অবরোধ এবং গণিতে সৃজনশীল প্রশ্নের কারণে ফলাফলের এ পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। চলতি ২০১৫ সালে যশোর বোর্ড থেকে ১ লাখ ২৮ হাজার ১৭৫ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ১ লাখ ৭ হাজার ৬৯৮ জন উত্তীর্ণ হয়েছে। এদের মধ্যে ছাত্র ৫৫ হাজার ৯ জন ও ছাত্রী ৫২ হাজার ৬৮৯ জন। পাসের হার ৮৪ দশমিক ০২ ভাগ। এ বছর জিপিএ-৫ পেয়েছে ৭ হাজার ১৮১ জন শিক্ষার্থী। এদের মধ্যে ছাত্র ৪ হাজার ১৩১ ও ছাত্রী ৩ হাজার ৫০ জন। অথচ গত বছর এ বোর্ড থেকে ১ লাখ ২৯ হাজার ১৮৩ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ১ লাখ ১৯ হাজার ৯৭ জন উত্তীর্ণ হয়েছিল। পাসের হার ছিল ৯২ দশমিক ১৯ ভাগ। ২০১৪ জিপিএ-৫ পেয়েছিল ১০ হাজার ৯৪৪ জন শিক্ষার্থী। স্মরণকালের মধ্যে ২০১৪ সালেই যশোর বোর্ড শ্রেষ্ঠ ফলাফল অর্জন করেছিল। যশোর মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড সূত্রে জানা যায়, চলতি বছর যশোর বোর্ডে জিপিএ-৫ প্রাপ্তির সংখ্যা কমে দাঁড়িয়েছে ৭ হাজার ১৮১ তে। অথচ গত বছর এ সংখ্যা ছিল ১০ হাজার ৯৪৪। গত বছরের তুলনায় এবার জিপিএ-৫ প্রাপ্তির সংখ্যা কমেছে ৩ হাজার ৮১৩।   সূত্র মতে, এ বছর যশোর বোর্ডে তাক লাগানোর মত ফলাফল করেছে বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থীরা। এই বিভাগ থেকে ২৭ হাজার ১৮৭ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে পাস করেছে ২৫ হাজার ৯৭৬ জন। জিপিএ-৫ পেয়েছে ৬ হাজার ৫৭০ জন। জিপিএ-৫ প্রাপ্তির ক্ষেত্রে এগিয়ে আছে ছেলেরা। সর্বোচ্চ এ ফল অজর্নকারীদের মধ্যে ৩ হাজার ৯১০ জন ছাত্র ও ২ হাজার ৬৬০ জন ছাত্রী। এই বিভাগে পাসের হার ৯৫ দশমিক ৫৫ ভাগ। গতবছর এই বিভাগ থেকে জিপিএ-৫ প্রাপ্তির সংখ্যা ছিল ৮ হাজার ১৬১ জন। আর পাসের হার ছিল ৯৫ দশমিক ৯৫ ভাগ। গত বছরের চেয়ে এবার ফলাফল কিছুটা নিম্নমুখি হলেও অন্য বিভাগের তুলনায় সন্তোষজনক। ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগ থেকে ৩৭ হাজার ৩১২ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিয়ে পাস করেছে ৩২ হাজার ৮৯৫ জন। পাসের হার ৮৮ দশমিক ১৬ ভাগ। গত বছর এ হার ছিল ৯৫ দশমিক ৬৬ ভাগ। এই বিভাগ থেকে এ বছর জিপিএ-৫ পেয়েছে ৪৫৮ জন। গতবছর এ সংখ্যা ছিল ২ হাজার ২৯১ জন। জিপিএ-৫ প্রাপ্তির ক্ষেত্রে এই বিভাগে ছাত্রীরা এগিয়ে রয়েছে। ২৭৩ জন ছাত্রী জিপিএ-৫ পেলেও ছাত্রের সংখ্যা ১৮৫। এছাড়া মানবিক বিভাগ থেকে ৬৩ হাজার ৬৭৬ জন ছাত্রছাত্রী পরীক্ষায় অংশ নিয়ে পাস করেছে ৪৮ হাজার ৮২৭ জন। পাসের হার ৭৬ দশমিক ৬৮ ভাগ। জিপিএ-৫ পেয়েছে ১৫৩ জন। এই বিভাগে ১১৭ জন ছাত্রী জিপিএ-৫ পেলেও ছাত্রদের মধ্যে পেয়েছে ৩৬ জন। গত বছর এ বিভাগ থেকে জিপিএ-৫ পেয়েছিল ৪৯২ জন। আর পাসের হার ছিল ৮৮ দশমিক ৭০ ভাগ।যশোর মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষাবোর্ডর পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক প্রফেসর মাধব চন্দ্র রুদ্র জানিয়েছেন, গত বছরের তুলনায় যশোর বোর্ডের ফলাফল এ বছরে খারাপ হয়েছে। এর কারণ হিসেবে তিনি উল্লেখ করেছেন, পরীক্ষা চলাকালীন হরতাল অবরোধের জন্য পরীক্ষার সূচি বারবার পরিবর্তিত হয়েছে। এর প্রভাব শিক্ষার্থীদের ওপর পড়েছে। এছাড়া গণিতে সৃজনশীল প্রশ্নপত্রের কারণে শিক্ষার্থীরা কিছুটা সমস্যায় পড়েছেন। মিলন রহমান/এসএস/এমএস