যশোর সদর উপজেলার বসুন্দিয়া ক্যাম্পের এসআই ফজর আলীসহ ৭ পুলিশ ও আনসার সদস্যের নামে আদালতে মামলা হয়েছে। পারিবারিক কলহের জের ধরে প্রতিবেশী ব্যবসায়ী ও তার পার্টনারকে মারপিট ও চাঁদাদাবির অভিযোগে এ মামলা করা হয়।
সোমবার সদর উপজেলার গাইদগাছি গ্রামের মুক্তিযোদ্ধা ওহাব মুন্সির ছেলে পরিবহন ব্যবসায়ী বিটু আহমেদ এ মামলা করেছেন।
সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আমলী আদালতের (যশোর কোতোয়ালি) বিচারক নুসরাত জাবীন নিম্মী অভিযোগটি গ্রহণ করে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনকে (পিবিআই) তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের আদেশ দিয়েছেন। আসামিরা হলেন, বসুন্দিয়া পুলিশ ক্যাম্পের এসআই ফজর আলী, এএসআই ওবাইদুর রহমান, কনস্টেবল আলমগীর, লুৎফর রহমান, রফিকুল ইসলাম ও আনসার নায়েক নুর নবী, সিপাহী রুহুল আমিন।
এ ঘটনায় পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ অভিযোগের সত্যতা পেয়ে এসআই ফজর আলীকে ক্লোজড করেছে।
মামলার অভিযোগে জানা গেছে, পরিবহন ব্যবসায়ী বিটু আহমেদ যশোর সদর উপজেলার গাইদগাছি গ্রামে একটি বাড়িতে ভাড়া থাকতেন। একই বাসার অপর ফ্লাটে ভাড়া থাকতেন এসআই ফজর আলী। তিনি প্রতিদিন গভীর রাতে বাসায় ফিরলে বিকট শব্দে মোটরসাইকেলের হর্ন বাজিয়ে ও ডাকাডাকি করে স্ত্রীকে ঘুম থেকে ডেকে তুলতেন। এতে প্রতিবেশীদের ঘুমের ব্যঘাত ঘটতো। বিষয়টি বিটু আহমেদ বাড়ির মালিককে জানান। বাড়ির মালিক অভিযোগটি এসআই ফজর আলীকে বলেন। এতে ফজর আলী বিটু আহমেদের উপর ক্ষিপ্ত হন। গত ৯ জুন সন্ধ্যায় এসআই ফজর আলী প্রতিবেশী বিটু আহমেদের স্ত্রীকে ডেকে গালিগালাজ করেন।
খবর পেয়ে বিটু আহম্মেদকে মোবাইল ফোনে সংবাদ দিলে তিনি ও তার ব্যবসায়িক পার্টনার ব্যবসায়ী শরিফুল ইসলামকে সঙ্গে নিয়ে বাসায় আসেন।
এসময় শরিফুল ইসলাম এসআই ফজর আলীর কথার প্রতিবাদ করলে বসুন্দিয়া ক্যাম্পে ফোন করে তিনি অপর আসামিদের ডেকে নিয়ে আসেন। আসমিরা একত্রে বিটু আহমেদ ও রফিকুল ইসলামকে বেদম মারপিট করে ক্যাম্পে নিয়ে যান। ক্যাম্পে নিয়ে তাদের আরও এক দফা মারপিট করার ফলে রফিকুল ইসলামের পা ভেঙে যায়। এসআই ফজর আলী তাদের ক্রসফায়ারের ভয় দেখিয়ে ৫০ লাখ টাকা দাবি করে। এরমধ্যে স্থানীয়দের সংবাদের ভিত্তিতে কোতয়ালি থানা পুলিশ তাদের উদ্ধার করে যশোর হাসপাতালে ভর্তি করে।
গুরুতর আহত রফিকুল ইসলামকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ভারত ও বর্তমানে ঢাকার পঙ্গু হাসপাতালের প্রফেসর আব্দুল গণি মোল্লার অধীনে চিকিৎসাধীন আছেন। দীর্ঘদিন চিকিৎসা শেষে দুইজন কিছুটা সুস্থ হওয়ায় সোমবার বিটু আহমেদ আদালতে এ মামলা করেছেন।
মিলন রহমান/এমএএস/এমএস