কারো মৃত্যু সংবাদ পেলে সবার আগে ছুটে যেতেন তিনি। নিজ হাতে কবর খোঁড়াসহ মৃতের দাফন-কাফনের যাবতীয় ব্যবস্থা করতেন নিজ উদ্যোগে।
দীর্ঘ প্রায় ৩০ বছর ধরে এলাকায় এমন নিঃস্বার্থ কাজ করে আসছিলেন তিনি। এমনকি নিজের মৃত্যুর দিনেও এর ব্যতিক্রম ঘটেনি।
রোববার সকালে বরিশালের বাবুগঞ্জের খানপুরা গ্রামের আব্বাস উদ্দিনের স্ত্রী মনোয়ারা বেগমের মৃত্যু সংবাদ পেয়ে বরাবরের মতো ছুটে যান তিনি।
একইভাবে মরহুমার জন্য কবর খোঁড়া ও বাঁশ কাটাসহ দাফন-কাফনে নেতৃত্ব দিয়ে বাড়ি ফিরে দুপুরে নিজেই মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন বাবুগঞ্জের খানপুরা গ্রামের সবার প্রিয়জন রহমতপুর ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক সদস্য মোসলেম আলী খান (৬৫)।
রোববার দুপুর আড়াইটার দিকে নিজ বাড়িতে ইন্তেকাল করেন তিনি। ব্লাড ক্যান্সারে ভুগছিলেন তিনি। মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী, এক ছেলে, চার কন্যাসহ অসংখ্য আত্মীয়-স্বজন ও গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।
তার মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে উপজেলার খানপুরা এলাকায় তার বাবার বাড়িতে হাজার হাজার শোকার্ত জনতার ঢল নামে। খানপুরা গ্রামজুড়ে শোকের ছায়া নেমে আসে। রোববার রাতে এশার নামাজের পর তার জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।
তার মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী রাশেদ খান মেনন, বরিশাল-৩ (বাবুগঞ্জ-মুলাদী) আসনের এমপি অ্যাডভোকেট শেখ মো. টিপু সুলতান, বাবুগঞ্জ উপজেলা চেয়ারম্যান এস.এম খালেদ হোসেন স্বপন, উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি কাজী ইমদাদুল হক দুলালসহ, আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ, যুবলীগ, বিএনপি, জাতীয় পার্টি এবং ওয়ার্কার্স পার্টি ছাড়াও বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।
উল্লেখ্য, এলাকায় সবার প্রিয়জন এবং বিপদের বন্ধু হয়ে ওঠা মোসলেম আলী খান একাধিকবার রহমতপুর ইউনিয়নের ৪নং ওয়ার্ডের সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন।
মৃত্যুর আগমুহূর্ত পর্যন্ত তিনি মানবসেবার অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করে গেছেন। একজন পরোপকারী মানুষ হিসেবে দলমত নির্বিশেষে সকলের প্রিয়পাত্র মোসলেম আলী খানের মৃত্যুতে খানপুরা এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
সাইফ আমীন/এএম/আইআই