সারাদেশের মতো ঝালকাঠিতেও ১ অক্টোবর থেকে শুরু হয়েছে মা ইলিশ নিধনবিরোধী কার্যক্রম। মৎস্য বিভাগের সহায়তায় ভ্রাম্যমাণ আদালত নদীতে নিয়মিত টহল দিয়ে জেলেদের আটক ও জাল জব্দ করে আগুনে পুড়িয়ে ফেলছে। এ অভিযান চলবে ২২ অক্টোবর পর্যন্ত।
শুধু মা ইলিশই নয়, নদীতে চলছে সবধরনের মাছ ধরায় নিষেধাজ্ঞা। কিন্তু প্রতিবছর জাটকা ও মা ইলিশ নিধনবিরোধী অভিযান পরিচালনার আগে জেলেদের সরকারিভাবে সহায়তা করা হলেও এ বছর এখন পর্যন্ত জেলেদের কোনো সহায়তা আসেনি। তাই অর্ধাহার ও অনাহারে মানবেতর জীবনযাপন করছেন জেলেরা।
জেলেরা জানান, সরকারি হিসাব অনুযায়ী ঝালকাঠি জেলায় জেলে রয়েছেন ৪ হাজার ৬শ ৩০ জন, এর মধ্যে সহায়তার তালিকায় রয়েছে ১ হাজার ৪শ ৬০ জনের নাম। যা জেলেদের সংখ্যার ৩ ভাগের ১ ভাগ।
জেলেরা বলছেন, একেতো সংখ্যার চেয়ে সহায়তা কম তারউপর এখন পর্যন্ত কোনো সহায়তা না আসায় ছেলে-পুলে নিয়ে অর্ধাহার-অনাহারে দিন কাটাতে হচ্ছে।
জেলা মৎস্য অধিদফতর সূত্রে জানা গেছে, ঝালকাঠি জেলার ৪ উপজেলায় নিবন্ধিত জেলে রয়েছেন ৪ হাজার ৬শ ৩০ জন। এদের মধ্যে সরকারি সহায়তার তালিকায় রয়েছে ১ হাজার ৪শ ৬০ জনের নাম।
জেলেরা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, আমাদের একমাত্র উপার্জনের মাধ্যম হলো নদীতে জাল ফেলে ইলিশ ধরা। ইলিশ সামুদ্রিক মাছ হলেও এখানকার মিঠা পানির ইলিশের চাহিদা সারা বছর দেশজুড়ে। ঝালকাঠি জেলায় প্রকৃত পেশাদার জেলেদের সংখ্যার চেয়ে সহায়তার বরাদ্দ ৩ ভাগের এক ভাগ। তার উপর আবার এখন পর্যন্ত কোনো সহায়তাই আসছে না। তাহলে চাল, তেল, মসলা ও তরকারি পাবো কোথায়?
জেলা মৎস্য কর্মকর্তা প্রীতিষ কুমার মন্ডল বলেন, ২০১৬-১৭ অর্থ বছরের অধীনে ভিজিডি চাল সহায়তা এখনও এসে পৌঁছায়নি। তাড়াতাড়ি প্রেরণের জন্য মন্ত্রণালয়ে চিঠি লেখার প্রস্তুতি নিচ্ছি। সেখান থেকে বরাদ্দ পেলেই আমরা দিতে পারবো।
আতিকুর রহমান/এফএ/এমএস