দেশজুড়ে

শিশুকে যৌন হয়রানি, অভিযুক্তকে তাবলিগে পাঠানোর সিদ্ধান্ত

নাটোরের সিংড়ায় দ্বিতীয় শ্রেণির এক শিশু শিক্ষার্থীকে যৌন হয়রানির পর গ্রাম্য সালিশে মাতব্বররা অভিযুক্তকে ৪ হাজার টাকা জরিমানা করেছেন। জরিমানার টাকার মধ্যে ৩ হাজার টাকার মিষ্টি উৎসব করেছে গ্রাম প্রধানরা।

এ সময় অভিযুক্তকে জুতার মালা পড়িয়ে গ্রামে ঘুরানোর পর তাকে ছেড়ে দেয়া হয়েছে। গত রোববার গভীররাতে সিংড়া উপজেলার ভাগনাগরকান্দি স্কুল পাড়ায় এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় বুধবার সকালে সিংড়া থানায় একটি অভিযোগ দাখিল করা হয়েছে।

সলিশি বৈঠকে শেরকোল ইউনিয়নের স্থানীয় ইউপি সদস্য জাফর ইকবাল বাবু, গ্রাম প্রধান মতলেব আলী, ওয়াজেদ আলীসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

সিংড়া থানা পুলিশ ও লিখিত অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, যৌন হয়রানির শিকার এ শিশু শিক্ষার্থীর বাড়ি সিংড়া উপজেলার ভাগনাগরকান্দি গ্রামে। সে স্থানীয় ভাগনাগরকান্দি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী। গত ২৯ অক্টোবর দুপুর সাড়ে ১২টায় ওই শিক্ষার্থী স্কুল থেকে বাড়ি ফেরার পথে একই গ্রামের আফসার আলী (৭০) নামের এক ব্যক্তি শিশু শিক্ষার্থীকে মুখ চেপে ধরে তার শয়ন কক্ষে নিয়ে গিয়ে যৌন হয়রানি করে। এ সময় শিশুটির চিৎকারে তার ফুপুসহ গ্রামবাসীরা ছুটে এসে তাকে উদ্ধার করে। এ সময় যৌন হয়রানিকারী আফসার আলীকে হাতেনাতে ধরে ফেলেন।

খবর পেয়ে অভিযুক্তের ছেলে সোহেল ও জামাই সেলিম এসে তাকে ছাড়িয়ে নিয়ে যায়। পরে রাতেই অভিযুক্তের জামাই সেলিম হোসেনের ভগ্নিপতি হাসেন আলীর বাড়িতে স্থানীয় ইউপি সদস্য জাফর ইকবাল বাবুর পরিচালনায় শালিসি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে গ্রাম প্রধান মতলেব আলী, ওয়াজেদ আলীসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গরা উপস্থিত ছিলেন।

এ সময় গ্রাম প্রধানরা অভিযুক্তকে ৪ হাজার টাকা জরিমানা করে ৩ হাজার টাকার মিষ্টি বিতরণ করে। আর আফসার আলীকে জুতার মালা দিয়ে এক পাক ঘুরিয়ে শিশু যৌন হয়রানির বিচার সমাপ্ত করেন গ্রাম্য মাতবররা।

শিশু শিক্ষার্থীর বাবা ও মা বলেন, তাদের শিশু মেয়েকে দাদির কাছে রেখে তারা দু’জনই নাটোর শহরের একটি ব্রয়লারে শ্রমিকের কাজ করেন। শিশুটি দাদির কাছে থেকে স্থানীয় প্রাথমিক বিদ্যালয়ে লেখাপড়া করে। এ ঘটনার পর থেকেই অভিযুক্তরা বিভিন্নভাবে তাদেরকে হুমকি-ধামকি দিচ্ছেন এবং জোড় করে একটি সাদা কাগজে স্বাক্ষর করে নিয়েছে।

স্থানীয় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক তুহিন উদ্দিন বলেন, ২৯ অক্টোবর ওই শিক্ষার্থী স্কুল শেষে বাড়ি চলে যায়। এর পর থেকেই গত ৩দিন সে আর স্কুলে আসেনি।

স্থানীয় ইউপি সদস্য জাফর ইকবাল বাবু বলেন, সামাজিকভাবে এটা মিমাংসা করা হয়েছে। শালিসে অভিযুক্তকে জুতার মালা পড়িয়ে গ্রামে ঘুরানো হয়েছে। অভিযুক্ত আফসার আলীকে তাবলিগে পাঠানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে। আর শালিসি বৈঠক তিনি পরিচালনা করলেও গ্রাম প্রধানদের সমন্বয়ে গ্রাম প্রধান মতলেব আলী এ রায় প্রকাশ করেছেন।

এ বিষয়ে নাটোর জজকোর্টের অ্যাডভোকেট আমজাদ হোসেন বলেন, এ ধরনের ঘটনা গ্রাম্য শালিসে মিমাংসা করার সুযোগ নেই। যারা এ ধরনের অপরাধের বিচার শালিস করে তারাও অপরাধীর শামিল। তবে যারাই হোক না কেন, তাদের আইনের আওতায় এনে বিচার করা দরকার বলে মনে করি।

এ বিষয়ে সিংড়া থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুল ইসলাম জানান, বুধবার সকালে এ বিষয়ে থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে দ্রুত আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে।

রেজাউল করিম রেজা/এমএএস/এমএস