সাতক্ষীরার তালা উপজেলার পাটকেলঘাটা থানার ধানদিয়া ইউনিয়নের আলিপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শ্রেণিকক্ষে চলছে রমরমা কোচিং বাণিজ্য। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জিয়াদ আলীর ভাতিজা সোহাগ হোসেন বিদ্যালয়েই চালাচ্ছেন কোচিং বাণিজ্য। সঙ্গে রয়েছেন একই এলাকার আব্দুল আহাল আলীর ছেলে বাপ্পী। ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে অবৈধ এ কোচিং বাণিজ্য চালিয়ে যাচ্ছেন তারা।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় এক ব্যক্তি জাগো নিউজকে বলেন, কোচিং চলে সকাল সাড়ে ৬টা থেকে ৯ টা পর্যন্ত। এরপর ৯টা থেকে বিদ্যালয়ের কার্যক্রম শুরু হয়। তারপর বিকেল সাড়ে ৩টা থেকে ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্রছাত্রীদের কোচিং করানো হয়। সন্ধ্যা ৬টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত চলে অন্যান্য ব্যাচের কোচিং। ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে বিদ্যালয়ের ৪টি শ্রেণিকক্ষে চলছে কোচিং বাণিজ্য।
তিনি আরও বলেন, বেয়াইনিভাবে ব্যবহার করা হচ্ছে সরকারি বিদ্যালয়ের চেয়ার, বেঞ্চ, টেবিলসহ অন্যান্য আসবাবপত্র। সরকারি প্রতিষ্ঠানের আসবাবপত্র নিজ স্বার্থে ব্যবহার করায় এলাকাবাসী ক্ষিপ্ত হলেও কেউ মুখ খুলতে সাহস পায় না। তাছাড়া কোনো সরকারি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষও এতদিন কোনো ব্যবস্থা নেয়নি।
অনুসন্ধানে জানা যায়, আলিপুর ডিজিটাল কোচিং সেন্টারের পরিচালক মো. সোহাগ হোসেন তার ছোট ভাই মো. সোহরাফ হোসেন (বাপ্পি), নগরঘাটা চোকারকান্দা গ্রামের উত্তম কুমার সরদার, গৌতম কুমার সরদার, গাবতলা গ্রামের মো. লিটন হোসেন, নগরঘাটা খাঁন পাড়ার মিল্টন হোসেন, নগরঘাটা বাঁজপাড়ার মো. সিদ্দিক হোসেনের সহযোগিতায় কোচিং বাণিজ্য চালিয়ে যাচ্ছেন।
আলিপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জিয়াদ আলী জাগো নিউজকে বলেন, বিদ্যালয়ে কোচিং করানো সম্পূর্ণরুপে বেআইনি। কিন্তু বিদ্যালয়ের কয়েকটি কক্ষ তারা কোচিংয়ের জন্য ব্যবহার করে। সকালে ও রাতে কোচিং করায়। আমি বলেও বন্ধ করতে পারেনি।
এ বিষয়ে আলিপুর ডিজিটাল কোচিং সেন্টারের পরিচালক মো. সোহাগ হোসেন জাগো নিউজকে বলেন, বিদ্যালয়টি কোচিংয়ের জন্য ব্যবহার করা হচ্ছে না। তবে মাঝে মধ্যে সন্ধ্যার পরে কিছু বাচ্চাকে পড়ানো হয়।
তালা উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. ফরিদ হোসেন জানান, বিদ্যালয়ে কোচিং করানো সম্পূর্ণরুপে বেআইনি। বিষয়টি আমার জানা ছিল না। এ ব্যাপারে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।
আকরামুল ইসলাম/আরএআর/জেআইএম